Bagbazar Gaudiya Math: রাধা অষ্টমীর অনুষ্ঠানে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠকে রাজ্য সরকারের তীর্থক্ষেত্র সার্কিটে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা। একইসঙ্গে হেরিটেজ কমিশনের আওতায় মঠ ও মন্দিরকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, পার্কিং, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ছাত্রীবাস ও বৃদ্ধাবাস নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাধা অষ্টমীর অনুষ্ঠানে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শতাব্দীপ্রাচীন এই মঠকে রাজ্য সরকারের তীর্থক্ষেত্র সার্কিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে মঠ ও মন্দিরকে হেরিটেজ কমিশনের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মঠের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পার্কিং এলাকা, বহুমুখী প্রেক্ষাগৃহ, মৃদঙ্গ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন, ছাত্রীবাস ও বৃদ্ধাবাস তৈরির মতো একাধিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় মঠ সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তীর্থক্ষেত্র সার্কিটে জায়গা পাবে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ
রাধা অষ্টমী উপলক্ষে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের তীর্থক্ষেত্র সার্কিটের যে পরিকল্পনা এবারের বাজেটে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে এই শতাব্দীপ্রাচীন মঠকেও রাখা হবে। অর্থাৎ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের এই প্রতিষ্ঠানকে রাজ্যের তীর্থপর্যটনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাগবাজার গৌড়ীয় মঠের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেও মঠের প্রেসিডেন্ট মহারাজের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে জানান তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর মঠের প্রেসিডেন্ট মহারাজ সচিবালয়ে গিয়ে কয়েকটি সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই সমস্যাগুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের একটি রূপরেখা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
হেরিটেজ মর্যাদা ও ঐতিহ্য রক্ষার কথা
বাগবাজার গৌড়ীয় মঠের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মঠের সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং মদনমোহন মালব্যের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের যোগের প্রসঙ্গ। এমন একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেরিটেজ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার হেরিটেজ কমিশন তুলে দিয়েছিল এবং তাঁর সরকার সেটি আবার ফিরিয়ে এনেছে। সেই ব্যবস্থার আওতায় বাগবাজার গৌরীয় মঠ ও মন্দিরকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঠের দীর্ঘ ইতিহাস, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগের বিষয়টি সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা
শুধু তীর্থক্ষেত্র সার্কিট বা হেরিটেজের মধ্যেই পরিকল্পনা সীমাবদ্ধ রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী। মঠের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঠ সংলগ্ন এলাকায় নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্পের নকশা অনুমোদনের জন্য কর্পোরেশনে যে অর্থ দেওয়ার কথা ছিল, সেটিও মকুব করা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
এর পাশাপাশি ছোট পার্কিং এলাকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মঠে একটি বহুমুখী প্রেক্ষাগৃহ এবং মৃদঙ্গ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও প্রশিক্ষণমূলক পরিকাঠামো তৈরির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ছাত্রীবাস, বৃদ্ধাবাস
বাগবাজার গৌড়ীয় মঠের চল্লিশটি শাখা রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে মঠের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কাজের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
মঠের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ছাত্রীবাস এবং বৃদ্ধাবাস তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে মঠকে ঘিরে ধর্মীয় পরিসরের পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মঠের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামগ্রিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় আরও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থাগুলির সহযোগিতায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
বিভাজনের বিরুদ্ধে বার্তা, বাংলার সঙ্গে চৈতন্যের যোগের উল্লেখ
রাধা অষ্টমীর অনুষ্ঠানে ভাষা, জাতি এবং বিভিন্ন প্রথার নামে বিভাজনের বিরুদ্ধেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে বাংলার ঐতিহাসিক ধর্মীয় যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠকে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয়। মঠের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কথাও অনুষ্ঠানে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, রাধা অষ্টমীর অনুষ্ঠানে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠকে ঘিরে মূলত তিনটি বিষয় সামনে এসেছে—তীর্থক্ষেত্র সার্কিটে অন্তর্ভুক্তি, হেরিটেজের গুরুত্ব এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। মঠের ঐতিহ্য বজায় রেখে ভবিষ্যতে উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
#BagbazarGaudiyaMath #Bagbazar #GaudiyaMath #PilgrimageCircuit #HeritageCommission #RadhaAshtami #KolkataHeritage #ReligiousHeritage #WestBengalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

