Debraj Chakraborty Investigation: পনেরো দিনের গা ঢাকা, নগদ টাকায় যাতায়াত, নতুন ফোন ও একাধিক অভিযোগ ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন পালানোর নেপথ্যের সম্ভাব্য যোগাযোগ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারের পর তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় পনেরো দিন ধরে তিনি একাই বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং নিজের অবস্থান গোপন রাখতে একাধিক কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতা ছাড়ার পর দেবরাজ প্রথমে করুণাময়ী থেকে বাসে চেপে ওড়িশায় যান। সেখান থেকে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কেরালায় যান। পরে ধানবাদ হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসেন। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, এই পুরো সময়ে তিনি কোনও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেননি। বরং বাস ও সাধারণ গণপরিবহনে যাতায়াত করেছেন, যাতে সহজে নজরে না পড়েন। এমনকি কোনও ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও সঙ্গে রাখেননি বলেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দেবরাজ কোথাও এটিএম কার্ড বা ডিজিটাল লেনদেন ব্যবহার করেননি। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তিনি নগদ টাকা নিয়েই বেরিয়েছিলেন এবং থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই নগদ অর্থ ব্যবহার করেছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছে প্রায় ২০ হাজার টাকা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
তদন্তকারীদের হাতে একটি নতুন স্যামসাং মোবাইল ফোনও এসেছে। সেই ফোনে একটি নতুন সিম ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ফোনে উল্লেখযোগ্য কল রেকর্ড বা বার্তা না থাকলেও, ব্যবহারের পর কোনও তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিচয়পত্র হিসেবে তিনি মূলত ভোটার পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ভোটার পরিচয়পত্রের সাদা-কালো ছবি সহজে শনাক্ত করা যায় না, সেই সুযোগই তিনি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
এছাড়া তিনি বড় বা পরিচিত হোটেলে না উঠে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ছোট লজ বা সস্তার হোটেলে এক রাত করে থেকেছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। কোথাও পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন, আবার কোথাও শুধুমাত্র নগদ টাকা দিয়ে ঘর নিয়েছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, পুরো ঘটনায় দেবরাজ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নিজের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এই সময়ে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, নগদ টাকা কোথা থেকে পাচ্ছিলেন বা কেউ তাঁকে সাহায্য করেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও খোঁজা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের নজরে এখন দেবরাজ চক্রবর্তীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফোনে বর্তমানে তেমন কোনও কল রেকর্ড বা বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, ব্যবহারের পর কিছু তথ্য বা কথোপকথন মুছে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণে ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠিয়ে ডিলিট হওয়া তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যদি কোনও মুছে ফেলা কথোপকথন উদ্ধার হয়, তাহলে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এবং সেই যোগাযোগের নেপথ্যে আর কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বড় চক্রের যোগ ছিল কি না, তা তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, তদন্তের অংশ হিসেবে দেবরাজের স্ত্রী অদিতি মুন্সীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, দেবরাজ কোথায় ছিলেন, সেই বিষয়ে তিনি তদন্তে বিশেষ সহযোগিতা করেননি। সেই কারণেই ভবিষ্যতে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সীকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি বিবেচনা করছে এসটিএফ।
অন্যদিকে, রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেছেন, দেবরাজের বিরুদ্ধে তদন্ত কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নয়। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১৭০ পাতার নথি, জমির দলিল, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং বিভিন্ন নথির ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।
তরুণজ্যোতি তিওয়ারি আরও অভিযোগ করেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, মিরিক এলাকায় জমি বা পাহাড়ি এলাকা কেনার অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্ট বা আদালতের পর্যবেক্ষণ এখনও প্রকাশিত হয়নি।
দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নতুন নয় বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগেই চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল। সেই অভিযোগ সামনে আসার পরই তাঁকে তৎকালীন সময়ে দলীয় প্রার্থী করার বিষয়ে আপত্তি ওঠে এবং সেই কারণে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
রাজনৈতিক মহলেও দেবরাজ চক্রবর্তীর উত্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রথমদিকে তিনি দলীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুব তৃণমূলের সাংগঠনিক দায়িত্বও পান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়া।
#DebrajChakraborty #DebrajInvestigation #WestBengalPolitics #AbhishekBanerjee #PoliticalNews #BengalNews #STF #CID #BreakingNews #CorruptionAllegations
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা
রাতভর খোলা থাকবে দোকান! জানলে অবাক হবেন বদলে যাচ্ছে কলকাতার চেনা ছবি, নতুন নিয়মে চমক

