Journalists Attack Kolkata Protest: কলকাতার বিক্ষোভে সাংবাদিকদের হেনস্থা ও হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার নিন্দা করে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই বহুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেদিকেই নজর।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতায় শিক্ষা ব্যবস্থা, দুর্নীতি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম সংক্রান্ত আন্দোলনকে ঘিরে শুক্রবারের বিক্ষোভে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ধর্মতলার মিছিলকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউই ছাত্র নন এবং তাঁরা আন্দোলনরত পড়ুয়াদের অংশও নন বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, চিহ্নিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সদ্য পাস হওয়া গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হবে এবং এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মও মনে রাখবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও নিট পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে দিল্লিতে চলা আন্দোলনের আঁচ কলকাতাতেও পৌঁছেছে। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ধর্মতলায় বিক্ষোভের সময় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বিক্ষোভস্থলে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল ও জুতো ছোড়া হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাঁদের মধ্যে ছয়জন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার নিন্দা করার পাশাপাশি পুলিশকে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবারের ঘটনায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করার দাবি
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার ধর্মতলার মিছিল থেকে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই ব্যক্তিদের কেউই ছাত্র নন এবং তাঁরা নিজেদের কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবেও পরিচয় দেননি। একইসঙ্গে তাঁরা প্রকৃত আন্দোলনকারীদের অংশ নন বলেও দাবি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আন্দোলনের নামে যারা অশান্তি তৈরি করেছে এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এই ঘটনায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া গুন্ডাদমন আইন এই ঘটনায় প্রথমবার প্রয়োগ করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকার দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে অভিযুক্তরা সেই শাস্তির কথা দীর্ঘদিন মনে রাখে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের আইন কেন প্রয়োজন, শুক্রবারের ঘটনাই তার উদাহরণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে।
সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা, পুলিশের সংযমের প্রশংসা
সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় সরাসরি নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে শুক্রবারের পরিস্থিতিতে পুলিশ যে সংযম দেখিয়েছে, তারও প্রশংসা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পুলিশকে বারবার প্ররোচিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেই প্ররোচনায় পা দেয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কোনওভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি না করা, যাতে আরও বড় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, মিছিল যখন নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছয়, তখন সেখান থেকে জুতো ও জলের বোতল ছোড়া শুরু হয় এবং সাংবাদিকদেরও নিশানা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের পরিস্থিতি তৈরি করে ঘটনাকে আরও নাটকীয় করে তোলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেই সুযোগ দেয়নি এবং সংযত আচরণ করেছে।
শুক্রবারের ঘটনায় ছয়জন সাংবাদিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। এই ঘটনার পর সাংবাদিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পাঁচ অভিযুক্তের নাম প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর
শুক্রবারের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী পাঁচজন অভিযুক্তের নামও প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানবির ও নিজাম এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের ‘দুষ্কৃতী’ হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গুন্ডাদমন আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য বা তাঁদের আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া এই মুহূর্তে সামনে আসেনি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং পুলিশের হাতে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, গুন্ডাদমন আইনের উদ্দেশ্যই হল এমন অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।
সাংবাদিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারের ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের তরফে মোট পাঁচটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এর পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মামলাগুলিতে বেআইনি জমায়েত, হিংসাত্মক জমায়েত, অপরাধমূলক কাজ, সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং অশান্তিতে উসকানি দেওয়ার মতো ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন বলে খবর।
শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এবং এন্টালি এলাকায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের পক্ষ থেকে যে সংযম দেখানো হয়েছে, তা সকলেই দেখেছেন এবং সেই নির্দেশই আগে থেকে দেওয়া হয়েছিল।
‘সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জুতো বা বোতল ছোড়াও বাংলার সংস্কৃতি নয়’
সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কোনও ধরনের হিংসাত্মক আচরণই বাংলার সংস্কৃতি হতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তাহলে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এই রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে এনেছেন তিনি। রাজনৈতিক আন্দোলন বা বিক্ষোভের সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খবর সংগ্রহ করেন। তাঁদের উপর হামলার অভিযোগ উঠলে তা শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
এদিকে, সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময়ে বিজেপি বিধায়করা কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানাবেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও আরও বাড়তে পারে।
শিক্ষা সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কলকাতায় শুক্রবারের বিক্ষোভ এখন একাধিক প্রশ্নের মুখে। একদিকে রয়েছে পড়ুয়াদের দাবিদাওয়া ও আন্দোলনের অধিকার, অন্যদিকে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং তদন্তে আর কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
#kolkataprotest #journalistattack #journalistsafety #westbengalnews #studentprotest #kolkatanews #protestviolence
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

