নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আবহ তৈরি হওয়ার আগেই রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা হতে পারে। শিল্পে বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যেই নতুন এই শিল্পনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে শিল্প দপ্তর সূত্রে খবর। বিশেষ করে জমি, বিদ্যুৎ এবং রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। শিল্প করতে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ ইনসেনটিভের ব্যবস্থাও থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ, নতুন শিল্পনীতি শুধু একটি নীতিগত ঘোষণা নয়, বরং রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও সহজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই সামনে আসতে চলেছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পুজোর আগেই রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি আসতে চলেছে। সেই ঘোষণার পর থেকেই শিল্প দপ্তরের মধ্যে নীতিটি চূড়ান্ত করার তৎপরতা বেড়েছে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই এই নীতি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে জেনারেল বডি মিটিং এবং পরবর্তী পর্যায়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের মাধ্যমে নীতিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক এবং রাজ্যে পাঁচটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা সামনে আসায় শিল্পমহলে নতুন শিল্পনীতিকে ঘিরে আগ্রহ আরও বাড়ছে।
পুজোর আগেই ঘোষণার প্রস্তুতি
রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২৩ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, দুর্গাপুজোর আগেই নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হবে। সেই ঘোষণার পর শিল্প দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, নীতিটি ঘোষণার আগে প্রয়োজনীয় বৈঠক এবং অনুমোদনের ধাপগুলি সম্পন্ন করা হবে।
সূত্রের খবর, প্রথমে জেনারেল বডি মিটিং হবে। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে এবং সেখানে অনুমোদনের পর রাজ্যের শিল্পনীতি চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে। ফলে নীতিটি কবে প্রকাশ্যে আসবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দিকেই। চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা হতে পারে বলে যে সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে, তা বাস্তবায়িত হলে পুজোর আগেই রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে নতুন নীতিগত কাঠামো কার্যকর করার পথে এগোনো সম্ভব হবে।
নতুন শিল্পনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও অনুকূল করার বিষয়টি সামনে আসছে। শিল্প করতে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে যাতে জমি, বিদ্যুৎ কিংবা অন্যান্য পরিকাঠামোগত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া যায়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়াগুলি সহজ করার বিষয়টি এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে।
শিল্পনীতির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানা যাচ্ছে। কারণ শিল্পের জন্য শুধু জমি থাকলেই হয় না, সেই জমির সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত সুবিধাও থাকা জরুরি। সেই কারণেই নতুন নীতিতে পরিকাঠামোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
Investment-এর জন্য বিশেষ Incentive
নতুন শিল্পনীতিতে জমি এবং বিদ্যুৎ—এই দুই ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। শিল্প সংস্থাগুলির জন্য জমি পাওয়া এবং প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া অনেক সময় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই নতুন নীতিতে এই দুটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে বিশেষ সুবিধা বা ইনসেনটিভের ব্যবস্থা থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর।
জমির ক্ষেত্রে শিল্প করতে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পের উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। শিল্প দপ্তর সূত্রে যে বিষয়গুলি সামনে আসছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে নতুন নীতিতে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনের বিষয়টিকে সামনে রেখে জমি এবং পরিকাঠামোর মধ্যে সমন্বয় তৈরির চেষ্টা থাকবে।
বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ একটি মৌলিক প্রয়োজন হওয়ায় এই ক্ষেত্রে সুবিধা থাকলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে কোন ক্ষেত্রে কতটা ইনসেনটিভ দেওয়া হবে বা কী ধরনের সুবিধা থাকবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত নীতি ঘোষণার আগে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর পাশাপাশি রাজ্যে যারা নতুন শিল্প করতে আগ্রহী, তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও সূত্রের খবর। অর্থাৎ শুধু শিল্পনীতি ঘোষণা করাই নয়, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাঁদের প্রয়োজনের বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখার একটি কাঠামো তৈরির দিকেও নজর রয়েছে। শিল্পনীতির চূড়ান্ত ঘোষণার পর এই বিষয়গুলি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
একাধিক ক্ষেত্রে বিশেষ জোর
