Abhishek Banerjee Foreign Travel: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার অনুমতি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। রক্ষাকবচের আবেদনে রাজ্যের আপত্তি, একাধিক মামলা এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার পথ কি শেষ পর্যন্ত বাধার মুখে পড়বে?
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রায় সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি মিলেছে আগেই। কিন্তু তার মধ্যেই নতুন আইনি জটিলতায় পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলায় ‘রক্ষাকবচ’ দেওয়া নিয়ে এবার হাইকোর্টে লিখিতভাবে আপত্তি জানাল রাজ্য সরকার। মামলার রায় ঘোষণার আগেই আদালতে জমা পড়েছে রাজ্যের এই লিখিত আবেদন। সেখানে শুধু রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের দাবি নয়, প্রতিটি এফআইআর এবং সংশ্লিষ্ট কেস ডায়েরি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে।
রাজ্যের বক্তব্য, সমস্ত মামলায় একসঙ্গে কার্যকর এমন ‘রক্ষাকবচ’ কার্যত আগাম জামিনের মতো হয়ে দাঁড়ায়। তাই সেটি প্রত্যাহার করা উচিত। একই সঙ্গে মামলাকারীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ, তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক এবং একাধিক মামলার অস্তিত্বের কথাও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ২৫ আগস্ট রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।
বিদেশযাত্রার অনুমতি মিললেও নতুন আইনি চাপ
চিকিৎসার প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার অনুমতি নিয়ে আগেই সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি উঠেছিল। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর তাঁর বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সেই নির্দিষ্ট বাধা দূর হয়। কিন্তু বিদেশযাত্রার অনুমতি পাওয়া মানেই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলায় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হয়ে যাওয়া নয়—এবার সেই বিষয়টিই সামনে আনছে রাজ্য সরকার।
অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় তদন্তের ক্ষেত্রে তাঁকে কতটা সুরক্ষা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নেই হাইকোর্টে মামলা চলছে। রাজ্যের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা প্রতিটি এফআইআরের প্রকৃতি আলাদা হতে পারে। তাই সব মামলাকে একসঙ্গে বিবেচনা করে একটি সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া হলে তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এই কারণেই আদালতের কাছে রাজ্যের আবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলার নথি, এফআইআর এবং কেস ডায়েরি দেখে পৃথকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।
‘ব্ল্যাঙ্কেট রক্ষাকবচ’ নিয়ে রাজ্যের আপত্তি
রাজ্যের লিখিত আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হল ‘ব্ল্যাঙ্কেট রক্ষাকবচ’ নিয়ে আপত্তি। অর্থাৎ, অভিষেকের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত এফআইআরের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কার্যকর কোনও সুরক্ষা যেন না দেওয়া হয়—এই অবস্থানই আদালতের সামনে তুলে ধরেছে রাজ্য।
রাজ্যের যুক্তি, এই ধরনের সার্বিক রক্ষাকবচ কার্যত আগাম জামিনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কোনও নির্দিষ্ট মামলায় তদন্তের প্রয়োজন থাকলে তদন্তকারী সংস্থার সেই কাজ করার সুযোগ থাকা দরকার। কিন্তু একসঙ্গে সব মামলায় সুরক্ষা থাকলে তদন্তের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে রাজ্যের দাবি।
আবেদনে তাই আগের দেওয়া রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত যাতে প্রতিটি মামলার কেস ডায়েরি এবং অভিযোগের প্রকৃতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে।
১৬টি মামলা, রক্ষাকবচ নিয়ে কোথায় দাঁড়িয়ে অভিষেক?
