Chomu Ashok Vihar Borewell Crisis: রাজস্থানের চোমুর অশোক বিহারে তীব্র জলসংকট দেখা দিয়েছে। আট মাসে ২১ বার সরকারি বোরওয়েল বিকল হওয়ায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে। স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এলাকাবাসী।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজস্থানের চোমুর অশোক বিহার কলোনিতে স্থাপিত সরকারি বোরওয়েল গত আট মাসে ২১ বার বিকল হয়ে পড়েছে। বারবার এই সমস্যা দেখা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের দাবিতে অশোক বিহারের বাসিন্দা ও বর্তমানে গ্যাংটকে কর্মরত রমেশ কুমার রাওয়াত চোমুর এসডিএম আশীষ শর্মার কাছে ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছেন।
তিনি শুধু এসডিএমকেই নয়, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, জনস্বাস্থ্য ও জল সরবরাহমন্ত্রী কানহাইয়ালাল, মুখ্যসচিব ভি. শ্রীনিবাসন, জল জীবন মিশনের (JJM) এমডি ও এক্স-অফিসিও সচিব রাজন বিশাল-এর কাছেও ই-মেলের কপি পাঠিয়েছেন।
এর আগে ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ এবং লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জল সরবরাহ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী (AEN) সুনীল কুমাওয়াতের কাছেও একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পানীয় জলের তীব্র সংকটে এলাকাবাসী
বোরওয়েলটি বারবার বিকল হওয়ায় অশোক বিহার এলাকার বহু পরিবার নিয়মিত পানীয় জল পাচ্ছেন না। যেসব পরিবারের বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছায় না, তারা বোরওয়েলের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কল থেকে জল সংগ্রহ করে রান্না ও দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বোরওয়েল অচল থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া কলোনির শিবমন্দিরে ভগবান শিব (বাবা ভোলেনাথ) ও তাঁর পরিবারের নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং মন্দির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও জল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
বারবার বিকলের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোরওয়েলটি বিভিন্ন সময়ে ফিউজ পুড়ে যাওয়া, বৈদ্যুতিক তার নষ্ট হওয়া, মোটর বিকল হওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা, কন্ট্রোল বক্সের ত্রুটি, অতিরিক্ত লোড এবং পাইপ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার মতো নানা কারণে অচল হয়ে পড়ছে।
রমেশ কুমার রাওয়াত প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, বোরওয়েলের সম্পূর্ণ কারিগরি পরীক্ষা করে সব ত্রুটি একসঙ্গে মেরামত করা হোক, যাতে এটি অন্তত কয়েক মাস বা এক থেকে দুই বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল থাকে, যেমন এলাকার অন্যান্য বোরওয়েলগুলো চলছে।
জল না পেলেও নিয়মিত বিল দিচ্ছেন বাসিন্দারা
চোমুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM)-এর কাছেও পাঠানো এক ই-মেলে রমেশ কুমার রাওয়াত অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাড়িতে বহু বছর ধরে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হচ্ছে না। তবুও তিনি নিয়মিত জল সরবরাহ বিভাগের বিল পরিশোধ করছেন। তিনি বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই বোরওয়েল বারবার বিকল হওয়ায় প্রতিবারই জল সরবরাহ বিভাগের কর্মী, ঠিকাদার ও তাঁদের কর্মীরা গিয়ে মেরামতের কাজ করেন। প্রতিটি মেরামতে আনুমানিক ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
চোমু শহরে প্রায় ১৪৪টি বোরওয়েল রয়েছে, যেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি বছর বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ পরিকল্পনা ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিলে এই ব্যয় অনেকটাই কমানো সম্ভব। সাশ্রয় হওয়া অর্থ নতুন বোরওয়েল স্থাপন বা বিকল্প জল প্রকল্পে ব্যয় করা যেতে পারে।
এছাড়া একই বোরওয়েল বারবার মেরামত করতে যাওয়ায় সরকারি কর্মীদের সময় ও জনবলও অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এসডিএমের সঙ্গে ফোনে কথা
২০২৬ সালের ১১ জুন সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটে রমেশ কুমার রাওয়াত প্রায় দুই মিনিট তিন সেকেন্ড ধরে চোমুর এসডিএম আশীষ শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং জল সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
রমেশ কুমার রাওয়াতের দাবি, এসডিএম তাঁকে জানান, প্রতিদিন অসংখ্য ফোন কল আসে এবং প্রত্যেককে দীর্ঘ সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর তিনি সমস্যাটি সংক্ষেপে লিখিত বার্তায় পাঠাতে বলেন এবং সেদিন সন্ধ্যার মধ্যেই জল সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।
জবাবে রমেশ কুমার রাওয়াত এসডিএমকে অনুরোধ করেন, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ইতিমধ্যেই ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, সেটি পর্যালোচনা করে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

