Cancer Drug Prices in India: কোন ওষুধে কত সাশ্রয়, আর কোথায় দাম অপরিবর্তিত থাকছে?
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ক্যানসারের চিকিৎসায় শুধু রোগের সঙ্গে লড়াই করতে হয় না, অনেক পরিবারকে প্রতিদিন লড়তে হয় চিকিৎসার বিপুল খরচের সঙ্গেও। ওষুধ, পরীক্ষা, হাসপাতালে যাতায়াত, চিকিৎসকের ফি—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা একটি পরিবারের সঞ্চয়কে দ্রুত ফুরিয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যানসারের ওষুধের দাম কমার খবর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই খবরের আসল তাৎপর্য বুঝতে হলে শুধু দাম কমার ঘোষণায় থেমে থাকলে চলবে না, দেখতে হবে কোন ওষুধের দাম কতটা বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তন রোগীর চিকিৎসার মোট খরচে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (National Pharmaceutical Pricing Authority বা NPPA) ২৮ অক্টোবর ২০২৬-এ ৫৪৩টি ক্যানসারের ওষুধের ব্র্যান্ডের সংশোধিত সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের তালিকা প্রকাশ করেছে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা ৯ নভেম্বর থেকে। এই তালিকায় কয়েকটি ওষুধের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস দেখা যাচ্ছে। কোনও কোনও ব্র্যান্ডের দাম আগের তুলনায় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। কিন্তু এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সব ক্যানসারের ওষুধ কি সস্তা হচ্ছে, নাকি মূলত কিছু ওষুধের ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আসছে?
সরকারি ঘোষণা এবং সংশোধিত মূল্যতালিকা বলছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ওষুধ সরবরাহের বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক মার্জিন নিয়ন্ত্রণ করা। ফলে কয়েকটি ওষুধের ক্ষেত্রে রোগীরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক স্বস্তি পেতে পারেন। অন্যদিকে, যেসব দাম এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে বা যেসব অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা এই পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাচ্ছে না, সেগুলিও আলোচনার বাইরে রাখা যায় না। তাই ৯ নভেম্বরের আগে রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে জরুরি হল, নিজের প্রেসক্রিপশনে থাকা নির্দিষ্ট ওষুধটির নতুন দাম যাচাই করা।
কেন ক্যানসারের ওষুধের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
ক্যানসারের চিকিৎসায় সব রোগী একই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করেন না। ক্যানসারের ধরন, রোগের পর্যায়, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসকের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ওষুধের প্রয়োজন বদলে যায়। কোনও রোগীর চিকিৎসায় ট্যাবলেট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে ইনজেকশন, কেমোথেরাপি বা ইমিউনোথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে একটি নির্দিষ্ট ওষুধের দাম কমার প্রভাব সব রোগীর ক্ষেত্রে একরকম হবে না।
কেন্দ্রীয় সরকারের ২৮ অক্টোবরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, NPPA ৫৪৩টি অ্যান্টি-ক্যানসার ওষুধের ব্র্যান্ডের সংশোধিত Maximum Retail Price বা MRP প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বিভিন্ন ওষুধের ব্র্যান্ড, ডোজ, ওষুধের ধরন এবং প্যাকেটের আকার অনুযায়ী দাম দেওয়া হয়েছে। তালিকাটি ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সংস্থাগুলি পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য জমা দিলে তালিকাটি আরও আপডেট করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে