Damayanti Sen Chief Minister Medal সম্মান পাচ্ছেন দময়ন্তী সেনসহ ছয়জন পুলিশ আধিকারিক। পেশাগত ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিতে স্বাধীনতা দিবসে তাঁদের হাতে পদক তুলে দেওয়ার কথা। পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের তদন্ত এবং পরবর্তী বদলির পুরনো ঘটনাও নতুন করে আলোচনায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দময়ন্তী সেন-সহ ছয়জনকে মুখ্যমন্ত্রী পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ১৫ আগস্ট তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার কথা। আর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে এসেছে এক দশকেরও বেশি পুরনো সেই অধ্যায়—২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ড, তদন্তে দময়ন্তী সেনের ভূমিকা এবং তার পরবর্তী বদলি। সরকারি নথিতেও দময়ন্তী সেনের পেশাগত কৃতিত্বের স্বীকৃতির নজির রয়েছে; ২০১৪ সালে তিনি পুলিশ মেডেলের প্রাপক ছিলেন।
বর্তমানে দময়ন্তী সেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার আরও একটি কারণ রয়েছে। ২০২৬ সালে তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তাঁকে আবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে এবার মুখ্যমন্ত্রী পদক পাওয়ার খবরকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।
পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের তদন্ত থেকেই আলোচনায় দময়ন্তী সেন
দময়ন্তী সেনের নাম পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসনের ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সেই সময় তিনি কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার, অপরাধ দমন শাখার দায়িত্বে ছিলেন এবং তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা সামনে আসে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একদিকে ছিল ঘটনাটিকে ঘিরে তীব্র জনরোষ, অন্যদিকে তদন্তের গতিপথ নিয়ে নানা প্রশ্ন। সেই পরিস্থিতিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দময়ন্তী সেনের নেতৃত্ব বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসে ঘটনার বিভিন্ন দিক এবং পরিস্থিতিগত প্রমাণ। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। ফলে দময়ন্তী সেনের পেশাগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে এই তদন্ত।
এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর নাম শুধু একজন পুলিশ আধিকারিক হিসেবে নয়, বরং একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং রাজনৈতিকভাবে আলোচিত মামলার তদন্তকারী আধিকারিক হিসেবেও জনমানসে পরিচিত হয়ে ওঠে।
তদন্তের পর বদলি, আর সেখানেই তৈরি হয়েছিল বড় প্রশ্ন
পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের তদন্তের পর দময়ন্তী সেনের বদলি নিয়ে তৎকালীন সময়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের অপরাধ দমন শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ প্রশিক্ষণ কলেজে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত দায়িত্বে পাঠানো হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই সময় এই বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। কিন্তু বদলির সময়কাল এবং তার আগে পার্ক স্ট্রিট মামলার তদন্তে তাঁর ভূমিকার কারণে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।
এই ঘটনাকে ঘিরে দময়ন্তী সেনের পেশাগত জীবনে একটি অধ্যায় তৈরি হয়, যেখানে একদিকে ছিল উচ্চপ্রোফাইল তদন্তে তাঁর ভূমিকা, অন্যদিকে ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাঁর সরিয়ে দেওয়া। পরবর্তী বছরগুলিতে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের সময় পাশে সরিয়ে রাখা আধিকারিকদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বদলিটি যে সরাসরি রাজনৈতিক কারণে হয়েছিল, এমন কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত বা প্রমাণকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সেই সময় প্রশাসনের বক্তব্য ছিল এটি নিয়মিত বদলি। ফলে দময়ন্তী সেনের বদলি নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এবং সরকারি ব্যাখ্যা—দুই দিকই পাশাপাশি দেখতে হয়।
দীর্ঘ তৃণমূল জমানার পর আবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়
সময়ের সঙ্গে দময়ন্তী সেনের কর্মজীবন এগিয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালে তাঁর নাম আবার বড়ভাবে রাজনৈতিক আলোচনায় আসে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকার তৃণমূল জমানায় কথিত প্রশাসনিক অনিয়ম এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে কমিশনগুলি গঠন করে, সেখানে দময়ন্তী সেনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই তাঁর প্রশাসনিক জীবনে নতুন করে প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখেন। দীর্ঘ সময় পর এমন একটি দায়িত্বে তাঁকে আনা হয়, যেখানে আগের সরকারের সময়কার বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটেই এবার মুখ্যমন্ত্রী পদকের খবর সামনে আসায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক সময় যাঁর বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে তিনিই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরলেন এবং এখন রাজ্য সরকারের সম্মানও পেতে চলেছেন।
ফলে দময়ন্তী সেনকে ঘিরে আলোচনাটি শুধুমাত্র একটি পুরস্কার পাওয়ার খবরের মধ্যে আটকে থাকছে না। এর সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে তাঁর দীর্ঘ পেশাগত পথ, পার্ক স্ট্রিট তদন্ত এবং বিভিন্ন সরকারের সময় তাঁর প্রশাসনিক অবস্থানের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ।
‘তিরস্কৃত’ থেকে ‘পুরস্কৃত’—রাজনৈতিক ব্যাখ্যাই এখন আলোচনায়
দময়ন্তী সেনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যে ব্যাখ্যাটি সবচেয়ে বেশি সামনে আসছে, তা হল—তৃণমূল সরকারের সময় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নিয়ে যে বিতর্ক এবং পরবর্তী বদলি হয়েছিল, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তাঁর অবস্থান সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।
এই কারণেই অনেকের মুখে শোনা যাচ্ছে, ‘তৃণমূল জমানায় তিরস্কৃত, বিজেপি জমানায় পুরস্কৃত’। তবে সংবাদ প্রতিবেদনে এই বক্তব্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তিরস্কৃত’ করা হয়েছিল—এমন কোনও সরকারি নথির তথ্য এখানে নেই। বরং নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনগুলি তাঁকে তৎকালীন সরকারের সময় পাশে সরিয়ে রাখা আধিকারিক হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং ২০২৬ সালে নতুন সরকারের অধীনে তাঁর প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করেছে।
দময়ন্তী সেন-সহ ছয়জনের হাতে সম্মান
দময়ন্তী সেনের পাশাপাশি আরও পাঁচজনকে মুখ্যমন্ত্রী পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন জয় কুমার জয়রামন, নীরজ কুমার সিং, প্রণব কুমার এবং কুণাল আগারওয়াল-সহ আরও এক আধিকারিক। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে।
১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এই সম্মান তুলে দেওয়ার কথা। ফলে দময়ন্তী সেনের ক্ষেত্রে এই পুরস্কার তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করছে।
আর এখানেই পুরনো এবং নতুন সময়ের মধ্যে তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। ২০১২ সালে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মামলার তদন্তের কারণে যাঁর বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ২০২৬ সালে সেই আধিকারিকই রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছেন সম্মান।
DamayantiSen #ChiefMinisterMedal #ParkStreetCase #KolkataPolice #PoliceOfficer #WestBengal #IndependenceDay #PoliceMedal
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

