Darjeeling Ropeway Project: দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি পথে পর্যটকদের দীর্ঘ যানজটের সমস্যা কমাতে এবার বড় পরিকল্পনার ভাবনা। কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিংয়ের মধ্যে অত্যাধুনিক রোপওয়ে বা কেবল কার চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও আকর্ষণীয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে মেঘের লুকোচুরি দেখতে দার্জিলিং পাড়ি দেওয়া বাঙালির যেন এক চিরন্তন আবেগ। কিন্তু এই আবেগে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় যানজট। সমতল থেকে পাহাড়ে ওঠার আনন্দ নিমেষেই উবে যায় যখন গাড়ির দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। বিশেষ করে পর্যটনের ভরা মরসুমে (Peak Season) এই যানজট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পর্যটকদের এই দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি দিতে এবার এক অভিনব এবং মেগা পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কার্শিয়াং এবং দার্জিলিং-এর মধ্যে একটি অত্যাধুনিক রোপওয়ে (Ropeway) বা কেবল কার প্রকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
যানজটের দুঃস্বপ্ন: ৩২ কিলোমিটার যেতেই ৬ ঘণ্টা!
পাহাড়ে যানজটের পরিস্থিতি ঠিক কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যান থেকে। গত মে মাসে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে পর্যটকদের সময় লেগেছিল প্রায় আট ঘণ্টা। শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত রাস্তা মাত্র দু’ঘণ্টায় পার হয়ে গেলেও, বাকি পথটুকু যেতেই লেগে গিয়েছিল প্রায় ছয় ঘণ্টা। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, মূলত ঘুম (Ghoom) পার হওয়ার পর থেকেই এই যানজট এক দুঃস্বপ্নের রূপ নেয়।
কিন্তু কেন এই যানজট? (Darjeeling Ropeway Project)
সরকারি আধিকারিকদের মতে, শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং যাওয়ার জন্য মোট তিনটি রাস্তা রয়েছে— হিল কার্ট রোড (Hill Cart Road), রোহিণী রোড (Rohini Road) এবং পাংখাবাড়ি রোড (Pankhabari Road)। এই কারণে গাড়িগুলো সহজেই কার্শিয়াং পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় কার্শিয়াং-এর পর থেকে। কার্শিয়াং এবং দার্জিলিং-এর মাঝের ৩২ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দেওয়ার জন্য একমাত্র ভরসা হলো ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বা হিল কার্ট রোড (NH110)। ভরা মরসুমে গাড়ির এত বিপুল চাপ সামলানোর ক্ষমতা এই একটিমাত্র রাস্তার নেই। আর পাহাড়ি কঠিন ভূপ্রকৃতির (Tough terrain) কারণে এই পথে নতুন করে বিকল্প কোনও রাস্তাও তৈরি করা সম্ভব নয়।
কী থাকছে এই রোপওয়েতে?
