অবাঞ্ছিত প্রেগনেন্সি রুখতে এমার্জেন্সি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাচ্ছেন (Birth Control Pill Side Effects)। আপনার ওজন বেড়ে যাচ্ছে। ভাবছেন পিল খেলেই মুড সুইং হচ্ছে। সত্যিই কি তাই? আসল সত্যি জানতে অবশ্যই প্রতিবেদনটি পড়ুন।
পিল খেলে নাকি মোটা হয়ে যায়?— এই প্রশ্নটা অনেক নারীর মনেই ঘুরপাক খায়। কেউ বলেন, ওজন বেড়ে যায়, আবার কেউ বলেন একদমই না। কিন্তু আসল সত্যিটা কী? আসলে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল) শরীরের হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তন করে। ফলে অনেকের শরীরে সাময়িক ফোলাভাব, ক্ষুধা বৃদ্ধি বা জলধারণ (water retention) দেখা দিতে পারে। কিন্তু এটা কি সত্যিই চিরস্থায়ী ওজন বৃদ্ধি? এই প্রতিবেদনে জানুন, পিল খাওয়ার আসল প্রভাব কী, কেন মুড সুইং হয়, আর কীভাবে বুঝবেন কোন পিলটি আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি আসলে কীভাবে কাজ করে
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সাধারণত দুই ধরণের হরমোনের সমন্বয়ে তৈরি — ইস্ট্রোজেন (Estrogen) ও প্রোজেস্টেরন (Progestin)। এই দুই হরমোন একসঙ্গে ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়, যাতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়। কিন্তু হরমোন পরিবর্তনের ফলে শরীরে সামান্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রে পিলের শুরুতে ওজন ১-২ কেজি পর্যন্ত বাড়ে, যা মূলত শরীরে জল জমে থাকার কারণে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা গেছে, এই বৃদ্ধি স্থায়ী নয়। পিল খাওয়া বন্ধ করলে শরীর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
পিল খেলে কি সত্যিই ওজন বাড়ে?
বেশ কয়েকটি গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে, নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে স্থায়ীভাবে ওজন বাড়ে, এই কথা সত্যি নয়।। ৫০টিরও বেশি গবেষণায় কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি যে ওজন বাড়ার জন্য পিল দায়ী। তবে কিছু নারী পিল খাওয়ার পর ক্ষুধা বাড়ার অনুভূতি পান। আবার কারও শরীরে জল ধরে রাখার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে ওজন কিছুটা বাড়লেও তা স্থায়ী নয়। অর্থাৎ, ওজন বাড়ার বিষয়টি মূলত ব্যক্তিভেদে ভিন্ন এবং তা মানসিক ও হরমোনজনিত কারণে সাময়িক হয়ে থাকে।
মুড সুইং, মাথাব্যথা, ক্লান্তি: কেন হয়?
অনেকেই বলেন, “পিল খাওয়ার পর মন খারাপ লাগে”, “হঠাৎ রেগে যাচ্ছি”, “এনার্জি কমে গেছে”— এসব অভিযোগের মূল কারণ হলো হরমোনাল ফ্লাকচুয়েশন। ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন শুধু প্রজনন নয়, মস্তিষ্কের সেরোটোনিন (Serotonin) লেভেলেও প্রভাব ফেলে। ফলে কেউ কেউ হালকা ডিপ্রেশন বা উদ্বেগ অনুভব করেন।
তবে সব পিলের প্রভাব এক নয়। কেউ কেউ বরং মুড স্ট্যাবিলিটি অনুভব করেন, বিশেষ করে যাঁদের পিরিয়ড সংক্রান্ত মুড সমস্যা থাকে। তাই সঠিক পিল নির্বাচনই আসল বিষয়।
কাদের জন্য কোন পিল উপযুক্ত?
ডাক্তাররা সাধারণত শরীরের ধরন, বয়স, এবং পূর্ববর্তী হরমোনজনিত সমস্যার ওপর নির্ভর করে পিল নির্ধারণ করেন।যাঁদের ওজন দ্রুত ওঠানামা করে, তাঁদের জন্য লো ডোসের ইস্ট্রোজেন পিল ভালো। বিশিষ্ট গাইনোকোলজিস্ট সুপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, এমার্জেন্সি কন্ট্রাসেপটিভে অনেক বেশি হরমোন থাকে। এগুলি প্রত্যেকদিন বা রেগুলার ব্যবহার না করাই ভালো। সাধারণ ২৮ দিনের বা ২১ দিনের কন্ট্রাসেপটিভ পিল অনেক বেশি নিরাপদ বলে জানিয়েছেন।তাই অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খান।
Most Viewed Posts
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

