Flydubai Flight FZ1073এ সহ-পাইলটের হামলার পর কীভাবে আহত পাইলট ও যাত্রীরা পরিস্থিতি সামাল দিলেন, জানুন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভের পথে থাকা একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে আচমকাই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, বিমানের সহ-পাইলট ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং এরপর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নেমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই আহত পাইলট ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট পরে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। বিমানে ১৭৪ জন ছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
দুবাই থেকে তেল আভিভের পথে শুরু হয় সংঘর্ষ
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী উড়ানে। উড়ানটি চলাকালীন দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সময় সহ-পাইলট ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর বিমানটি আচমকা দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। বিমানের ভিতরে তখন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যাত্রী এবং বিমানকর্মীরা ককপিটের দিকে এগিয়ে যান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত অবস্থায় স্মিত মচ্ছর ককপিটের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। সেই অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হন। দরজা খোলার পর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ভিতরে প্রবেশ করেন এবং সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ককপিটের দরজা খুলতেই বদলে যায় পরিস্থিতি
ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল ককপিটের দরজা খোলা। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত মচ্ছর দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ককপিটে প্রবেশ করতে পারেন। তাঁরা সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ককপিটে ঢোকার পর যাত্রীরা সহ-পাইলটকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের কাছে দেখতে পান। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা তাঁকে ধরে ফেলেন। এই সময় বিমানে থাকা আরও দুই পাইলটও ককপিটে পৌঁছন।
এরপর বিমানের নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাতে আসে এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। ফলে মাঝ আকাশে তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতির পর বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে মাটিতে নামে।
তাবুকে নিরাপদে নামে বিমান
রয়টার্স জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানকর্মীরা সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নামে। পরে যাত্রীরা অন্য বিমানে করে ইজরায়েলে পৌঁছন।
ঘটনার পর স্মিত মচ্ছরকে তাবুকের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর চিকিৎসা করা হয়েছে এবং অস্ত্রোপচারও হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই পাইলটকেই আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে বলে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন।
ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়
বিমানটির মধ্যে দুই পাইলটের মধ্যে কেন এই সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, সেই কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটির অন্তর্নিহিত কারণ তদন্তাধীন। ইজরায়েলের এক আধিকারিক সহ-পাইলটকে ওমানের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিমান সংস্থার তরফেও জানানো হয়েছে, ঘটনার আসল কারণ এখনও জানা যায়নি। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও ধরনের অনুমান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ফলে বিমানের ভিতরে ঠিক কী কারণে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও তদন্তের মধ্যেই রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিমানের যাত্রী ও বিমানকর্মীরা শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আহত অবস্থায় স্মিত মচ্ছরের ককপিটের দরজা খোলার ঘটনাটিও পুরো পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
১৭৪ জনকে নিয়ে ভয়াবহ মুহূর্তের অবসান
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিমানে ১৭৪ জন ছিলেন। সহ-পাইলটের হামলার পর বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আহত পাইলট ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করার পর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেন। এরপর সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট বিমানটি নিরাপদে নামাতে সক্ষম হন।
ঘটনার পরে যাত্রীরা নিরাপদে ইজরায়েলে পৌঁছন। অন্যদিকে, আহত স্মিত মচ্ছরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে।
এই পুরো ঘটনায় কীভাবে মাঝ আকাশে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কীভাবে বিমান দ্রুত নিচে নেমে গিয়েছিল এবং কীভাবে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন—রয়টার্সের প্রতিবেদনে তারই বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। ঘটনাটির কারণ এবং উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।
স্মিত মচ্ছরকে নিয়ে নরেন্দ্র মোদী, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা পেয়েছে। বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষের পরেও তিনি দরজা খোলার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে তিন রাষ্ট্রনেতার বক্তব্যে মূলত স্মিত মচ্ছরের সাহস এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য তাঁর ভূমিকার কথাই উঠে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সাহসী বলে প্রশংসা করেছেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টও তাঁর সাহসের কথা বলেছেন।
সূত্র: রয়টার্স।
#flydubaiflightfz1073 #flydubai #smitmachchhar #dubaitelavivflight #cockpitincident #indianpilot #saudiarabia
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

