College Admission Trends: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা নামী কলেজগুলোতে কেন হঠাৎ স্নাতক স্তরের আসন কমানো হচ্ছে? ঐতিহ্যবাহী বিষয়ের বদলে পড়ুয়ারা এখন কোন দিকে ঝুঁকছে? বিস্তারিত জানুন।.
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলেজে ভর্তির (College Admission) সময় মানেই একসময় ছিল তুমুল প্রতিযোগিতা। নামী কলেজগুলোতে একটি সিট পাওয়ার জন্য পড়ুয়াদের মধ্যে চলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিশেষ করে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনের মতো ঐতিহ্যবাহী বিষয়গুলোতে ভর্তি হওয়ার উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে, আর তার সঙ্গে বদলাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা। সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) অধীনে থাকা কলেজগুলোর স্নাতক স্তরের (Undergraduate) ভর্তির চিত্র কিন্তু এক অন্য গল্প বলছে।
পড়ুয়াদের মধ্যে চাহিদার অভাবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কলেজগুলোতে স্নাতক স্তরের আসন (UG Seats) কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ বিষয়গুলোতে আর আগের মতো ভিড় জমাচ্ছেন না ছাত্রছাত্রীরা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সম্প্রতি স্কটিশ চার্চ কলেজের (Scottish Church College) চারটি বিভাগের আসন কমানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। এই বিষয়গুলো হলো বাংলা, দর্শন, সংস্কৃত এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি প্রোগ্রাম (যা আগে পাস পেপার নামে পরিচিত ছিল)।
কলেজের অধ্যক্ষা মধুমঞ্জরী মণ্ডল জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে পড়ুয়াদের ভর্তির প্রবণতা বা ট্রেন্ড পর্যালোচনা করেই আসন কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যায়, স্কটিশ চার্চ কলেজে বাংলার আসন ৪৪ থেকে কমিয়ে ২৫ করা হয়েছে। একইভাবে, দর্শনে আসন ৫৫ থেকে ২৫, সংস্কৃতে ৫০ থেকে ২০ এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি প্রোগ্রামের আসন ১০০ থেকে কমিয়ে সরাসরি অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০ করা হয়েছে।
পেশাদার কোর্সের (Professional Courses) দিকেই কি ঝুঁকছে তরুণ প্রজন্ম?
আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, ছাত্রছাত্রীরা যদি এই বিষয়গুলো না পড়ে, তবে তারা পড়ছেটা কী? এর উত্তর লুকিয়ে আছে কেরিয়ারের নতুন সংজ্ঞার মধ্যে। স্কটিশ চার্চ কলেজে একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী বিষয়গুলোর আসন কমানো হয়েছে, ঠিক উল্টোদিকে ব্যাচেলর অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (BBA) কোর্সের আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। অধ্যক্ষা জানিয়েছেন, চাহিদার ভিত্তিতেই তারা এই আসন বৃদ্ধির সপক্ষে নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন।
শুধুমাত্র একটি কলেজ নয়, অন্যান্য কলেজগুলোও একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে। নিউ আলিপুর কলেজের (New Alipore College) অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে গণিত, অর্থনীতি, বাংলা এবং সংস্কৃতের মতো বিষয়গুলোতে কম ভর্তির কারণে মোট ২২৫টি স্নাতক স্তরের আসন কমানোর আবেদন করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পড়ুয়ারা এখন এমন কোর্স বেছে নিচ্ছেন, যা তাঁদের সরাসরি কর্পোরেট জগতে বা পেশাদার ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ করে দেবে। এটি নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মের একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং স্মার্ট সিদ্ধান্ত (Smart Decision)।
ফাঁকা আসনের প্রভাব এবং স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট
কলেজগুলো কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আসন কমাতে চাইছে, তার পেছনে একটি বড় প্রশাসনিক কারণও রয়েছে। শিক্ষক মহল থেকে জানানো হয়েছে যে, কলেজগুলোর জেনারেল স্ট্রিমে একটি বড় সংখ্যক আসন ফাঁকাই থেকে যাচ্ছে। এই বিষয়ে লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজের (Lady Brabourne College) অধ্যক্ষা শিউলি সরকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কলেজগুলো আসন সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারে। কিন্তু আসন ফাঁকা রাখা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ এটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক (NIRF)-এ কলেজের পারফরম্যান্স বা র্যাঙ্কিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাসও কলেজগুলোকে চাহিদার বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন করতে উৎসাহিত করেছেন, যাতে পরিকাঠামো এবং সম্পদের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার করা যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্যান্য কলেজগুলো থেকেও এই ধরনের আসন কমানোর অনুরোধ আসছে, যা এখন পর্যালোচনার স্তরে রয়েছে।
ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা কোন পথে?
গত বছর রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) জানিয়েছিলেন যে, সরকারি এবং সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলোতে চাহিদার ঘাটতির কারণে শিক্ষা দপ্তর স্নাতক স্তরের আসন ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করবে। একটি তথ্য জানলে সত্যিই অবাক হতে হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, বেশ কয়েকটি রাউন্ডের ভর্তির পর শিক্ষা দপ্তর কলেজগুলোকে স্বাধীনভাবে ফাঁকা আসন পূরণের নির্দেশ দিয়েছিল। সেন্ট্রালাইজড বা কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে সেই সময় মোট ৯.৪ লক্ষ স্নাতক আসন অফার করা হলেও, মাত্র ২.৭১ লক্ষ পড়ুয়া সেখানে ভর্তি নিশ্চিত করেছিল। এমনকি লেডি ব্র্যাবোর্নের মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানেও কিছু বিষয়ে প্রায় অর্ধেক আসন ফাঁকা ছিল।
এই বিপুল সংখ্যক ফাঁকা আসন কিন্তু কোনো নেতিবাচক দিক নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে পড়ুয়ারা এখন গতানুগতিক স্রোতে গা ভাসাচ্ছে না। তারা তাদের দক্ষতা (Skill Development), প্যাশন এবং ভবিষ্যতের বাজার যাচাই করেই কোর্স নির্বাচন করছে। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার নিজস্ব একটি অপরিসীম মূল্য রয়েছে, তবে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেশাদার কোর্সের দিকে তরুণদের এই ঝোঁক ভবিষ্যতের এক নতুন এবং আত্মবিশ্বাসী ভারতের ছবি তুলে ধরে।
#newsoffbeat #offbeatnews #educationtrends #calcuttauniversity #careerguidance #collegelife.
সাম্প্রতিক পোস্ট
- “ভোট সে তো যুদ্ধ নয়…”— বুথে বুথে এ কোন নতুন উৎসব? যে মানবিক উদ্যোগে ইতিহাস গড়ল বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন!
- বাংলার ভোটে আন্তর্জাতিক চমক! শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াংয়ের বুথে বিদেশি প্রতিনিধিরা, নির্বাচন পরিচালনা দেখে কী বার্তা দিলেন বিশ্বের দরবারে?
- প্রথম দফার ভোটে কী ফল আসতে চলেছে? উল্টে যেতে পারে সমীকরণ, বুথ ফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত বড় চমকের!
- ভুলে ভরা বক্তব্যে নেতারা ট্রোলের টার্গেট! আগামী প্রজন্মের চোখে নেতারা কি তবে হাসির খোরাক? ভুল বার্তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন!
- নতুন ভোটারদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে: জানুন, প্রথমবারের বিশেষ পদ্ধতিতে কীভাবে দিচ্ছেন ভোটাররা ভোট

