নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কোচবিহারে বৃহৎ রাজ্যের দাবিতে কামতাপুরীদের একাংশের আন্দোলন নিয়ে আলোচনার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোচবিহারে তাঁর প্রথম সফরে প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই প্রসঙ্গ উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও মানুষের আন্দোলন করা বা দাবি জানানোর অধিকার রয়েছে। তবে সেই দাবি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোচবিহারের মানুষ তাঁদের দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছেন বলেই সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে। তাই কোচবিহারের মানুষের দাবি ও অধিকার নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আন্দোলনকারীদের কোচবিহারের বিধানসভার স্পিকার মালতী রাভা রায়, শিশু ও নারী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে।
বৃহৎ রাজ্যের দাবি নিয়ে আন্দোলন, আলোচনার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
কোচবিহার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বৃহৎ রাজ্যের দাবিকে সামনে রেখে কামতাপুরীদের একাংশের পক্ষ থেকে সরব হওয়ার পাশাপাশি জেলা শাসকের দপ্তরেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সেই দাবির প্রসঙ্গই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের পর সামনে আসে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, গণতন্ত্রে মানুষের আন্দোলন করার এবং নিজেদের দাবি জানানোর অধিকার রয়েছে। তবে কোনও দাবির সমাধান আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমেই খুঁজে বের করতে হবে বলে তিনি জানান।
কোচবিহারের মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোচবিহারের মানুষ তাঁদের বিপুল সমর্থন দিয়েছেন। সেই কারণেই সরকারের পক্ষে কাজ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে মানুষের যে দাবি এবং যে অধিকার রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি কোচবিহারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মালতী রাভা রায়কে বিধানসভার স্পিকার করা হয়েছে এবং তাঁকে শিশু ও নারী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিশীথ প্রামাণিককেও ক্যাবিনেট মন্ত্রী করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনার দরজা খোলা, দাবি নিয়ে সমাধানের আশ্বাস
কামতাপুরীদের দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার প্রসঙ্গ সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার পথ বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেই বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের দাবি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করেই সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়া হবে। অর্থাৎ আন্দোলনকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে না দেখে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মেটানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কোচবিহার সফরে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পৃথক বৃহৎ রাজ্যের দাবিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা রয়েছে, তার মধ্যেই এই বক্তব্য সামনে এল।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনার ঘোষণা
কোচবিহারের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পর্যটন, চা-বাগান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে আলিপুরদুয়ারে জলদাপাড়া ও গরুমারা অভয়ারণ্যকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আলিপুরদুয়ার এবং ডুয়ার্সকে আগামী এক বছরের মধ্যে বিশ্ব পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, পর্যটনের পাশাপাশি চা-বাগান এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নেও রাজ্য সরকারের একাধিক পদক্ষেপ থাকবে। চা-বাগান খোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি বলেন। চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য এবার ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
চা-বাগানে বসবাসকারী শ্রমিকদের জমির মালিকানা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি আগে দিয়েছিলেন, সেই কাজও করা হবে বলে জানান তিনি। ফলে পর্যটনের সঙ্গে চা-বাগান এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার উন্নয়নকেও একই পরিকল্পনার মধ্যে রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
টোটোপাড়ায় প্রায় ১২০০ বাড়ি, বন্যপ্রাণী রক্ষায় জোর
আলিপুরদুয়ারের টোটোপাড়ায় প্রায় ১২০০টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে জেলা শাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর পাশাপাশি চোরাশিকারিদের হাত থেকে বন্যপ্রাণী রক্ষার বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বন্যপ্রাণীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়েও কাজ করার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চোরাশিকারিদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা গণ্ডারের খড়গসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেহাংশ নিয়ম মেনে আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে। প্রায় ১৪২ কেজি ওজনের গণ্ডারের খড়গসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেহাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গল বাঘ ফেরানোর কর্মসূচিতেও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি
উত্তরবঙ্গের বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পরিকল্পনার পাশাপাশি বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গল বাঘ ছাড়ার কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২ অক্টোবর বক্সায় এই কর্মসূচিতে ফের আসবেন বলে তিনি জানান।
ডুয়ার্সে রয়্যাল বেঙ্গল বাঘের পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথাও এর আগে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। ফলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পর্যটন এবং স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে পর্যটন, চা-বাগান এবং স্থানীয় মানুষের উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা আদালতের উদ্বোধনের কথাও তাঁর ঘোষণার মধ্যে রয়েছে। সব মিলিয়ে কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার এবং ডুয়ার্স—উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার জন্য প্রশাসনিক, পর্যটন, চা-বাগান এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে একগুচ্ছ পরিকল্পনার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
#DooarsAlipurduarTourism #DooarsTourism #AlipurduarTourism #WestBengalTourism #WildlifeTourism #Jaldapara #Gorumara #TeaGarden #BengalTourism
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