যানজটের এই স্থায়ী সমাধানের জন্যই রোপওয়ে প্রকল্পের কথা ভাবা হয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণগুলো
ভ্রমণের সময়কাল: (Darjeeling Ropeway Project)
এই রোপওয়ে চালু হলে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। বর্তমানে পিক সিজনে পর্যটকদের এই পথটুকু যেতেই ৪-৫ ঘণ্টা সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয়।
স্টেশন ও স্টপেজ:
কার্শিয়াং এবং দার্জিলিং-এর মাঝে এই রোপওয়ের মোট ৪-৫টি স্টেশন থাকতে পারে। অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র বা হটস্পটগুলো থেকে পর্যটকদের তুলে নেওয়ার জন্যই এই স্টেশনগুলো তৈরি করা হবে।
প্রকল্পের খরচ:
এই সুবিশাল কেবল-চালিত পরিবহন ব্যবস্থা (Cable-driven transport system) তৈরি করতে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নির্মাণ মডেল: ‘BOOT’ মডেল আসলে কী? (Darjeeling Ropeway Project)
প্রকল্পটি ‘বুট’ (BOOT – Build Own Operate Transfer) মডেলে তৈরি করা হবে। এটি হলো একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (Public-private partnership) বা পিপিপি (PPP) মডেল। এই মডেলে সরকারের খুব একটা খরচ থাকে না। যিনি বা যে সংস্থা ডেভেলপার হিসেবে কাজ করবে, তারাই এই রোপওয়ের নকশা তৈরি করবে এবং নির্মাণের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে। এরপর বিনিয়োগ করা টাকা তুলে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (সাধারণত ১০ থেকে ৩০ বছর) ওই সংস্থাই এই রোপওয়ের মালিকানা ভোগ করবে এবং এটি পরিচালনা করবে। সেই নির্দিষ্ট সময়কাল পেরিয়ে যাওয়ার পর, রোপওয়েটির মালিকানা পুরোপুরি সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা বা ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ (Feasibility study) সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নযোগ্য (Viable) বলে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকার প্রাইভেট পার্টনার খোঁজার জন্য ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (Expression of interest) প্রকাশ করতে চলেছে।
শুধু পর্যটক নয়, রাতে পণ্যও বইবে রোপওয়ে! এই রোপওয়ে প্রকল্পের চমক এখানেই শেষ নয়। পর্যটকদের পাশাপাশি পাহাড়ের দৈনন্দিন জীবনেও গতি আনবে এই কেবল কার। সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে, এই কেবল কার ব্যবহার করে রাতে দার্জিলিং শহরে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে তাজা শাকসবজি— সবকিছুই রাতে রোপওয়ের মাধ্যমে দার্জিলিংয়ে পাঠানো হবে। এর ফলে দার্জিলিং শহরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনকারী ট্রাকের সংখ্যা অনেকটাই কমে যাবে, যা পাহাড়ের রাস্তার ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমিয়ে যানজটমুক্ত করতে সাহায্য করবে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: কালিম্পং থেকে গ্যাংটক! (Darjeeling Ropeway Project)
কার্শিয়াং-দার্জিলিং রোপওয়ে যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে সরকারের ঝুলিতে আরও বড় চমক রয়েছে পর্যটকদের জন্য। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে কালিম্পং (Kalimpong) এবং গ্যাংটককেও (Gangtok) রোপওয়ের মাধ্যমে যুক্ত করার। (Darjeeling Ropeway Project)
বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার জন্য ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের (NH10) ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বর্ষায় ধস নামার (Landslides) কারণে প্রায়শই এই হাইওয়ে বন্ধ করে দিতে হয়। তাই দার্জিলিং-এর রোপওয়ে ঠিকঠাক চললে, রাজ্য সরকার কালিম্পং এবং গ্যাংটককে জুড়তেও একই রকম প্রকল্প হাতে নেবে। যেহেতু এই এলাকাটি চীন সীমান্তের (China border) খুব কাছাকাছি, তাই সেখানে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার কেন্দ্রের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন এক আধিকারিক। (Darjeeling Ropeway Project)
সব মিলিয়ে বলাই যায়, রাজ্য সরকারের এই রোপওয়ে প্রকল্প পাহাড়ের পর্যটন মানচিত্রে এক আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে। পর্যটকরা সড়কপথে কার্শিয়াং পৌঁছে সেখান থেকে কেবল কারে সোজা দার্জিলিং পৌঁছে গেলে যানজটের সমস্যা অনেকটাই মিটবে। মেঘের ওপর দিয়ে ভেসে ভেসে মাত্র ৪৫ মিনিটে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পাড়ি দেওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য এখন প্রহর গুনছেন ভ্রমণপিপাসুরা। (Darjeeling Ropeway Project)
#DarjeelingRopeway #Darjeeling #Kurseong #DarjeelingTourism #WestBengalTourism #RopewayProject #CableCar #NorthBengal #HillTourism
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