Trade Margin Rationalisation (TMR) বা ওষুধের সরবরাহ ও বিক্রির বিভিন্ন স্তরে বাণিজ্যিক মার্জিন যুক্তিসংগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ। ১৭ অক্টোবর NPPA ১৩৭টি নির্দিষ্ট নন-শিডিউলড অ্যান্টি-ক্যানসার ওষুধের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ঘোষণা করেছিল। নন-শিডিউলড ওষুধের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাভুক্ত ওষুধের মতো নিয়মিত মূল্যসীমা প্রযোজ্য হয় না। তবে তার অর্থ এই নয় যে এই ওষুধগুলির উপর কোনও সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই।
নতুন ব্যবস্থায় চিহ্নিত ওষুধগুলির সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক মার্জিন ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল, উৎপাদক থেকে স্টকিস্ট, পরিবেশক এবং খুচরো বিক্রির বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত মার্জিনের কারণে ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমানো। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলির MRP তাদের আগের মূল্যকাঠামোর উপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। ১৩৭টি ওষুধ হল নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা ওষুধের তালিকা, আর ৫৪৩টি হল সংশোধিত দামের তালিকায় থাকা ব্র্যান্ডের সংখ্যা। একই ওষুধ বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডোজ এবং প্যাকেটের আকারে বিক্রি হতে পারে। তাই এই দুটি সংখ্যাকে একই অর্থে ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
সরকারি সূত্র: ২৮ অক্টোবরের PIB বিজ্ঞপ্তি এবং ১৭ অক্টোবরের TMR সংক্রান্ত ঘোষণা।
কোন কোন ওষুধের দাম কমছে? কয়েকটি উদাহরণে স্পষ্ট হচ্ছে পরিবর্তনের ছবি
সংশোধিত মূল্যতালিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, কয়েকটি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে পুরনো ও নতুন দামের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যানাস্ট্রোজোল, অ্যাজাসিটিডিন, বেভাসিজুম্যাব, ডাসাটিনিব এবং ডেনোসুম্যাবের মতো ওষুধ।
RPG Life Sciences-এর Anarzole ব্র্যান্ডের অ্যানাস্ট্রোজোল ১ মিলিগ্রামের ১০টি ট্যাবলেটের পুরনো MRP ছিল ৬৯৫.৭৬ টাকা। সংশোধিত তালিকায় তা ৭৩ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট প্যাকেটের ক্ষেত্রে দামের পরিবর্তন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।
Dr. Reddy’s Laboratories-এর Azacytin ব্র্যান্ডের অ্যাজাসিটিডিন ১০০ মিলিগ্রামের একটি ইনজেকশনের পুরনো MRP ছিল ৬,৩৩৭ টাকা। সংশোধিত দাম হয়েছে ১,৪৯৫.০৪ টাকা। Abbott Healthcare-এর Bevacizab ব্র্যান্ডের বেভাসিজুম্যাব ১০০ মিলিগ্রাম/৪ মিলিলিটারের ইনজেকশনের দাম ২১,৭৬৭.৭০ টাকা থেকে কমে ৫,৯৩০.১৩ টাকা হয়েছে।
একইভাবে, Natco Pharma-র Dasanat 20 ব্র্যান্ডের ডাসাটিনিব ২০ মিলিগ্রামের ৬০টি ট্যাবলেটের দাম ২,৮১২.৫০ টাকা থেকে কমে ১,০৮৫.৯৩ টাকা হয়েছে। RPG Life Sciences-এর Debrumab 60 mg ব্র্যান্ডের ডেনোসুম্যাব ৬০ মিলিগ্রামের একটি প্রি-ফিলড সিরিঞ্জের দাম ২২,০৩১.২৫ টাকা থেকে কমে ৫,৯৪১ টাকা হয়েছে।
এই উদাহরণগুলি দেখায়, সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডগুলির ক্ষেত্রে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। তবে এগুলি নির্বাচিত উদাহরণ, পুরো তালিকার গড় মূল্যহ্রাসের হিসাব নয়। প্রতিটি ওষুধের ক্ষেত্রে একই হারে দাম কমেছে, এমন সিদ্ধান্তও এই তথ্য থেকে টানা যাবে না।
