নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন দায়িত্ব শুরু করার আগে জনপ্রতিনিধিদের পাশে দাঁড়াল স্থানীয় সমাজ। রাজস্থানের চৌমুতে খণ্ডেলওয়াল সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নগর পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি আশিস দুসাদ, উপসভাপতি বাবুলাল সাইনি এবং কাউন্সিলর মাতাদিন আগরওয়ালকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে। চৌমুর খণ্ডেলওয়াল ধর্মশালায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজের প্রবীণ সদস্য, পদাধিকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সমাজের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও উঠে আসে।
স্থানীয় কোনও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু পদ সামলানো নয়। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা বোঝা, নাগরিক সমস্যার দিকে নজর দেওয়া এবং উন্নয়নের কাজে অংশ নেওয়াও সেই দায়িত্বেরই অংশ। চৌমুতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিন জনপ্রতিনিধিকে একসঙ্গে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে তাঁদের নতুন দায়িত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। তবে নগর পরিষদের আগামী দিনের কাজ বা কোনও নির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনুষ্ঠানে ঘোষণা হয়েছে বলে আয়োজকদের বিবৃতিতে উল্লেখ নেই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থান বিজেপির প্রধান মুখপাত্র ও প্রাক্তন বিধায়ক রামলাল শর্মা। খণ্ডেলওয়াল সমাজের সংরক্ষক অমরচাঁদ রাওয়াত, ওমপ্রকাশ কাসলিওয়াল, কৈলাশ শেঠি, মূলচাঁদ দুসাদ এবং মহেন্দ্র তাম্বোলিয়া-সহ সমাজের প্রবীণ সদস্যরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সমাজের সভাপতি মুকেশ খুটেটা, সহ-সভাপতি গোবিন্দ ঝালানি, মন্ত্রী বীরেন্দ্র খণ্ডেলওয়াল, যুগ্ম মন্ত্রী রমেশ ডগায়চ এবং কোষাধ্যক্ষ নবীন কাসলিওয়ালও আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অতিথিদের পাগড়ি ও মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সন্ত সুন্দরদাসজির ছবি। এই সম্মাননার মধ্যে দিয়ে সমাজের তরফে নতুন জনপ্রতিনিধিদের প্রতি শুভেচ্ছা ও সৌজন্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে সমাজের উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের উপর জোর দেন।
অখিল ভারতীয় খণ্ডেলওয়াল বৈশ্য মহাসভার জাতীয় মুখপাত্র ও মিডিয়া ইনচার্জ এবং সিকিম প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক রমেশ কুমার রাওয়াত এই আয়োজনের জন্য চৌমু খণ্ডেলওয়াল সমাজের সভাপতি মুকেশ খুটেটা, তাঁর দল এবং সমাজের সংরক্ষকদের অভিনন্দন জানান। তিনি অনুষ্ঠানের আয়োজকদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাজের প্রাক্তন সভাপতি জুগল ডগায়চ-সহ বহু সদস্য এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গোবিন্দ দুসাদ, রামঅবতার দুসাদ, রামকৃষ্ণ দুসাদ, নবলকিশোর রাওয়াত, রণছোড় মোদি, রামরতন রাওয়াত, মনোজ মেঠি, বন্টি দুসাদ, চন্দ্রপ্রকাশ ঝালানি, মহেশ কাসলিওয়াল, দামোদর প্রসাদ রাওয়াত এবং জয়েশ রাওয়াত। আরও বহু সমাজসদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা সংবর্ধনায় যোগ দেন।
চৌমুর এই আয়োজনের গুরুত্ব মূলত স্থানীয় সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের জায়গাটিতে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতির কথা বলা হয়েছে এবং উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বার্তা বাস্তবে কীভাবে নাগরিক পরিষেবা বা সমাজকল্যাণের কাজে রূপ পাবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের উদ্যোগের উপর।

