Ayushman Week: আয়ুষ্মান সপ্তাহে রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে গেল মানুষের আরও কাছে। রক্তদান থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্য থেকে প্রবীণ পরিচর্যা—এক সপ্তাহের এই কর্মসূচিতে কী কী পরিষেবা পেলেন সাধারণ মানুষ এবং কত মানুষ সরাসরি উপকৃত হলেন, জেনে নিন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শহর থেকে গ্রাম, হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্যশিবির—এক সপ্তাহ ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই রাজ্যজুড়ে পালিত হল আয়ুষ্মান সপ্তাহ। ৮ থেকে ১৪ অগস্ট পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে রক্তদান, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রবীণদের পরিচর্যা, যক্ষ্মা পরীক্ষা থেকে শুরু করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা—একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ সরাসরি পরিষেবা পেয়েছেন।
এই কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল যুব সমাজের অংশগ্রহণ। রক্তদান শিবির থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নজর কেড়েছে। কোথাও গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কোথাও প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার যক্ষ্মামুক্তির লক্ষ্যে পরীক্ষার পাশাপাশি পুষ্টির দায়িত্ব নেওয়ার মতো উদ্যোগও সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহের এই কর্মসূচি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার বার্তা দিয়েছে।
রক্তদান থেকে শুরু, প্রথম দিনেই বড় সাড়া
৮ অগস্ট আয়ুষ্মান সপ্তাহের সূচনায় রাজ্যজুড়ে আয়োজিত হয় রক্তদান শিবির। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৯১টি শিবিরে ১০ হাজার ৭১৮ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষ করে যুব সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
রক্তের প্রয়োজন কখনও আগে থেকে জানিয়ে আসে না। দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা বিভিন্ন গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। সেই কারণে একটি রক্তদান শিবিরের গুরুত্ব শুধুমাত্র সংগৃহীত রক্তের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। একজনের দান করা রক্ত একাধিক মানুষের জীবন রক্ষায় কাজে লাগতে পারে।
আয়ুষ্মান সপ্তাহের প্রথম দিনের এই কর্মসূচিতে যুব সমাজের অংশগ্রহণ তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ সংযোগ তৈরির পাশাপাশি এই ধরনের উদ্যোগ নাগরিক দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
স্বাস্থ্যশিবিরে মানুষের ভিড়, চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছল আরও কাছে
৯ এবং ১১ অগস্ট আয়োজিত হয় আয়ুষ্মান আরোগ্য শিবির। দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুই দিনে ৪ হাজার ৩৭৯টি স্বাস্থ্যশিবিরে ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬৭ জন মানুষ পরিষেবা গ্রহণ করেছেন।
এই ধরনের শিবিরের মূল গুরুত্ব হল, সাধারণ মানুষকে প্রতিটি ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য বড় হাসপাতালে ছুটতে না হয়ে কাছাকাছি এলাকাতেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরামর্শ ও পরীক্ষা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ স্বাস্থ্য পরিষেবার নাগাল বাড়াতে পারে।
শিবিরে অংশ নেওয়া মানুষের কথাতেও উঠে এসেছে স্বাস্থ্য কার্ডের সুবিধার প্রসঙ্গ। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্ড থাকলে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা তৈরি করাও এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
মাতৃস্বাস্থ্য থেকে প্রবীণদের পরিচর্যা, বিশেষ নজরে দুই প্রজন্ম
১০ অগস্ট পালিত হয় মাতৃবন্দনা দিবস। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দিনে ৮০০টি শিবিরে ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন গর্ভবতী মহিলা পরিষেবা পেয়েছেন।
মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রসবের সময় চিকিৎসা নয়, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি, সতর্কতা এবং প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিষয়গুলিই এই কর্মসূচিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিপদের সময় কোথায় এবং কীভাবে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে হবে, সেই বিষয়েও সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রবীণদের জন্যও বিশেষ স্বাস্থ্যশিবিরের আয়োজন করা হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবীণদের জন্য আয়োজিত শিবিরে ৫৬ হাজার ১৬০ জন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চোখের পরিচর্যা, ফিজিওথেরাপি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রবীণদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যা অনেক সময় ধীরে ধীরে তৈরি হয়। ফলে নিয়মিত পরীক্ষা ও সময়মতো পরামর্শ তাঁদের সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই কর্মসূচিতে সেই দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে।
যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরীক্ষা, পুষ্টির দায়িত্বেও এগিয়ে এলেন ছাত্র
