Ambulance Fare: অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নিয়ে রোগী পরিবারের ভোগান্তি কমাতে নতুন নীতির পথে স্বাস্থ্য দপ্তর। তিন ধরনের অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য আলাদা ভাড়া, দূরত্বভিত্তিক হিসাব এবং মধ্যস্থতাকারীহীন পরিষেবার পরিকল্পনা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: হাসপাতাল থেকে কোনও রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে অ্যাম্বুল্যান্সই ভরসা। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতিতে সেই অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নিয়েই বহু সময় সমস্যায় পড়তে হয় রোগীর পরিবারকে। কোথাও নির্দিষ্ট ভাড়ার হিসাব নেই, কোথাও আবার দূরত্বের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। কখনও আবার রোগীর পরিবারকে পরিষেবা পেতে মধ্যস্থতাকারীর দ্বারস্থ হতে হয়। ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্সের খরচও হয়ে ওঠে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। এই পরিস্থিতির বদল আনতেই এবার অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নির্ধারণে নতুন নীতির কথা ভাবছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। তিন ধরনের অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য আলাদা ভাড়া নির্ধারণের পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভাড়ার কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল পরিদর্শনের পর এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, রোগীর পরিবার এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা প্রদানকারীর মধ্যে যেন কোনও তৃতীয় ব্যক্তি না থাকে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
তিন ধরনের অ্যাম্বুল্যান্স, তিন রকম ভাড়ার ভাবনা
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার করা হয়। সাধারণ রোগী পরিবহনের জন্য যে অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার করা হয়, তার পরিষেবা একরকম। আবার প্রাথমিক চিকিৎসার পরিকাঠামো থাকা অ্যাম্বুল্যান্সের পরিষেবা এবং নিবিড় পরিচর্যার সুবিধা থাকা অ্যাম্বুল্যান্সের পরিষেবা সম্পূর্ণ আলাদা। সেই কারণেই সব ধরনের অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য একই ভাড়া না রেখে পৃথক ভাড়ার কাঠামো তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতমুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আপাতত তিন ধরনের অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য আলাদা আলাদা ভাড়া নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একটি হবে সাধারণ রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুল্যান্স। দ্বিতীয়টি হবে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোযুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স। তৃতীয়টি হবে নিবিড় পরিচর্যার সুবিধাযুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স। রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং পরিষেবার পরিমাণ অনুযায়ী ভাড়ার পার্থক্য থাকবে।
এর ফলে রোগীর পরিবার পরিষেবা নেওয়ার আগে কত টাকা খরচ হতে পারে, সে সম্পর্কে আগেই একটি ধারণা পেতে পারবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দরদাম বা অনিশ্চয়তার কারণে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়, তা কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া, কলকাতা যাতায়াতেও নির্দিষ্ট হিসাব
অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু পরিষেবার ধরন নয়, দূরত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। কত কিলোমিটার পর্যন্ত কী ভাড়া হবে, দূরের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কীভাবে হিসাব হবে, সেই বিষয়েও একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে জেলা থেকে কলকাতায় রোগী নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। রোগীর পরিবারের কাছে সেই যাত্রার মোট খরচ আগে থেকে স্পষ্ট না থাকলে শেষ পর্যন্ত বড় অঙ্কের টাকা গুনতে হতে পারে। তাই কলকাতা পর্যন্ত রোগী নিয়ে যাওয়া এবং ফেরার ক্ষেত্রে কী ধরনের ভাড়া নির্ধারণ করা যায়, সেই বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
তবে শুধু গোটা রাজ্যের জন্য একটি অভিন্ন হিসাব তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। কারণ প্রতিটি এলাকার রাস্তার পরিস্থিতি, দূরত্ব, যাতায়াতের ধরন এবং স্থানীয় বাস্তবতা এক নয়। সেই কারণেই স্থানীয় পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাড়া নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পরিস্থিতি বুঝে ভাড়া ঠিক করার দায়িত্বে জেলা প্রশাসন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। জেলা অনুযায়ী রাস্তার পরিস্থিতি, হাসপাতালের দূরত্ব, স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বাস্তব বিষয় বিবেচনা করেই ভাড়ার কাঠামো তৈরি করতে হবে।
এই কাজে জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে একটি সাধারণ নীতি তৈরি হলেও স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী তার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
এর ফলে একদিকে যেমন রোগীর পরিবারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর চেষ্টা হবে, তেমনই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা প্রদানকারীদের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে। ভাড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বা অভিযোগের জায়গা কমানোই হবে এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।
রোগীর পরিবার ও চালকের মাঝে থাকবে না কোনও মধ্যস্থতাকারী
অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রোগীর পরিবার এবং পরিষেবা প্রদানকারীর মধ্যে কোনও তৃতীয় ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারী থাকা উচিত নয়।
অনেক সময় জরুরি অবস্থায় রোগীর পরিবার সরাসরি অ্যাম্বুল্যান্স চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। এর মধ্যে অন্য কেউ পরিষেবার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে যুক্ত হলে খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে চাইছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যিনি পরিষেবা নেবেন এবং যিনি অ্যাম্বুল্যান্স চালিয়ে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, তাঁদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ থাকা দরকার। কোনও তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে পরিষেবা পরিচালিত হলে ভাড়া নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। তাই ভবিষ্যতের ব্যবস্থায় এই মধ্যস্থতার জায়গাটি যতটা সম্ভব সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে তৈরি হবে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া ও পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের। ভবিষ্যতে একটি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরির কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে রোগীর পরিবার সরাসরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সম্পর্কে জানতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা নিতে পারবে।
তবে এই ব্যবস্থা তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার আগে ভাড়া নির্ধারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের পূর্ব বর্ধমান সফরেও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। টানা তিন দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসা পরিষেবার বিভিন্ন সমস্যা ও অভাব-অভিযোগ নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। রবিবার জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
অ্যাম্বুল্যান্সের ক্ষেত্রে নতুন ভাড়ার কাঠামো কার্যকর হলে রোগীর পরিবার কতটা উপকৃত হবে, তা নির্ভর করবে সেই নিয়ম কতটা স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হয় তার উপর। তবে জরুরি চিকিৎসার সময় অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কমানোর উদ্যোগ যে গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ একজন রোগীর পরিবার যখন প্রিয়জনকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাদের কাছে সময়ের পাশাপাশি অর্থের হিসাবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নতুন নীতির মাধ্যমে যদি পরিষেবার ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভাড়া, দূরত্ব অনুযায়ী হিসাব এবং সরাসরি রোগীর পরিবারের সঙ্গে পরিষেবা প্রদানকারীর যোগাযোগ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এখন নজর থাকবে, স্বাস্থ্য দপ্তর কীভাবে এই নতুন কাঠামো তৈরি করে এবং জেলা স্তরে তা কীভাবে কার্যকর করা হয় তার দিকে।
#AmbulanceFare #AmbulanceService #WestBengalHealthcare #HealthcarePolicy #PatientCare #AmbulanceCharges
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

