Abhishek Banerjee Interrogation: প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর শেক্সপিয়ার সরণি থানা থেকে বেরিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “বিজেপি জানে, এরা মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেনি।” কেন এমন মন্তব্য করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার নির্ধারিত সময়ের কিছু পরেই শেক্সপিয়ার সরণি থানায় পৌঁছন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যার আগে থানা থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ভিডিও ফুটেজ সামনে রাখা হয়। সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের সেখানে থাকার কারণ এবং পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। অভিষেকের বক্তব্যও তদন্তকারীরা নথিভুক্ত করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
কেন থানায় তলব করা হয়েছিল অভিষেককে?
ঘটনার সূত্রপাত কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের দফতরকে ঘিরে। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে অনুমোদনহীন হোর্ডিং সরাতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন।
সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পুরসভার কর্মী এবং পুলিশকর্মীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর সেক্সপিয়ার সরণি থানায় একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।
সেই মামলাগুলির মধ্যে একটি মামলার তদন্তেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। শনিবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে পুলিশের তরফে নোটিস পৌঁছে দেওয়া হয় এবং সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল।
প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে কী নিয়ে প্রশ্ন?
সোমবার দুপুর ১২টা পেরিয়ে প্রায় ১২টা ১৭ মিনিট নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থানায় পৌঁছন। এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তদন্তকারীরা তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিনের পরিস্থিতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয় ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে। ঘটনাস্থলে অভিষেক ছাড়াও আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের পরিচয় এবং কী কারণে তাঁরা সেখানে ছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়।
তদন্তকারীরা জানতে চান, ওই ব্যক্তিদের আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কি না, নাকি পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার জন্য তাঁদের সেখানে ডাকা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, সেই বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় বলে জানা যাচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কী বললেন অভিষেক?
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যার আগে থানা থেকে বেরিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে তখন তাঁর সমর্থকেরা অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বেরিয়ে আসার পর সমর্থকেরা স্লোগান দেন।
থানা থেকে বেরিয়ে অভিষেক এই পুলিশি তৎপরতাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন।
অভিষেকের কথায়—
“এই তৎপরতাটা যদি বিজেপি সরকার এক মাস আগেও দেখাত, তাহলে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে আগুনে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের দাহ করতে হতো না।”
তিনি কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যের মূল অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে যে ধরনের দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, একই রকম তৎপরতা আগে দেখা গেলে শিখা ইন-এর অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা হয়তো এড়ানো সম্ভব হত।
এখন নজর থাকবে তিনি নির্ধারিত সময়ে থানায় হাজির হন কি না এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়। অভিষেকের ক্ষেত্রে অবশ্য দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলা হয়।
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