১৩ অগস্ট পালিত হয় নিক্ষয় পোষণ দিবস। যক্ষ্মামুক্তির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ১ লক্ষ ১ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮২ হাজার ৭১২ জনের যক্ষ্মা পরীক্ষা করা হয়েছে।
যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু রোগ শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর পুষ্টির দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় সামনে এসেছে এক অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিক্ষয় মিত্র হিসেবে এগিয়ে এসে এক স্কুলের ছাত্র যক্ষ্মা রোগীদের পুষ্টির দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
একজন ছাত্রের এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ কোনও রোগীর পাশে দাঁড়ানো শুধুমাত্র চিকিৎসার বিষয় নয়; তাঁর মানসিক ও সামাজিক সমর্থন এবং পুষ্টির বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যেও বিশেষ নজর, গুরুত্ব পেল টিকাকরণ
১৪ অগস্ট ছিল যুব ও শিশু স্বাস্থ্য দিবস। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৪৭২টি শিবিরে ১ লক্ষ ৫১৬ জন অংশ নিয়েছেন।
শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং টিকাকরণকে এই দিনের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এইচপিভি টিকাকরণ নিয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শৈশব ও কৈশোর এমন একটি সময়, যখন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি হলে তার প্রভাব ভবিষ্যৎ জীবনেও পড়ে। তাই এই বয়স থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, টিকাকরণ এবং রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ।
এক সপ্তাহের কর্মসূচির শেষ দিনে শিশুদের টিকাকরণ শিবির সফলভাবে পরিচালিত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে আয়ুষ্মান সপ্তাহের শেষ পর্বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যকে সামনে রেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও বিস্তৃত ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে একাধিক নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হল। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা, চোখের চিকিৎসার জন্য সুদৃষ্টি প্রকল্প এবং কম দামে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার জন্য অমৃত ফার্মেসি চালুর ঘোষণা সামনে এসেছে।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্বাস্থ্যসুরক্ষা, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের চিকিৎসার সুযোগ, শিশুদের চোখের পরিচর্যা এবং ওষুধের দাম কমানোর মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি একাধিক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
আয়ুষ্মান ভারতে না থাকলেও স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় না থাকা অথচ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা চালু করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নগদহীন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রায় ৮০ লক্ষ পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে বলেও অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়।
আরও জানানো হয়েছে, আগে থেকে থাকা রোগের ক্ষেত্রেও প্রথম দিন থেকেই এই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সমস্যাকে যাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্পকে সামনে রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এই বার্তাই তুলে ধরা হয় যে, আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় না থাকা পরিবারগুলিকেও রাজ্য সরকারের নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
“যারা আয়ুষ্মান ভারতে আসছেন না, তাদের জন্য রাজ্য সরকার নিজস্ব স্কিমটি ক্লিয়ার করেছে।”
স্বাস্থ্য সুরক্ষার এই ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়—
“এখন আর চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না অর্থ, কারণ সঙ্গে আছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভরসা।”
সুদৃষ্টি প্রকল্পে শিশুদের চশমা থেকে গ্রামে গ্রামে চোখের শিবির
স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি চোখের চিকিৎসাকেও নতুন উদ্যোগের আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। সুদৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম থেকে শহর, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা, ছানি অস্ত্রোপচার, চশমা বিতরণ এবং অন্যান্য চোখের সমস্যার চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি অনুমোদিত বেসরকারি চোখের হাসপাতাল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমেও এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিশেষভাবে শিশুদের চোখের পরিচর্যার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট বয়সের নিচে থাকা শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতে বছরে দু’বার চোখের শিবির আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।
এর ফলে চোখের সমস্যা নিয়ে শহরমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিশু, প্রবীণ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সুদৃষ্টি প্রকল্পের ভাবনাকে সামনে রেখে বলা হয়—
“সবার চোখে স্বচ্ছ দৃষ্টি, সবার জন্য সুদৃষ্টি।”
