Ayushman Bharat West Bengal: ১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যে শুরু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত। কিন্তু এর ফলে কি স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হয়ে যাবে? কারা আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন, কারা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য যোজনার আওতায় থাকবেন এবং নতুন ব্যবস্থায় কী বদল আসছে, জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। এই দিনটিকেই রাজ্যে আয়ুষ্মান দিবস হিসেবে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে যে কারণে রাজ্যের বহু মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, ১৬ আগস্টের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে চলেছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রায় দেড় কোটি পরিবার এবং প্রায় ছয় কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসুরক্ষার আওতায় আসবেন। শুধু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময়ের চিকিৎসাই নয়, ভর্তি হওয়ার আগের তিন দিন থেকে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত ওষুধ, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা এবং পরবর্তী চিকিৎসার খরচও প্রকল্পের আওতায় থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচের বোঝা অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৬ আগস্ট থেকেই নতুন স্বাস্থ্যসুরক্ষার যাত্রা, কী কী সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ?
শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দিনটিকে বিশেষভাবে আয়ুষ্মান দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় কোটি পরিবার এবং প্রায় ছয় কোটি মানুষ যুক্ত হবেন বলে জানানো হয়েছে।
এই স্বাস্থ্যসুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে এবং হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরের চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচের বিষয়টিও প্রকল্পের আওতায় রাখা। কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিন আগে থেকে এবং হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর ১৫ দিন পর্যন্ত ওষুধ, রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং পরবর্তী চিকিৎসা বা অনুসরণমূলক চিকিৎসার খরচ এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অর্থাৎ, শুধু হাসপাতালের শয্যায় থাকার সময়ের চিকিৎসা নয়, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াটিকেই একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হবে না।
আলাদা কার্ড বহনের দরকার নেই, পরিবারের সদস্য সংখ্যাতেও থাকছে না সীমা
এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা করে কোনও কার্ড বহন করার প্রয়োজন হবে না।
অর্থাৎ, চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়ার সময় আলাদা স্বাস্থ্যসুরক্ষা কার্ড সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এর ফলে প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একটি পরিবারে কতজন সদস্য রয়েছেন, তার কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। অর্থাৎ পরিবারের নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যের জন্যই কেবল সুবিধা সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবারের সমস্ত সদস্যই প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসুরক্ষার সুবিধা পাবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের কোনও বাসিন্দাই যাতে স্বাস্থ্যবিমার সুরক্ষার বাইরে না থাকেন, সেই লক্ষ্যেই একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বার্ষিক পাঁচ লক্ষ টাকার নগদহীন চিকিৎসা, পুরোনো রোগও থাকবে আওতায়
আয়ুষ্মান ভারতের পাশাপাশি যাঁরা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন, তাঁদের জন্য একই দিনে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য যোজনা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এই প্রকল্পের মাধ্যমেও বার্ষিক পাঁচ লক্ষ টাকার নগদহীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, রাজ্যের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশকে দুই ধরনের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে রাজ্যের কোনও বাসিন্দাই যেন স্বাস্থ্যবিমার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।
শুধু নতুন করে তৈরি হওয়া রোগের চিকিৎসাই নয়, আগে থেকেই কোনও ব্যক্তি জটিল রোগে আক্রান্ত থাকলেও সেই রোগের চিকিৎসার খরচ প্রকল্প চালুর প্রথম দিন থেকেই আওতাভুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তির পুরোনো রোগ থাকলে শুধুমাত্র সেই কারণে তাঁকে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হবে না।
এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগের চিকিৎসায় পরিবারের বিপুল অর্থ খরচ হয়। পুরোনো রোগের চিকিৎসাও যদি স্বাস্থ্যসুরক্ষার আওতায় আসে, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন বহু পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারে।
