নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দু’বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মেয়ে হারানোর যন্ত্রণা যেন এক মুহূর্তের জন্যও কমেনি। সময়ের হিসাব তাঁর কাছে বছর বা মাসে নয়, মিনিট-সেকেন্ডে। মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, হাসতে হাসতে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া মেয়েটি আর ফেরেনি—এই বাস্তবতাই এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে অভয়ার মা রত্না দেবনাথকে। আর তাই বিচার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই থামাবেন না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অভয়ার মা রত্না দেবনাথের কথায় উঠে এসেছে গভীর ক্ষোভ, শোক এবং বিচারের দাবি। তাঁর বক্তব্য, মেয়ের সঙ্গে যারা অপরাধ করেছে, তাদের আগে মানুষ হতে হবে, তারপর চিকিৎসকের পরিচয় পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভয়া-কাণ্ডের দু’বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে তাঁর এই বক্তব্য ফের সামনে নিয়ে এল সেই পুরনো প্রশ্ন—বিচার কবে?
“মিনিট-সেকেন্ড গুনে গুনে দিন যাচ্ছে”
মেয়েকে হারানোর পর কেটে গিয়েছে দু’বছর। কিন্তু রত্না দেবনাথের কাছে এই সময় যেন থেমে রয়েছে সেই রাতেই। তিনি জানিয়েছেন, দু’বছর তাঁর কাছে শুধুই ক্যালেন্ডারের পাতা বদল নয়। প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত যেন মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই কেটেছে। তাঁর কথায়, মেয়ের চলে যাওয়াটা কোনও স্বাভাবিক বিদায় ছিল না। তাই সময় পেরোলেও শোকের জায়গায় কোনও স্বস্তি তৈরি হয়নি।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে এখনও তাঁর কাছে অসম্পূর্ণ একটি স্বপ্নের প্রতীক। মেয়ের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়নি। সেই স্বপ্ন এবং মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিই তাঁকে এখনও লড়াই করার শক্তি দিচ্ছে।
“তদন্ত হবে, বিচার হবে—না হলে ছাড়ব না”
রত্না দেবনাথের বক্তব্যে সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে বিচার পাওয়ার দাবি। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর লড়াই থামবে না। মেয়ের সঙ্গে যে অপরাধ হয়েছে, তার জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি থেকে তিনি সরে আসবেন না।
তাঁর বক্তব্যে রয়েছে তীব্র ক্ষোভও। মেয়ের সঙ্গে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তাঁদের তিনি মানুষ বলে মনে করেন না। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—শুধু চিকিৎসকের পরিচয় থাকলেই কেউ মানুষের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য হয়ে যায় না; আচরণ ও মানবিকতাই আসল।
এই জায়গাতেই তাঁর ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
“ওদের নামের আগে আর ডাক্তার বলব না”
মেয়ের সঙ্গে যারা অপরাধ করেছে বলে তিনি মনে করেন, তাঁদের নামের আগে আর ‘ডাক্তার’ শব্দটি ব্যবহার করবেন না বলেও জানিয়েছেন রত্না দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকের পেশার সঙ্গে মানুষের প্রতি দায়িত্ব, সহানুভূতি এবং মানবিকতা জড়িয়ে থাকে। সেই মানবিকতার অভাব রয়েছে বলেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
তাঁর এই বক্তব্য আসলে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, একজন মায়ের গভীর মানসিক যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ। মেয়েকে হারানোর পরও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সেটিই তাঁর কথায় বারবার ফিরে এসেছে।
দু’বছর পরও অভয়াকে ঘিরে স্মরণ ও নীরবতা
অভয়া-কাণ্ডের দু’বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নীরবতা পালন করা হয়েছে। নির্যাতিতা চিকিৎসক তরুণীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আরজি কর হাসপাতালেও স্মরণ করা হয়েছে অভয়াকে।
এই নীরবতা শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, ঘটনার ভয়াবহতা এবং একজন তরুণ চিকিৎসকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের প্রতীক হিসেবেও সামনে এসেছে। হাসপাতালগুলিতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
কিন্তু পরিবারের কাছে শুধু স্মরণ নয়, প্রয়োজন বিচার। আর সেই কারণেই রত্না দেবনাথের বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে একই দাবি—তদন্ত শেষ হোক, সত্য সামনে আসুক এবং অপরাধীদের শাস্তি হোক।
মায়ের লড়াই এখনও শেষ হয়নি
দু’বছর পরেও রত্না দেবনাথের কণ্ঠে একই দৃঢ়তা—মেয়ের জন্য বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি থামবেন না। সময় তাঁর কাছ থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি, মেয়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্নও পূরণ হয়নি। তাই বিচার পাওয়ার লড়াইটাই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
#AbhayaCase #RatnaDevnath #RGKarCase #JusticeForAbhaya #AbhayaTrust #HospitalSecurity #KolkataNews #WestBengalNews