সরকার বদলের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার প্রসঙ্গও এই আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। আপনার দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে রক্ষাকবচ পাওয়া মামলার সংখ্যা নিয়ে দুটি আলাদা তথ্য রয়েছে। এক জায়গায় বলা হয়েছে, ১৬টি মামলার মধ্যে ৮টি মামলায় অভিষেক রক্ষাকবচ পেয়েছেন। , অভিষেকের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির সবকটিতে এখনও চূড়ান্ত আইনি সুরক্ষা মেলেনি এবং বাকি মামলাগুলিতে রক্ষাকবচের বিষয়টি হাইকোর্টের বিবেচনাধীন।
আদালতে এএসজির বক্তব্য, বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন
রক্ষাকবচ সংক্রান্ত শুনানির আগের পর্বে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ডি রাজুর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি আদালতে বলেন, কোনও এফআইআর দায়ের হয়ে গেলে সেটিকে সরাসরি বাতিল করে দেওয়া যায় না। তদন্তের প্রক্রিয়াও তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে।
এরপর বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ৪ মে-র আগে দায়ের হওয়া কোনও নির্দিষ্ট এফআইআর দেখানো যায় কি না। এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, অভিযোগগুলি যদি পরবর্তী সময়ে দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে আগে কেন অভিযোগ করা হয়নি—সেই প্রশ্নও বিবেচনায় আসতে পারে।
সেখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—মামলাকারীকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে তদন্ত চলাকালীন এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যা আদালতের দেওয়া সুরক্ষার সীমা অতিক্রম করে।
অর্থাৎ, একদিকে তদন্তের অধিকার, অন্যদিকে মামলাকারীর আইনি সুরক্ষা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন শুনানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
‘তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে’, কিন্তু কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?
রক্ষাকবচের মামলায় মূল প্রশ্ন এখন শুধু অভিষেককে সুরক্ষা দেওয়া হবে কি না, তা নয়। সুরক্ষা দেওয়া হলে তার পরিধি কতটা হবে, তদন্তকারী সংস্থা কী করতে পারবে এবং মামলাকারীর কী ধরনের সহযোগিতা করতে হবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে মামলাকারীকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে রক্ষাকবচের সময়সীমার মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে, সেটিও আদালতের নির্দেশের বিষয়।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য চায়, কোনও সার্বিক রক্ষাকবচ না দিয়ে প্রতিটি মামলার অভিযোগ ও নথি আলাদাভাবে বিচার করা হোক। অন্যদিকে অভিষেকের পক্ষের মূল অবস্থান কী হবে, তা নির্ভর করবে আদালতে তাঁদের আইনি যুক্তির উপর।
২৫ আগস্টের দিকে নজর, কী সিদ্ধান্ত হতে পারে?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলায় আগামী ২৫ আগস্ট হাইকোর্টে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আগেই রাজ্য সরকারের লিখিত আবেদন জমা পড়ায় মামলাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রাজ্যের আবেদনে রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতকে প্রতিটি এফআইআর, কেস ডায়েরি এবং অভিযোগের প্রকৃতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ফলে ২৫ আগস্টের শুনানি বা নির্দেশে আদালত সার্বিক রক্ষাকবচের বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অভিষেকের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একাধিকবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, তদন্তের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব নিয়মে চলবে।
ফলে এই মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নয়, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার তদন্তের গতিপথের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিদেশযাত্রা বনাম রক্ষাকবচ—দুটি বিষয় আলাদা
পুরো বিষয়টি বুঝতে গেলে বিদেশযাত্রার অনুমতি এবং রক্ষাকবচের মামলাকে আলাদা করে দেখা জরুরি। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া একটি বিষয়। আর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বা রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলায় তদন্তের ক্ষেত্রে আদালতের সুরক্ষা পাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা আইনি প্রশ্ন।
তাই সুপ্রিম কোর্টের বিদেশযাত্রার অনুমতিকে অভিষেকের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলায় স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং হাইকোর্টে এখন মূল প্রশ্ন হল, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলিতে তদন্তের স্বার্থ এবং ব্যক্তির আইনি অধিকার—দুটির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে।
রাজ্যের নতুন আবেদনের ফলে সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ২৫ আগস্টের আদালতের সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হতে পারে, অভিষেকের রক্ষাকবচের পরিধি কতটা থাকবে এবং রাজ্যের আবেদন কতটা গ্রহণযোগ্য বলে আদালত মনে করে।
সব মিলিয়ে, চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি পাওয়ার পরও আইনি লড়াই থেকে আপাতত মুক্তি মিলছে না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বরং রক্ষাকবচ নিয়ে রাজ্যের নতুন আবেদন মামলাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এখন নজর হাইকোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকে।
#AbhishekBanerjee #AbhishekBanerjeeForeignTravel #BlanketProtection #CalcuttaHighCourt #WestBengalGovernment #PoliticalNews #WestBengalPolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

