মেজর মোহিত শর্মার জীবনের প্রভাব পড়েছে বক্স অফিস সফল ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar Mohit Sharma controversy) ফিল্মের উপর। জেনে নিন মোহিত শর্মার জীবনের গল্প, সিনেমাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নানা বিতর্কের কথা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউডের নতুন অ্যাকশন ড্রামা ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) বক্স অফিসে সাফল্যের নতুন রেকর্ড গড়েছে। মুক্তির পর মাত্র পাঁচ দিনেই আয় ছুঁয়েছে ₹২০০ কোটির ঘর, কিন্তু সঙ্গে উঠেছে প্রশ্ন—এই সিনেমাটি কি সত্যিই ভারতের সাহসী সেনা অফিসার মেজর মোহিত শর্মার জীবনের ওপর ভিত্তি করে? নাকি সিনেমাটি কেবল অনুপ্রাণিত, অথচ অনুমতি ছাড়াই বাস্তব জীবনের এক হিরোকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সিনেমাতে।
‘ধুরন্ধর’— দেশপ্রেমের গল্প
‘ধুরন্ধর’ ছবির পরিচালক আদিত্য ধর এবং প্রযোজনা সংস্থা দাবি করছে, সিনেমাটি কাল্পনিক, কিন্তু দর্শক এবং সামরিক মহলের অনেকেই বলছেন, এতে মেজর মোহিত শর্মার জীবনের বহু ঘটনার ছাপ স্পষ্ট। ছবির প্রধান চরিত্র গোপন মিশনে কর্মরত প্যারাকমান্ডো, যিনি কাশ্মীরে নিজের পরিচয় গোপন রেখে এক দলে অনুপ্রবেশ করেন — ঠিক যেমনটা করেছিলেন বাস্তবের মেজর মোহিত শর্মা। এই মিল থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনা, আর পরে তা বিতর্কে রূপ নেয়। অনেকেই বলছেন, সিনেমাটি কাল্পনিক বলে দাবি করলেও এতে বাস্তব তথ্যের অপব্যবহার হয়েছে। পরিবারের তরফে এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
কে ছিলেন মেজর মোহিত শর্মা ?
মেজর মোহিত শর্মা মরণোত্তর অশোকচক্র পদকপ্রাপ্ত স্পেশাল ফোর্স এর অফিসার ছিলেন। ১৯৭৮ সালে জন্ম হরিয়ানার রোহতকে। দ্বাদশ শ্রেণীর পর ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়েছিলেন। কলেজ চলাকালীন তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, এনডিএ পরীক্ষায় পাস করে জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমিতে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে তিনি প্যারাশুট রেজিমেন্টে যোগ দেন, এবং ২০০৯ সালে শোপিয়ান অভিযানে শহিদ হন।
তাঁর গোপন অভিযানের গল্প এতটাই অবিশ্বাস্য যে তা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। তিনি ‘ইকবাল’ নামে পরিচয় গোপন রেখে কাশ্মীরে জঙ্গিদের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন। সেই সাহসিকতার জন্যই তাঁকে মরণোত্তর অশোক চক্রে ভূষিত করা হয়।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন মোহিত শর্মা
শুধুমাত্র দক্ষ সেনা অফিসার নয়, সংগীতকে মন থেকে ভালোবেসে ছিলেন। যতটা দক্ষতার সঙ্গে শত্রুর বিনাশ করতেন, দক্ষতার সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন একক এবং গ্রুপে। বীরের মতো ছিল তার মৃত্যু। কাশ্মীরের কূপওয়ারার জঙ্গলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালান। রক্ষা করেছিলেন তার সতীর্থদের। কিন্তু গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবার ও সেনা মহলের প্রতিক্রিয়া (Dhurandhar Mohit Sharma controversy)
মেজর মোহিত শর্মার পরিবার জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাঁর স্ত্রী ঋষিমা শর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমরা চাই তাঁর গল্প সবাই জানুক, কিন্তু সেটি যেন মর্যাদা ও সত্যের সঙ্গে বলা হয়। কেউ যদি তা বিকৃত করে বানিজ্যিক লাভ করে, সেটা বেদনাদায়ক।” ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত অফিসাররাও বলেছেন, সেনার অভিযানের কনফিডেনশিয়াল ডিটেল বা অপারেশন স্ট্র্যাটেজি যদি সিনেমায় হুবহু দেখানো হয়, তা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলে। তবে ছবির নির্মাতারা জানিয়েছেন, সিনেমাটি কোনো একজন সেনার জীবনীকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি। একাধিক বাস্তবের হিরোর গল্প এটি। ভারতের ফিল্ম সেন্সর বোর্ড (CBFC) এখন বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। বোর্ডের এক সদস্য বলেছেন, যদি কোনো বাস্তব সেনা অফিসারের জীবনঘটনা অননুমোদিতভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে সেটি আইনি ইস্যু হতে পারে।
‘ধুরন্ধর’ নিঃসন্দেহে বলিউডের সাম্প্রতিকতম বাণিজ্যিক সফলতাপ্রাপ্ত সিনেমা। কিন্তু সাফল্যের আড়ালে নৈতিক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— যে মানুষটি নিজের পরিচয় লুকিয়ে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁর গল্প কি অনুমতি ছাড়া সিনেমায় ব্যবহার করা ন্যায়সঙ্গত? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে একটা জিনিস নিশ্চিত— মেজর মোহিত শর্মার মতো হিরোরা সিনেমা নয়, তাঁরা ইতিহাস।
Most Viewed Posts
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

