Cyclone Arnab 2026: ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার আশঙ্কা। বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। মঙ্গলবার থেকেই বদলাবে বাংলার আবহাওয়া, বুধবার ও বৃহস্পতিবার একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপ প্রথমে নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। সোমবার, ২৬ অক্টোবর সকালে সেটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের দেওয়া নাম অনুযায়ী এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, সমুদ্রের উপর আরও শক্তি বাড়িয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ঘূর্ণিঝড়টির। সেই সময় ঝড়ের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারে। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি গতিপথে পশ্চিমবঙ্গ না থাকলেও এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
বুধবার কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর অর্ণব পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও শক্তি সঞ্চয় করে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা থেকে বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগে প্রবেশের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই বিস্তৃত উপকূলের মধ্যেই রয়েছে কাকিনাড়া ও মছলিপত্তনম সংলগ্ন এলাকা। তবে ঠিক কোন জায়গায় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র আছড়ে পড়বে, তা নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তে তার গতিপথের উপর।
স্থলভাগে প্রবেশের সময় অর্ণবের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এর সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও চরম ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
স্থলভাগে প্রবেশ করার পরে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি ধীরে ধীরে কমবে। তবে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপ হিসেবে এটি স্থলভাগের আরও ভিতরে অগ্রসর হতে পারে। মধ্য ভারতের দিকে তার পরবর্তী গতিপথের উপরেও নজর রাখছেন আবহবিদেরা। যদিও নাগপুর ও প্রয়াগরাজ হয়ে নেপালের কাঠমান্ডু পর্যন্ত পৌঁছনোর নির্দিষ্ট পূর্বাভাস এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
মঙ্গলবার থেকেই বদলাবে বাংলার আবহাওয়া
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের এক বা দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলিতে প্রায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতায় এই দু’দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাতের পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়।
উত্তরবঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের এক বা দুটি জায়গায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।
মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ, উপকূলে পর্যটকদের জন্যও সতর্কতা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে সোমবার, ২৬ অক্টোবর থেকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের সোমবারের মধ্যেই উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের মৎস্যজীবীদের মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রে ঢেউ এবং হাওয়ার তীব্রতা বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে উপকূলবর্তী পর্যটন এলাকাতেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। বিশেষ করে ২৭ অক্টোবর থেকে উপকূলবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়
#cyclonearnab #cyclonearnab2026 #cyclonealert #cyclonenews #bayofbengal #andhrapradesh #andhrapradeshweather #westbengalweather #kolkataweather #imdweather #imdalert #cyclonelandfall #heavyrainalert #weatherupdate #coastalalert

