Argentina facts and history: আর্জেন্টিনা শুধু ফুটবল বিশ্বকাপজয়ী একটি দেশ নয়, এটি আবেগ, সম্পর্ক এবং সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। ফুটবল এখানে জাতীয় উন্মাদনা, এদেশে মাতে কেবল পানীয় নয়—একটি সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। বিশাল ভূখণ্ডের এই দেশে জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও মানুষের হৃদয় ভরা বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা ও উষ্ণতার স্পর্শ মুগ্ধ করে। স্বাধীনতার ইতিহাস, ধর্মীয় সহনশীলতা, বন্ধুত্বের জন্য আলাদা দিবস—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করে, একটি দেশের শক্তি শুধু অর্থনীতি বা রাজনীতিতে নয়, তার মানুষের সম্পর্ক ও সংস্কৃতিতেও গভীরভাবে প্রোথিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: অর্পণ গেছে এবারের ৪৯ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায়। সে অবশ্য আগে থেকেই জানতো, এবারের থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। এক থেকে তিন নম্বর গেটের মাঝামাঝি জায়গায় আর্জেন্টিনার স্টলে যখন সে গিয়ে পৌঁছালো সে তখন বেশ ক্লান্ত। বাড়ি ফেরার তাড়াও রয়েছে। কিন্তু একবার মনে হল, এই স্টলটা ঘুরে দেখাটা দরকার। অর্পণ বরাবর ফুটবল ভালোবাসে। তাই আর্জেন্টিনা বলতেই তার মনের মধ্যে প্রথমেই ভেসে উঠলো, দুটো বিষয় -ফুটবল আর মেসি। এটা অবশ্য তার ভুল নয়। বাঙালি মাত্রই আর্জেন্টিনার এই পরিচয়টাই বরাবর জানে। প্রথমে প্রবেশ করেই অর্পণ দেখতে পেল, একজন বিদেশিনী একটি শো দেখাচ্ছেন, ভাষাটা অনুধাবন করতে পারল না অর্পণ। তারপর সে দেখল স্টলের দেওয়ালে লেখা আর্জেন্টিনার ভাষা স্প্যানিশ। লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ স্প্যানিশ ভাষাতে কথা বলে। মাতৃভাষা হিসাবে ব্যবহারকারীর মধ্যে স্প্যানিশ ভাষার স্থান দ্বিতীয়। সারা বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা স্প্যানিশ। তারপর সে খুঁজে পেল আর্জেন্টিনার চমকপ্রদ তথ্য। যা জানলে আপনি অবাক হবেন। আজ জানবেন আর্জেন্টিনার অজানা গল্প।
একটা দেশকে আমরা কতটা চিনি? ফুটবল মানেই আর্জেন্টিনা—এই ধারণার বাইরে গিয়ে যদি দেশটাকে জানতে চাই, তাহলে চোখের সামনে খুলে যায় এক আশ্চর্য ইতিহাসের দরজা। নোবেল পুরস্কার থেকে শুরু করে ইউরোপের রাজপরিবার, আবার ভারতের রান্নাঘরের তেলের পেছনেও আছে আর্জেন্টিনার নীরব ভূমিকা। সম্প্রতি বইমেলায় একটি প্রদর্শনীমূলক ভিডিও ও ভিজ্যুয়াল বোর্ডে উঠে আসা কিছু তথ্য আবারও মনে করিয়ে দিল—আর্জেন্টিনা শুধু লিওনেল মেসি বা ট্যাঙ্গোর দেশ নয়, বরং জ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক ইতিহাসে গভীরভাবে জড়িত এক রাষ্ট্র।
আরও পড়ুন : মেসির ড্রিবল নাকি বোরহেসের গোলকধাঁধা? এবারের বইমেলায় এক নীল-সাদা রূপকথা | Argentina Theme Book Fair
এই প্রতিবেদনে আমরা তুলে ধরছি আর্জেন্টিনা সম্পর্কিত এমন কিছু কম জানা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা শুধু কৌতূহল জাগায় না, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দেশটির প্রভাব বুঝতেও সাহায্য করে। কেন আর্জেন্টিনার নামের সঙ্গে “রুপো”-র সম্পর্ক? কীভাবে দেশটি পাঁচবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছে? ভারতের রান্নাঘরের তেলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সম্পর্কই বা কী? সব প্রশ্নের উত্তর থাকছে এই এক প্রতিবেদনে।
জ্ঞান ও শান্তিতে আর্জেন্টিনার অবদান
বিশ্বমঞ্চে নোবেল পুরস্কার মানেই শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি। অনেকেই জানেন না, আর্জেন্টিনা মোট পাঁচবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছে—যা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
