নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর আহতদের চিকিৎসা এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের একাংশের বিবৃতি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও চিকিৎসক হাসপাতাল ছেড়ে এসে বিবৃতি দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বিপর্যয়ের পর আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর ২৫ জন আহতের মধ্যে কারও মৃত্যু হয়নি বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিকিৎসকদের বিবৃতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন চিকিৎসক রাজনৈতিক নেতাদের মতো এসে বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ সেই সময় কর্তব্যরত ছিলেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসচিবকে বলেছি, ছবিগুলো দেখে চিহ্নিত করতে হবে, ওই সময় তাঁদের কর্তব্য ছিল কি না। সেই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জমা দিতে হবে।” তাঁর বক্তব্য, কর্তব্যরত অবস্থায় কেউ দায়িত্ব ছেড়ে বিবৃতি দিয়ে থাকলে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, চাকরির নিয়মেরও পরিপন্থী। কারণ চিকিৎসা একটি জরুরি পরিষেবা, যার সঙ্গে মানবিকতা ও দায়বদ্ধতা সরাসরি জড়িত।
তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে যেতে চান না বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব ছিল, তার চেয়েও উন্নত ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতালে করা যাবে বলে সরকার মনে করেছিল। সেই কারণেই আহতদের চিকিৎসার জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল, ১৯টি প্রাণ চলে যাওয়ার পর আর যেন একটিও প্রাণহানি না হয়। আমরা খুশির সঙ্গে জানাচ্ছি, ২৫ জনের চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর একজনেরও প্রাণহানি হয়নি।” তিনি স্বীকার করেন, চিকিৎসা চলাকালীন অনেক সময় রোগীর মৃত্যু হতে পারে। সেই অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেই আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
বিপর্যয়ের পর স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক ও চিকিৎসাকর্মীদের তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনার সময় স্বাস্থ্য দফতরের অনেকেই বাড়িতে ছিলেন। কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন, কেউ রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। খবর পাওয়ার পর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিজেদের কাজ ফেলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসেন। অনেকে যানজটে আটকে পড়েছিলেন। কেউ ভাড়ার গাড়ি, কেউ মোটরবাইক, আবার কেউ অন্য যে কোনও উপায়ে ঘটনাস্থল বা হাসপাতালে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এক ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকলে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতরের কোনও ব্যর্থতা নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রধান সচিবের সমালোচনা করে যাঁরা তাঁদের ব্যর্থ বলেছেন, তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি বলব, আপনারা ব্যর্থ নন।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ঘটনাস্থলে যে চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল, তার তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে অনেক উন্নত ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বেসরকারি হাসপাতালের সমতুল্য চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের আরও সময় প্রয়োজন। তিনি জানান, এই কাজ সম্পূর্ণ করতে প্রায় দু’বছর লাগবে বলে ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে ছয় মাস কেটেছে, আরও দেড় বছর সময় লাগতে পারে। এখনও পর্যন্ত বরাদ্দ অর্থের একটি কিস্তি ব্যবহার করা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের কাজও শুরু হয়নি বলে জানান তিনি। ফলে নতুন স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্পূর্ণভাবে গড়ে তুলতে সময় লাগবে বলে স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী।
চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী এভাবেই স্বাস্থ্য দফতরের তৎপরতার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি চিকিৎসকদের একাংশের বিবৃতির সময় তাঁদের কর্তব্যের দায়িত্ব ছিল কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার মানবিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যদিকে আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