স্বাস্থ্য পরিষেবার এই অংশে শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, প্রাথমিকভাবে চোখের সমস্যা শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা দেওয়া এবং ছানি অস্ত্রোপচারের মতো পরিষেবাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অমৃত ফার্মেসিতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামে ছাড়
স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ কমানোর লক্ষ্যে আর একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে অমৃত ফার্মেসি পরিষেবা চালুর কথা জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার এই পরিষেবা চালু করা হচ্ছে।
অমৃত শব্দটির ইংরেজি পূর্ণরূপের ব্যাখ্যা অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা-সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরা হয়।
এই ফার্মেসিগুলিতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধের পাশাপাশি সাধারণ ওষুধ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং বিভিন্ন চিকিৎসা-প্রতিস্থাপন সামগ্রী পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। হৃদযন্ত্রের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র, রক্তনালির জালিকা, চোখের কৃত্রিম লেন্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামেও উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বাজারদরের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে।
এছাড়া হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেডের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজ এবং জেলা হাসপাতাল-সহ মোট ১০০টি আউটলেটে অমৃত ফার্মেসি পরিষেবা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলা হয়—
“ওষুধের দাম যেন চিকিৎসার পথে বাধা না হয়।”
অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, বিশেষ করে হৃদরোগ, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো ক্ষেত্রে ওষুধের খরচ যাতে পরিবারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি না করে, সেই বিষয়টিকে সামনে রাখা হয়েছে।
দুটি মৌ, স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও বিস্তারের পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত দুটি মৌ স্বাক্ষরের কথাও জানানো হয়। প্রথমটি অমৃত ফার্মেসি পরিষেবা নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেডের প্রযুক্তিগত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বেনি জোসেফের মধ্যে এই সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের কথা জানানো হয়।
এর পর দ্বিতীয় উদ্যোগ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্পের অধীনে জন ঔষধি কেন্দ্র নিয়ে সমঝোতার কথা সামনে আসে।
এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে অপেক্ষাকৃত কম দামে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সাশ্রয়ী ওষুধের পরিষেবাকে যুক্ত করার মাধ্যমে চিকিৎসার মোট খরচ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই অনুষ্ঠানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।
অমৃত ফার্মেসি এবং জন ঔষধি কেন্দ্র—দুই ব্যবস্থাকেই স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যয় কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসুরক্ষার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাতেও জোর
অনুষ্ঠানের ঘোষণাগুলির মধ্যে একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—শুধু অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, আগেভাগে রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবার গুরুত্ব।
সুদৃষ্টি প্রকল্পে নিয়মিত চোখের শিবির, শিশুদের বিনামূল্যে চশমা, ছানি অস্ত্রোপচার এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসার উদ্যোগ সেই দিকটিরই অংশ। একইভাবে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনার মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে চিকিৎসার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অমৃত ফার্মেসির মাধ্যমে চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ে ওষুধের খরচ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য পরিষেবার পুরো ব্যবস্থাকে তিনটি স্তরে দেখানো হয়েছে—চিকিৎসার সুযোগ, চিকিৎসার খরচ এবং রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ।
অনুষ্ঠানে সেই সামগ্রিক ভাবনাকেই সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও জনমুখী করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঘোষিত উদ্যোগগুলির মধ্যে স্বাস্থ্যবিমা, চোখের চিকিৎসা এবং সাশ্রয়ী ওষুধ—তিনটি ক্ষেত্রই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য-চাহিদার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা, সুদৃষ্টি প্রকল্প এবং অমৃত ফার্মেসি—এই উদ্যোগগুলি বাস্তবে কতটা দ্রুত এবং কতটা বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছয়, এখন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
#AyushmanWeek #AyushmanWeek2026 #WestBengalHealth #HealthCamp #HealthServices #BloodDonation #FreeHealthCheckup #MaternalHealth #SeniorCitizenHealth #TBScreening #ChildHealth #AyushmanBharat
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?