এখনই বন্ধ হচ্ছে না স্বাস্থ্যসাথী, দুই থেকে তিন মাস চলবে তিন প্রকল্পই
আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই আশঙ্কা দূর করে শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এখনই স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ করা হচ্ছে না।
আগামী দুই থেকে তিন মাস স্বাস্থ্যসাথী, আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা—এই তিনটি প্রকল্পই একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় হঠাৎ করে কোনও পরিবর্তন এনে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলার পরিবর্তে ধাপে ধাপে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে উপভোক্তাদের নতুন প্রকল্পের ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে স্থানান্তর করা হবে। পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চলছে কি না এবং নতুন ব্যবস্থায় উপভোক্তারা কোনও অসুবিধার মুখে পড়ছেন কি না—সেগুলি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প প্রত্যাহার করা হবে।
ফলে ১৬ আগস্ট থেকেই স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। বরং পুরোনো এবং নতুন ব্যবস্থার মধ্যে একটি পরিবর্তনকাল রাখা হচ্ছে।
১৯৩০টি হাসপাতাল যুক্ত, সরকারি ৬২৭ এবং বেসরকারি ১৩০৩
নতুন স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য রাজ্যের বিপুল সংখ্যক হাসপাতালকে এর আওতায় যুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৯৩০টি হাসপাতাল এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ১৩০৩টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ৬২৭টি সরকারি হাসপাতাল। ফলে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বেসরকারি হাসপাতালেও উপভোক্তারা স্বাস্থ্যসুরক্ষার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বেসরকারি হাসপাতালের বড় অংশকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ফলে চিকিৎসার বিকল্পও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যে সমস্ত রোগীর নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের কাছে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বাস্তবে পরিষেবা কতটা দ্রুত এবং সহজে পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে হাসপাতালগুলির সঙ্গে প্রকল্পের কার্যকর সমন্বয় এবং উপভোক্তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ রাখা হচ্ছে তার উপর।
আভা পরিচয় থাকলে চিকিৎসার পুরোনো ইতিহাস বারবার জমা দিতে হবে না
নতুন ব্যবস্থায় চিকিৎসার নথিপত্র সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। যাঁদের আভা পরিচয় রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের মতো বারবার চিকিৎসার পুরোনো ইতিহাস বা নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আভা পরিচয় দেখালেই সংশ্লিষ্ট রোগীর সম্পূর্ণ ডিজিটাল চিকিৎসা নথি দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসকরা রোগীর আগের চিকিৎসা, রোগের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত দেখতে পারবেন।
এই ব্যবস্থার ফলে একজন রোগী নতুন হাসপাতালে গেলে আগের চিকিৎসার সমস্ত তথ্য নতুন করে বোঝাতে বা নথি নিয়ে ঘুরতে হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে। চিকিৎসকরাও রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস দ্রুত বুঝে পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এবং সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ তাঁদের ক্ষেত্রে বারবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং বিভিন্ন সময়ের পরীক্ষার রিপোর্ট ও চিকিৎসার ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
ছয় কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা, বরাদ্দ এক হাজার কোটি টাকা
রাজ্য সরকারের এই নতুন স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থার পরিধি যে বড়, তা প্রকল্পের সম্ভাব্য উপভোক্তার সংখ্যাতেই স্পষ্ট। শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় কোটি পরিবার এবং ছয় কোটি মানুষ এই স্বাস্থ্যসুরক্ষার আওতায় আসবেন।
এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, শুধু একটি নতুন স্বাস্থ্য প্রকল্প ঘোষণা নয়, তার জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ এবং বিপুল সংখ্যক হাসপাতালকে যুক্ত করে একটি বড় পরিসরের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হতে চলেছে। আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য যোজনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসুরক্ষার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো রোগের চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ও পরে চিকিৎসার খরচ, পরিবারের সব সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ডিজিটাল চিকিৎসা নথির ব্যবহারের মতো একাধিক বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
#AyushmanBharat #AyushmanBharatWestBengal #SwasthyaSathi #WestBengalHealth #HealthInsurance #CashlessTreatment #HealthNews #WestBengal
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