- Peace (শান্তি): ১৯৩৬ ও ১৯৮০
- Medicine (চিকিৎসা বিজ্ঞান): ১৯৪৭ ও ১৯৮৪
- Chemistry (রসায়ন): ১৯৭০
এই পুরস্কারগুলো শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আর্জেন্টিনার একাডেমিক পরিবেশ, গবেষণা সংস্কৃতি ও মানবিক চিন্তাধারার প্রতিফলন। বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে দেশটির অবদান বিশ্বস্বাস্থ্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। শান্তিতে নোবেল পাওয়া মানে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনা এক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে—যা আজও ইতিহাসে স্বীকৃত।
ইউরোপের রাজসিংহাসনে লাতিন শিকড়
ইউরোপীয় রাজপরিবার আর লাতিন আমেরিকা—এই দুই জগতের সংযোগ খুব বিরল। কিন্তু আর্জেন্টিনা সেই ব্যতিক্রম তৈরি করেছে। ছবিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা Máxima জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর্জেন্টিনায়, ১৯৭১ সালে।
তিনি ইউরোপের ইতিহাসে প্রথম জন্মসূত্রে লাতিন আমেরিকার রানী।। এই তথ্য শুধু গসিপ বা রাজকীয় কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং এটি প্রমাণ করে আর্জেন্টিনার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত। লাতিন আমেরিকার একজন নারী ইউরোপের রাজসিংহাসনে বসবেন—একসময় যা অকল্পনীয় ছিল, তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে আর্জেন্টিনার মাধ্যমে।
ভারতের রান্নাঘরে আর্জেন্টিনার নীরব উপস্থিতি
ভারতের প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরেই যে সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল প্রতিদিন ব্যবহার করা হয়, সেই তেলগুলোর বড় অংশ ঠিক কোথা থেকে আসে—এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। প্রদর্শনীতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সয়াবিন তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ। শুধু তাই নয়, সূর্যমুখী তেলের ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক।
এর অর্থ, ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভোজ্যতেলের বাজারে আর্জেন্টিনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোনও বড় রাজনৈতিক প্রচার ছাড়াই দুই দেশের অর্থনীতিকে নীরবে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে। আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতায়, কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে গিয়ে এমন স্থিতিশীল বাণিজ্যিক সম্পর্কই দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী সংযোগ তৈরি করে।
আর্জেন্টিনা নামের পেছনের রুপোর গল্প
“আর্জেন্টিনা” নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক ঐতিহাসিক ভুল ধারণার ইতিহাস। প্রদর্শনীতে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা নামটির উৎস লাতিন ভাষার একটি শব্দ, যার অর্থ রুপো।
একসময় স্পেনের অভিযাত্রীরা বিশ্বাস করতেন, এই অঞ্চলটি বিপুল পরিমাণ রুপোতে ভরপুর। সেই বিশ্বাস থেকেই অঞ্চলটির নামকরণ করা হয়। তবে বাস্তবে তারা কখনও সেই কল্পিত রুপোর ভাণ্ডারের সন্ধান পাননি। তবুও নামটি থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে তা ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। এই নামকরণের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কীভাবে উপনিবেশিক চিন্তাধারা, প্রত্যাশা ও ভুল ধারণা একটি দেশের পরিচয় গড়ে তুলতে পারে—যখন বাস্তব সত্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়।
মেসির বাইরেও একটি বিশ্ব
