নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পয়লা অক্টোবর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মে পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে ভর্তুকিযুক্ত বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী, গ্যাসের পুনরায় ভরার বুকিং এবং সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন কিছু নিয়ম কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। ফলে গ্যাস গ্রাহকদের জন্য বিষয়গুলি আগে থেকেই জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন ব্যবস্থায় শুধু গ্যাস বুকিং করলেই হবে না, কোথাও পরিচয় যাচাই, কোথাও মুঠোফোনে পাঠানো গোপন সংকেত (OTP), আবার কোথাও পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ না নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা এখনও আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করেননি, তাঁদের জন্য নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পয়লা অক্টোবর থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে চারটি নির্দিষ্ট নিয়মের পরিবর্তনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, পাশাপাশি মাসের শুরুতে গ্যাসের দামের পরিবর্তন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এক নজরে জেনে নিন কী কী বদল আসছে।
১. ভর্তুকিযুক্ত গ্যাসের জন্য বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক
পয়লা অক্টোবর থেকে ভর্তুকিযুক্ত বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার পেতে গ্রাহকদের আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যাঁরা এখনও এই পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেননি, তাঁদের গ্যাসের পুনরায় ভরার বুকিং করার আগে গ্রাহক যাচাই সম্পন্ন করে নিতে হবে।
এই পরিচয় যাচাই করার জন্য গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহের সময় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার কার্যালয়ে গিয়েও এই কাজ করা যাবে। অনলাইনের মাধ্যমেও পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে যাঁদের ইতিমধ্যেই আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে এই প্রক্রিয়া করার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, কোনও গ্রাহক যদি বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই করতে না চান অথবা কোনও কারণে তা করতে না পারেন, তাহলে গ্যাস সংস্থার নির্ধারিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও ভর্তুকি পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, সিলিন্ডার কিনতে হলে বাজারের মূল্যে দাম দিতে হবে।
২. গ্যাসের দাম মাসের শুরুতে পরিবর্তিত হতে পারে
গ্যাস সিলিন্ডারের দামের ক্ষেত্রেও প্রতি মাসের শুরুতে পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। তেল সংস্থাগুলি প্রতি মাসে গ্যাসের দামের হিসাব পর্যালোচনা করে এবং সেই অনুযায়ী দাম পরিবর্তন করে।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দিল্লিতে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২,৭৪৭ টাকা এবং গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা। তবে পয়লা অক্টোবর থেকে ঠিক কত টাকা দাম হবে, সেই নির্দিষ্ট তথ্য এখানে দেওয়া হয়নি। তাই নতুন দামের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ না করে মাসের শুরুতে দামের পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
অর্থাৎ, গ্যাস গ্রাহকদের জন্য পয়লা অক্টোবরের সঙ্গে যুক্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—মাসের শুরুতে গ্যাসের দামের নতুন হিসাব সামনে আসতে পারে। তবে নতুন দাম কত হবে, তা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
৩. পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ না নিলে বন্ধ হতে পারে গ্যাস সরবরাহ
যাঁদের বাড়ি বা আবাসন সমিতিতে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবিধা রয়েছে, তাঁদের জন্যও পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনও গ্রাহক এখনও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন এবং সংযোগ নেওয়ার জন্য নোটিশ পাওয়ার পর ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ না নেন, তাহলে তাঁর গ্যাস সিলিন্ডারের পুনরায় ভরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।
অর্থাৎ, যেসব বাড়ি বা আবাসন সমিতিতে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবিধা রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই সংযোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নোটিশ পাওয়ার পর ৯০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেলে পুরনো ব্যবস্থায় গ্যাস সিলিন্ডার পুনরায় ভরার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
তাই এই ধরনের সংযোগ রয়েছে এমন গ্রাহকদের নিজেদের ক্ষেত্রে কোনও নোটিশ এসেছে কি না এবং নোটিশে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. গ্যাস সিলিন্ডার নিতে মুঠোফোনে পাঠানো গোপন সংকেত জানাতে হবে
গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতদিন গ্যাস বুকিংয়ের রসিদ দেখালেই সিলিন্ডার নেওয়া সম্ভব হত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় শুধু বুকিংয়ের রসিদ দেখানো যথেষ্ট হবে না।
গ্যাস বুক করার পর গ্রাহকের নথিভুক্ত মুঠোফোন নম্বরে একটি গোপন সংকেত (OTP) পাঠানো হবে। গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী ব্যক্তি যখন সিলিন্ডার দিতে আসবেন, তখন গ্রাহককে সেই গোপন সংকেত তাঁকে জানাতে হবে। এরপরই সিলিন্ডার সরবরাহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হিসেবে দেওয়া তথ্যে ভুয়ো বুকিং এবং অনিবন্ধিত সিলিন্ডার সরবরাহের মতো অনিয়ম বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, গ্রাহকের বুকিং এবং সিলিন্ডার সরবরাহের মধ্যে আরও একটি যাচাই ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে।
ফলে গ্যাস বুক করার পর মুঠোফোনে পাঠানো গোপন সংকেতটি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সিলিন্ডার সরবরাহের সময় সেই সংকেত প্রয়োজন হতে পারে।
পয়লা অক্টোবরের আগে কোন বিষয়গুলি মনে রাখবেন?
পয়লা অক্টোবর থেকে গ্যাস সংক্রান্ত নতুন ব্যবস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পরিচয় যাচাই, ভর্তুকি, পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ এবং সিলিন্ডার সরবরাহের সময় মুঠোফোনভিত্তিক যাচাই।
যাঁদের আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই এখনও হয়নি, তাঁদের পুনরায় ভরার বুকিংয়ের আগে সেটি সম্পূর্ণ করতে হবে। যাঁদের ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে কিছু করার প্রয়োজন নেই। আর যাঁরা যাচাই করতে পারবেন না বা করতে চাইবেন না, তাঁরা গ্যাস সিলিন্ডার পেলেও ভর্তুকি থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বাজারমূল্যে সিলিন্ডার কিনতে হবে।
অন্যদিকে, বাড়ি বা আবাসন সমিতিতে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবিধা থাকলে এবং নোটিশ পাওয়ার পর ৯০ দিনেও সংযোগ না নিলে গ্যাস সিলিন্ডারের পুনরায় ভরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
আর গ্যাস সরবরাহের সময় শুধু বুকিংয়ের রসিদ দেখালেই হবে না।ফোনে পাঠানো গোপন সংকেতও (OTP) জানাতে হবে।
পয়লা অক্টোবর থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে গ্রাহক যাচাই, ভর্তুকি, পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ এবং সিলিন্ডার সরবরাহ—এই চারটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট পরিবর্তনের কথা দেওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে।
#LPGGasCylinderRules #LPGCylinderRules #GasCylinderBooking #LPGSubsidy #LPGBiometricAuthentication #GasCylinderDelivery #LPGOTPVerification #PNGConnection
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

