BJP Tiranga Yatra Kolkata ঘিরে সোমবার উত্তপ্ত কলকাতার রাজপথ, শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্কে পৃথক মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জমায়েত। সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক পাল্টা কর্মসূচিতে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচলেও পড়ে প্রভাব।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার, ২৭ জুলাই কলকাতার রাজপথে একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে তৈরি হল ব্যাপক ভিড় ও উত্তেজনা। সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মিছিলের পাশাপাশি বামেদের সাম্প্রতিক কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকেও আয়োজিত হয়েছে জোড়া মিছিল। উত্তর কলকাতায় শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং দক্ষিণ কলকাতায় গোলপার্ক থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে এগিয়েছে বিজেপির মিছিল। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বহু কর্মী-সমর্থক রাস্তায় নামায় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, শিয়ালদহ চত্বরে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সংখ্যা নিয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও সক্রিয় থাকতে দেখা যায়।
সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে রাজপথে সাংবাদিকদের মিছিল
সোমবারের কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সাংবাদিকদের মিছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, হেনস্থা বা সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধার অভিযোগকে সামনে রেখে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার এবং সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই কর্মসূচি বলে জানা গিয়েছে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন বা সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। সেই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের এই মিছিলকে শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে নয়, সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতার দাবির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সোমবারের এই কর্মসূচির পর কলকাতার রাজনৈতিক পরিবেশ আরও সরগরম হয়ে ওঠে। একই দিনে একাধিক রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের চলাচল এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
বামেদের মিছিলের পাল্টা বিজেপির তিরঙ্গা যাত্রা
সোমবার বিজেপির পক্ষ থেকে আয়োজিত কর্মসূচিকে বামেদের আগের মিছিলের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক একটি বামপন্থী মিছিলকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে অশান্তির যে অভিযোগ উঠেছিল, তার প্রতিবাদেই এই তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজন।
উত্তর কলকাতায় বিজেপির কর্মসূচি শুরু হয় শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে। সেখান থেকে মিছিল এগিয়ে যাওয়ার কথা ধর্মতলার দিকে। কর্মসূচিতে বিজেপির দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হয়েছে বলে মিছিলের আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দলের কর্মী-সমর্থকেরা হাতে তিরঙ্গা নিয়ে এই মিছিলে অংশ নেন।
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে এনআরএস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত মিছিলের কারণে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাস্তায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত পরিবহণ কেন্দ্র শিয়ালদহে এমন বড় জমায়েতের কারণে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রভাব পড়ে।
শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা, কলকাতার রাজপথে বড় জমায়েত
উত্তর কলকাতার মিছিলটি শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার দিকে এগিয়ে যায়। মিছিলের সামনের সারিতে দলের নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেন বহু কর্মী-সমর্থক।
মিছিলের আকার বড় হওয়ায় শিয়ালদহ চত্বর কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় বলে ঘটনাস্থল থেকে দাবি করা হয়েছে। রাস্তার একাধিক অংশে মানুষের ভিড় জমে যাওয়ায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। মিছিলের পথ ধরে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কলকাতার ক্ষেত্রে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। এই রুটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে রাজনৈতিক মিছিলের কারণে যান চলাচলে প্রভাব পড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে অফিসযাত্রী, রোগীর পরিবার, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের উপরও। এদিনও মিছিলকে কেন্দ্র করে শহরের ব্যস্ত এলাকায় সেই প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
দক্ষিণ কলকাতাতেও বিজেপির পৃথক মিছিল
শুধু উত্তর কলকাতায় নয়, দক্ষিণ কলকাতাতেও বিজেপির পক্ষ থেকে পৃথক মিছিলের আয়োজন করা হয়। গোলপার্ক এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিও দলের রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়।
ফলে একই দিনে কলকাতার দুই প্রান্তে বিজেপির দুটি পৃথক মিছিলকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যায়। একদিকে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা, অন্যদিকে গোলপার্ক থেকে নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে মিছিল এগিয়ে যায়। দুটি কর্মসূচিকে ঘিরেই দলের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে একই দিনে একাধিক বড় মিছিল হলে তার প্রভাব শুধু রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যান চলাচল, জনজীবন এবং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরও তার প্রভাব পড়ে। তাই প্রশাসনের কাছে এই ধরনের কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে পাল্টা কর্মসূচির রাজনীতি
সোমবারের ঘটনাপ্রবাহ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—কলকাতার রাজনীতিতে পাল্টা কর্মসূচির প্রবণতা আরও জোরালো হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দলের মিছিলের পর তার জবাব দিতে অন্য দলও রাস্তায় নামছে। এর ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচি একে অপরের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হচ্ছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই মিছিলকে জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, দেশের স্বার্থ ও জাতীয়তাবাদী অবস্থানকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচি। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই ধরনের পাল্টা কর্মসূচিকে রাজনৈতিক মেরুকরণের অংশ হিসেবে দেখছে।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বড় মিছিলের কারণে যাতে অ্যাম্বুল্যান্স, জরুরি পরিষেবা বা সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর দেওয়াই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কলকাতার রাজপথে একই দিনে একাধিক মিছিল, নজরে নিরাপত্তা ও জনজীবন
সাংবাদিকদের প্রতিবাদ মিছিল, বামেদের কর্মসূচি এবং তার পাল্টা বিজেপির জোড়া মিছিল—সব মিলিয়ে সোমবার কলকাতার রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত উত্তর কলকাতার মিছিল এবং গোলপার্ক থেকে দক্ষিণ কলকাতার পৃথক কর্মসূচি শহরের দুই প্রান্তেই রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়।
মিছিলকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েতের দাবি সামনে এলেও এই মুহূর্তে সরকারি ভাবে সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট ছিল, কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্যের প্রকাশ যেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শহরের স্বাভাবিক জনজীবনকে বিপর্যস্ত না করে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার রাজপথে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচি চলতে থাকায় আগামী দিনেও প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্বশীল আচরণ—দুই দিকেই নজর থাকবে।
#BJPTirangaYatra #Kolkata #BJP #TirangaYatra #KolkataPolitics #WestBengalPolitics #PoliticalRally #BengalPolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