আজকের দিনে আর্জেন্টিনা মানেই ফুটবল—বিশেষ করে মেসি। কিন্তু এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দেয়, দেশটি তার ক্রীড়াবিদদের চেয়েও অনেক বড়। নোবেল পুরস্কার, বৈশ্বিক রাজনীতি, ইউরোপীয় রাজপরিবার, ভারতের খাদ্যব্যবস্থা—সবখানেই আর্জেন্টিনার ছাপ। এই ধরনের তথ্যভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী বা ভিডিও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি দেশকে শুধু একটি পরিচয়ে বেঁধে রাখা কতটা ভুল।
১৮১০ থেকে ১৮১৬: স্বাধীনতার দীর্ঘ পথচলা
আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা একদিনে অর্জিত হয়নি। ছবিতে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, ১৮১০ সালে বুয়েনোস আইরেসে ‘মে বিপ্লব’-এর মাধ্যমে স্পেনের শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আন্দোলনের সূচনা হয়। সেই সময় লাতিন আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলই ছিল স্পেনীয় উপনিবেশের অধীনে, আর আর্জেন্টিনাও তার ব্যতিক্রম ছিল না।
মে বিপ্লব ছিল মূলত রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের প্রথম প্রকাশ। স্থানীয় জনগণ ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে শুরু করে যে দূরবর্তী ইউরোপ থেকে পরিচালিত শাসন আর গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিপ্লবই ভবিষ্যতের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের বীজ রোপণ করে। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে সময় লেগেছিল আরও ছয় বছর।
অবশেষে ১৮১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। এই সময়কাল ছিল রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং অসংখ্য আত্মত্যাগে পরিপূর্ণ। আজকের আধুনিক আর্জেন্টিনার ভিত্তি গড়ে উঠেছে এই ছয় বছরের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং তার আগে-পরে চলা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই।
খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু বিশ্বাসের স্বাধীনতা সবার
অর্পনের ক্লান্তি মুহূর্তেই যেন কেটে গেল। কারণ সে জানল অজানা আর্জেন্টিনাকে। অচেনা আর্জেন্টিনা ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ করল ভারতবাসীকে। মেসির বাইরে ও যে একটা অজানা জগত রয়েছে আমরা জানলাম। আর প্রথমের সেই যে শো, যা দেখে অর্পণের একটুও ভালো লাগেনি, এবার এসে একটু একটু করে বুঝতে শুরু করলো। ছবিতে উঠে আসা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—আর্জেন্টিনার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী, এবং তাঁদের বড় অংশ ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্য জানলে অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা তৈরি হতে পারে যে আর্জেন্টিনা হয়তো ধর্মীয় দিক থেকে একমুখী একটি দেশ। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন।
আর্জেন্টিনার সংবিধান অনুযায়ী, সব ধর্মই স্বাধীন, স্বীকৃত এবং সমানভাবে সম্মানিত। ফলে এই দেশে শুধু খ্রিস্টান নয়, ইহুদি, মুসলিম, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে বসবাস করেন। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের দৃষ্টান্ত হিসেবে আর্জেন্টিনা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
এই বহুধর্মীয় সহাবস্থান দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করেছে। এখানে বিশ্বাস কখনও বিভাজনের কারণ নয়; বরং পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক ঐক্যের একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
বিশাল দেশ, কিন্তু মানুষ কম কেন?