২৯ অক্টোবর NDTV-র প্রকাশিত প্রতিবেদনেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশের বেশি মূল্যহ্রাসের কথা উঠে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে, Palbopro ব্র্যান্ডের Palbociclib ১২৫ মিলিগ্রামের ২১টি ক্যাপসুলের দাম ৪০,৪২১.৩৩ টাকা থেকে কমে ২,৭২০ টাকা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার Samtepa ব্র্যান্ডের Thiotepa ১০০ মিলিগ্রামের একটি ভায়ালের দাম ৮০,০৭১.৮৬ টাকা থেকে কমে ৭,১৫০.৩৩ টাকা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওষুধের দাম কমার শতাংশ দেখার পাশাপাশি প্যাকেটের আকার, ডোজ এবং নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নামও মিলিয়ে দেখতে হবে। একই জেনেরিক নামের সব ব্র্যান্ডের দাম সমান হবে, এমন নয়। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে থাকা ওষুধের বদলে অন্য ব্র্যান্ড কেনার সিদ্ধান্ত রোগী নিজে নেবেন না। চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের পরিচয় এবং নির্ধারিত ডোজ যাচাই করাই নিরাপদ।
মূল সূত্র: NPPA-র সংশোধিত মূল্যতালিকা এবং NDTV-র মূল্যপরিবর্তন সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
সব ক্যানসারের ওষুধ কি সস্তা হবে? এখানেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
ক্যানসারের ওষুধের দাম কমার খবর স্বস্তির হলেও, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হলে এর সীমাবদ্ধতাগুলিও জানা প্রয়োজন। প্রথমত, ৫৪৩টি ব্র্যান্ডের সংশোধিত MRP প্রকাশিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে তালিকার প্রতিটি ওষুধের দাম একই পরিমাণে কমেছে। কিছু ব্র্যান্ডে বড় পরিবর্তন হয়েছে, আবার কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ক্যানসারের চিকিৎসার মোট খরচ শুধুমাত্র ওষুধের MRP দিয়ে নির্ধারিত হয় না। রোগীর কতদিন চিকিৎসা চলবে, কত ডোজ ওষুধ প্রয়োজন হবে, হাসপাতালে থাকার দরকার হবে কি না, কী কী পরীক্ষা করতে হবে এবং অন্য কোন চিকিৎসা লাগবে—এসবের উপরও মোট ব্যয় নির্ভর করে। ফলে কোনও একটি ওষুধের দাম ৫০ শতাংশ কমলেও পরিবারের সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ ৫০ শতাংশ কমবে, এমন দাবি করা যাবে না।
তৃতীয়ত, কয়েকটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ওষুধের ক্ষেত্রে এই মূল্যপরিবর্তনের সুবিধা সীমিত। ২৯ অক্টোবর NDTV-র একটি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু উচ্চমূল্যের চিকিৎসা, যার মধ্যে Keytruda-র মতো ওষুধও রয়েছে, সংশোধিত তালিকায় একই ধরনের মূল্যহ্রাস পায়নি। ফলে বাণিজ্যিক মার্জিন নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধের উৎপাদনমূল্য বা মূল বিক্রয়মূল্য নিয়ন্ত্রণ যে এক বিষয় নয়, তা বোঝা জরুরি।
এই প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগঠন Jan Swasthya Abhiyaan India-ও ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলেছে, একবারের মূল্যহ্রাস দীর্ঘমেয়াদে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট কি না। সংগঠনটি আরও নিয়মিত নজরদারি, স্বাধীন যাচাই এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণে বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। এটি একটি জনস্বাস্থ্য সংগঠনের মূল্যায়ন, সরকারি সিদ্ধান্তের সমতুল্য কোনও নির্দেশ নয়। তবে মূল্যহ্রাসের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে এই সমালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, নতুন ব্যবস্থা কয়েকটি ওষুধের ক্ষেত্রে রোগীদের উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় দিতে পারে। কিন্তু ক্যানসারের চিকিৎসাকে সামগ্রিকভাবে সবার নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে ওষুধের দাম, হাসপাতালের খরচ, চিকিৎসার প্রাপ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা—সব দিকেই নজর দিতে হবে।
সূত্র: NDTV-র ২৯ অক্টোবরের বিশ্লেষণ।
৯ নভেম্বরের আগে রোগী ও পরিবারের কী করা উচিত?
নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগে রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হল, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে থাকা ওষুধের নাম, ব্র্যান্ড, ডোজ এবং প্যাকেটের আকার মিলিয়ে সংশোধিত মূল্যতালিকা পরীক্ষা করা। NPPA-র ওয়েবসাইটে সংশোধিত MRP-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি Pharma Sahi Daam অ্যাপের মাধ্যমেও ওষুধের দাম যাচাই করার সুযোগ দিয়েছে।
কোনও ওষুধের নতুন দাম তালিকায় পাওয়া গেলে পুরনো বিল বা প্যাকেটের MRP-এর সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। ৯ নভেম্বর থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হওয়ার কথা। সেই তারিখের পরও যদি কোনও দোকান বা হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ওষুধের ক্ষেত্রে পুরনো MRP নেয়, তাহলে প্রথমে বিল, ওষুধের প্যাকেট এবং সংশোধিত মূল্যতালিকার তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে NPPA-র হেল্পলাইন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
তবে শুধু দাম কমেছে বলে ওষুধের ব্র্যান্ড বা ডোজ নিজে থেকে বদলানো উচিত নয়। ক্যানসারের চিকিৎসায় ওষুধের ধরন, মাত্রা এবং ব্যবহারের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম দামের বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে হলে চিকিৎসক বা যোগ্য ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সরকার জানিয়েছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে সংশোধিত মূল্যতালিকা নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে এবং খুচরো বিক্রেতা ও হাসপাতালগুলিকে নতুন দাম জানাতে হবে। হাসপাতালগুলিকেও সংশোধিত মূল্য প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়েও নির্দেশ রয়েছে, যাতে মূল্যহ্রাসের ফলে বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি না হয়।
এখানে আরও একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। ২৮ অক্টোবরের সরকারি তালিকাটি ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সংস্থাগুলির জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। NPPA জানিয়েছে, নতুন তথ্য এলে তালিকা আপডেট করা হবে। তাই ওষুধের দাম যাচাই করার সময় সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকাটি দেখা উচিত, পুরনো সংবাদপ্রতিবেদনে দেওয়া দামকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
মূল সূত্র: NPPA-র সরকারি ওয়েবসাইট।
ক্যানসারের চিকিৎসায় আর্থিক স্বস্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই স্বস্তি কতটা বাস্তবে রোগীদের কাছে পৌঁছচ্ছে, তা বোঝার জন্য নিয়মিত মূল্যপরিবর্তন, বাজারে ওষুধের প্রাপ্যতা এবং হাসপাতালের বিলের দিকে নজর রাখতে হবে। ৯ নভেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট রোগীদের জন্য সেটি হবে নিজের ওষুধের খরচ আবার যাচাই করে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
আপনার পরিবারের কেউ ক্যানসারের চিকিৎসা করালে, প্রেসক্রিপশনের ওষুধের নাম ও ডোজ মিলিয়ে সরকারি মূল্যতালিকা পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে খরচ নিয়ে আলোচনা করুন। এই বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে জানাতে পারেন। স্বাস্থ্য ও জনস্বার্থে আরও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন পেতে চোখ রাখুন NewsOffBeat-এ।
১. ক্যানসারের ৫৪৩টি ওষুধের নতুন দাম কবে থেকে কার্যকর হবে?
ক্যানসারের ৫৪৩টি ওষুধের ব্র্যান্ডের সংশোধিত সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) ৯ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে নির্দিষ্ট ওষুধের নতুন দাম জানতে NPPA-র সর্বশেষ সরকারি মূল্যতালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।
২. ক্যানসারের ওষুধের দাম কি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে?
কিছু নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশেরও বেশি মূল্যহ্রাসের উদাহরণ প্রকাশিত হয়েছে। তবে সব ক্যানসারের ওষুধের দাম ৯০ শতাংশ কমেনি। মূল্যহ্রাস নির্ভর করছে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড, ডোজ এবং প্যাকেটের আকারের উপর।
৩. ক্যানসারের ওষুধের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোন সংস্থা?
ভারতের National Pharmaceutical Pricing Authority (NPPA) সংশোধিত ওষুধের মূল্যতালিকা প্রকাশ করেছে। ওষুধের দামের উপর নজরদারি এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে এই সরকারি সংস্থা।
৪. নিজের ক্যানসারের ওষুধের নতুন দাম কীভাবে যাচাই করবেন?
ওষুধের ব্র্যান্ডের নাম, জেনেরিক নাম, ডোজ এবং প্যাকেটের আকার মিলিয়ে NPPA-র সরকারি ওয়েবসাইটের সংশোধিত মূল্যতালিকা দেখুন। প্রয়োজনে Pharma Sahi Daam অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। ওষুধের ব্র্যান্ড বা ডোজ পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৫. ক্যানসারের ওষুধের দাম কমলে কি চিকিৎসার মোট খরচও কমবে?
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। তবে চিকিৎসার মোট ব্যয় নির্ভর করে ওষুধের পাশাপাশি পরীক্ষা, হাসপাতালের খরচ, চিকিৎসার মেয়াদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার উপর। তাই ওষুধের দাম কমলেই সবার চিকিৎসার মোট খরচ একই অনুপাতে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- জেনে নিন বন্দেমাতরম (National Song) সম্পর্কে নানা অজানা কথা। unknown story of vande mataram
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই
- মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

