Annapurna Bhandar: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে বড় দাবি, যাদবপুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শনিবার ভবানীপুরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন মহিলাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিক্ষোভের খবর সামনে আসছে, তখন সেই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকল্পের সুবিধা, অগ্রাধিকার এবং আবেদনকারীদের অপেক্ষা করার বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রসঙ্গ টেনে আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে—কারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে অগ্রাধিকার পাবেন, অতীতে কারা বঞ্চিত হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদের কীভাবে সুবিধার আওতায় আনা হবে। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখনও খুব বেশি সময় পার হয়নি। ফলে বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই করে যোগ্যদের তালিকা তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে কারা পাবেন অগ্রাধিকার?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা আগের সরকারের আমলে বিজেপি করার কারণে বঞ্চিত হয়েছেন এবং যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তাঁর কথায়, “যারা ভারতীয় জনতা পার্টি করার জন্য বিগত সরকারের আমলে বঞ্চিত হয়েছেন, এই সরকার তাদেরকে অগ্রাধিকার দেবে।”
এই বক্তব্যকে ঘিরেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদের তালিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেসব মহিলার দাবি, তাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এখনও টাকা পাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক যাচাইয়ের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের আওতায় প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করার বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তুলনা
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে পাঁচশো টাকা দিতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই পাঁচশো টাকা বেড়ে এক হাজার টাকা হয় এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে তা বেড়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময় বেছে বেছে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের এবং ২০১৯ সালে যেখানে বিজেপি জিতেছিল, সেইসব এলাকার বহু মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সেই বঞ্চনার বিষয়টি নতুন সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। তিনি বলেন, যারা আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা সরকার বিবেচনা করছে।
তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারকে আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তুলনায় আলাদা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘মাত্র ১০৬ দিনের সরকার, সময় দিতে হবে’
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং ক্ষোভের প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখনও মাত্র ১০৬ দিন হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র যাচাই করে প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তির কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষ বিজেপি সরকারকে শুধু ভাতার জন্য ক্ষমতায় আনেননি। বাংলার সর্বস্তরের উন্নয়নের প্রত্যাশা থেকেই মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আশা, ভরসা, স্বপ্ন নিয়ে বিজেপি সরকারকে এনেছিলেন আপনারা। শুধু ভাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরের ব্যাপক উন্নতির জন্য এনেছিলেন।”
তাঁর দাবি, নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যারা বিজেপির রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধী, তারা বিভিন্নভাবে সামাজিক মাধ্যমে ভুল প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
‘বঞ্চিতদের কথা সরকার দেখবে’—মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলির একটি ছিল অতীতে বঞ্চিত মহিলাদের প্রসঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বিজেপির কর্মী-সমর্থক হওয়ার কারণে যাঁরা আগের সরকারের সময় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের বিষয়টি নতুন সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
তিনি বলেন, “যারা ভারতীয় জনতা পার্টি করার জন্য বিগত সরকারের আমলে বঞ্চিত হয়েছেন, এই সরকার তাদেরকে অগ্রাধিকার দেবে।”
এর পাশাপাশি তিনি আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। ফলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি এবং অতীতের বঞ্চনার বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে কোন নির্দিষ্ট নথি বা কোন নির্দিষ্ট প্রশাসনিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই অগ্রাধিকার কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে বিস্তারিত বিধি তুলে ধরা হয়নি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে আক্রমণ
ভবানীপুরের অনুষ্ঠানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলার সর্বনাশ করেছে।
শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি টাটার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্য থেকে টাটাকে চলে যেতে হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন তিনি।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়েও এই রাজনৈতিক আক্রমণ সামনে আসায় ভবানীপুরের অনুষ্ঠানটি কার্যত রাজনৈতিক বক্তব্যের মঞ্চেও পরিণত হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল বিজেপি সরকারের কাজের ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি আগের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা।
‘কুড়ি-পঞ্চাশ জনকে দাঁড় করিয়ে বললেই মাথা নত করব না’
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে যে বিক্ষোভ চলছে, তা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যে ছিল কড়া রাজনৈতিক বার্তা।
তিনি বলেন, “ওই কুড়িজন, কুড়িজন বা পঞ্চাশ জনকে জড়ো করে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে লেকচার দিলে শুভেন্দু অধিকারী মাথা নত করার লোক নয়।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে আন্দোলন বা প্রতিবাদের চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। বরং তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিকভাবে যোগ্যদের চিহ্নিত করে তাঁদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
অন্যদিকে, টাকা না পাওয়া মহিলাদের অভিযোগও যে একেবারে উপেক্ষা করা হচ্ছে না, তাঁর বক্তব্যে তারও ইঙ্গিত রয়েছে। কারণ তিনি বারবার যোগ্য এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।
ভবানীপুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় আসেনি। নতুন সরকারকে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। আবেদন যাচাই, যোগ্যদের চিহ্নিতকরণ এবং বঞ্চিতদের তালিকা তৈরির পর প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
AnnapurnaBhandar #AnnapurnaYojana #ShubhenduAdhikari #WestBengal #WestBengalGovernment #WomenWelfare #LakshmirBhandar #GovernmentScheme #BengalPolitics #WomenEmpowerment
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