ছবিতে তুলে ধরা তথ্যটি সত্যিই বিস্ময়কর। ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে আর্জেন্টিনা বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ। অথচ এই বিশাল দেশের মোট জনসংখ্যা মাত্র ৪ কোটি ৬০ লক্ষ। তুলনামূলকভাবে বলা যায়, আয়তনের বিচারে ভারতের অবস্থান সপ্তম হলেও সেখানে বসবাস করে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষ।
এই বিশাল আয়তন ও কম জনসংখ্যার বৈপরীত্য আর্জেন্টিনাকে ভৌগোলিক দিক থেকে একেবারেই অনন্য করে তুলেছে। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে পাহাড়, উর্বর তৃণভূমি, ঘন বনাঞ্চল, বিশাল হিমবাহ এবং শুষ্ক প্রান্তর। বহু এলাকা আজও প্রায় জনমানবশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
কম জনসংখ্যা এবং বিপুল ভূখণ্ডের কারণে আর্জেন্টিনা কৃষিকাজ, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার ও পর্যটনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনার অধিকারী। একই সঙ্গে এই বাস্তবতা দেশটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জও তৈরি করে।
আর্জেন্টিনার ভেতরেই রয়েছে বড় শহর, সবুজ প্রান্তর, আর্দ্র জঙ্গল, পাথুরে মরুভূমি, ঠান্ডা বনাঞ্চল, তুষারাচ্ছন্ন স্তেপ, এমনকি আন্টার্কটিকা সংলগ্ন অঞ্চল। অর্থাৎ এক দেশেই পাওয়া যায় গ্রীষ্মমণ্ডল থেকে প্রায় মেরু অঞ্চলের আবহাওয়া। এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আর্জেন্টিনাকে শুধু পর্যটনের স্বর্গই বানায়নি, বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরিবেশগত অধ্যয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বন্ধুত্বের জন্য আলাদা দিন
আর্জেন্টিনার সমাজে বন্ধুত্বের মূল্য অসাধারণ। বন্ধুত্বকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয় যে, সেখানে প্রতি বছর ২০ জুলাই ‘বন্ধু দিবস’ পালন করা হয়। এই দিনটি শুধুই উৎসব নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে উদ্যাপন করার একটি উপলক্ষ। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা, কথা বলা—এই সবকিছুই আর্জেন্টিনার সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্ধুত্ব এখানে রক্তের সম্পর্কের মতোই গভীর ও আন্তরিক।
ফুটবল আর ‘মাতে’: আর্জেন্টিনার হৃদয়ের ভাষা
আর্জেন্টিনার মানুষের জীবনে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, পরিচয় এবং সংস্কৃতির অংশ। দেশটির মানুষ ফুটবলকে ভালোবাসে প্রাণ দিয়ে। এর সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পানীয়—‘মাতে’। এই পানীয় আর্জেন্টিনার জাতীয় পানীয় হিসেবে পরিচিত এবং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মাতে তৈরি হয় একটি স্থানীয় গাছের শুকনো পাতা দিয়ে। এটি কেবল পান করার জিনিস নয়, বরং একটি সামাজিক আচার। বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বসে মাতে ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার মানুষ সম্পর্কের উষ্ণতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করে। এই অভ্যাস তাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
ফুটবলে বিশ্বজয়: আর্জেন্টিনার গৌরবগাথা
ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনার অবস্থান অত্যন্ত গর্বের। দেশটি এখন পর্যন্ত তিনবার বিশ্ব ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালে। এছাড়াও তারা আরও তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে—১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে।
এই ইতিহাসে দুটি নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা—দিয়েগো মারাদোনা ও লিওনেল মেসি। এই দুই কিংবদন্তি ফুটবলার দু’জনই দু’বার করে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন। তাদের হাত ধরেই আর্জেন্টিনার ফুটবল বিশ্বজুড়ে আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যে শহরে কয়েকদিন আগেই দেখা গিয়েছিল মেসিকে নিয়ে বিতর্ক, অনেকেই ভেবেছিল আর্জেন্টিনার সঙ্গে কলকাতার সম্পর্ক বুঝি এখানেই শেষ। সেই শহরেই আন্তর্জাতিক বইমেলায় ফোকাল থিম কান্ট্রি হয়ে এসে বইয়ের পাতা থেকে মানুষের মনে নতুন করে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। আর এই ধরনের নতুন নতুন লেখা পড়তে আপনারাও থাকুন নিউজ অফবিটের পরিবারের পাশে। আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাদের শক্তি।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