নতুন শিল্পনীতিতে গোটা রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। শিল্পের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে গেলে শুধু একটি নির্দিষ্ট শিল্পাঞ্চল নয়, বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা জরুরি। সেই জায়গা থেকেই রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি নতুন শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
বিশেষ করে শিল্প প্রকল্পের সঙ্গে জমি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টি যুক্ত। শিল্প সংস্থাগুলি যাতে নিজেদের প্রকল্পের কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় সুবিধা পায়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে জমি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সুবিধা এবং ইনসেনটিভের বিষয়গুলিকেও শিল্পনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে।
রাজ্যে শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে এমন একাধিক ক্ষেত্রকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা সামনে এসেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, জেমস-জুয়েলারি হাব এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের মতো বিষয়গুলিতে বিশেষ জোর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। ফলে নতুন শিল্পনীতি শুধু প্রচলিত শিল্পক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে নয়, একাধিক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে সামনে রেখেও তৈরি হতে পারে।
এই ক্ষেত্রগুলিতে কীভাবে বিনিয়োগ আসবে এবং কী ধরনের নীতিগত সুবিধা দেওয়া হবে, তা অবশ্য চূড়ান্ত ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে। এখন পর্যন্ত শিল্প দপ্তর সূত্রে যে বার্তা মিলছে, তাতে রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ক্ষেত্রভিত্তিক গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাঁচটি সেক্টরে বিনিয়োগের ইঙ্গিত
নতুন শিল্পনীতির প্রস্তুতির মধ্যেই রিলায়েন্স গ্রুপকে ঘিরে রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। বুধবার রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক হয়। একইসঙ্গে রিলায়েন্সের একটি বড় টিম কলকাতায় এসেছিল বলে জানা যাচ্ছে।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রিলায়েন্স গ্রুপ রাজ্যে পাঁচটি সেক্টরে বিনিয়োগ করবে। তবে সেই পাঁচটি সেক্টর ঠিক কী কী, তা পরে জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। ফলে রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলি এখনই প্রকাশ্যে না এলেও, রাজ্যে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনার পরিসর তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি আম্বানি পরিবারের আমন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রী মুম্বইয়ে গিয়েছিলেন। তার পরেই রিলায়েন্স প্রতিনিধিদের কলকাতা সফর এবং বৈঠকের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়টি একই সময়ে আলোচনায় এসেছে।
তবে রিলায়েন্সের পাঁচটি সেক্টর সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য এখনও জানানো হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হল রাজ্যে একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সেই আলোচনার অংশ হিসেবেই রিলায়েন্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রকল্প আসতে পারে, তা পরবর্তী ঘোষণার পরেই জানা যাবে।
শিল্প বিনিয়োগে নতুন নীতি
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার এবং রাজ্য বিজেপির শীর্ষ স্তর থেকে বারবার শিল্প ও বিনিয়োগ আনার বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন শিল্পনীতি ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে নীতিটির চূড়ান্ত রূপ সামনে আসেনি। জমি, বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো এবং ইনসেনটিভের মতো বিষয়গুলি নিয়ে যে পরিকল্পনার কথা সূত্রের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, সেগুলির চূড়ান্ত কাঠামো নীতি ঘোষণার পরেই পরিষ্কার হবে।
চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হলে পুজোর আগেই রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি সামনে চলে আসবে। তার আগে জেনারেল বডি মিটিং এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে এখন শিল্প দপ্তর থেকে শুরু করে বিনিয়োগের দিকে নজর রাখা শিল্পমহল—সবার নজর চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।
একদিকে নতুন শিল্পনীতিতে জমি, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে শিল্প করতে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য বিশেষ ইনসেনটিভের ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে আগামী দিনে রাজ্যের শিল্প বিনিয়োগের কাঠামো কোন পথে এগোয়, তা নির্ভর করবে ঘোষিত নীতির বিস্তারিত শর্তের ওপর। রিলায়েন্সের পাঁচটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ ক্ষেত্র নিয়েও পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষা থাকবে।
#westbengalindustrialpolicy #industrialpolicy #westbengalindustry #bengalinvestment #industrialinvestment #relianceinvestment #landpolicy #infrastructure
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

