Driverless Metro Kolkata: কলকাতার গ্রিন লাইনে স্বয়ংক্রিয় তথা চালকবিহীন মেট্রো চালুর পথে বড় অগ্রগতি। নিরাপত্তা পরীক্ষায় প্রাথমিক অনুমোদনের পর আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং কম ব্যবধানের মেট্রো পরিষেবা চালুর সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত নিত্যযাত্রীরা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থায় আসতে চলেছে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত পরিবর্তন। খুব শীঘ্রই গ্রিন লাইনে স্বয়ংক্রিয় তথা চালকবিহীন মেট্রো পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত বিস্তৃত এই করিডরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মেট্রো চালানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আর সেই পরীক্ষার পর রেল নিরাপত্তা কমিশনারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক অনুমোদন মেলায় নতুন আশার আলো দেখছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
গত ১৩ জুলাই, রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল গ্রিন লাইন মেট্রো পরিষেবা। এই সময়ে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে চালানো হয় বিস্তৃত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা। স্বয়ংক্রিয় ট্রেন পরিচালনার জন্য সিগন্যালিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া, প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ট্রেনের সমন্বয় এবং যাত্রী নিরাপত্তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন রেল নিরাপত্তা কমিশনারের প্রতিনিধিরা।
মেট্রো সূত্রের খবর, প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল মিলেছে। ফলে এখন আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্রের পর গ্রিন লাইনে স্বয়ংক্রিয় অর্থাৎ চালকবিহীন মেট্রো চালুর পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়ে গেল।
স্বয়ংক্রিয় মেট্রো চালু হলে কী বদল আসবে?
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে ট্রেনের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।
বর্তমানে গ্রিন লাইন-সহ কলকাতার আধুনিক মেট্রো করিডরগুলিতে একটি ট্রেন স্টেশন ছাড়ার পর পরবর্তী ট্রেন আসতে সাধারণত চার মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগে। কারণ, সামনের ট্রেনটি নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছনোর পরেই পিছনের ট্রেনকে এগোনোর অনুমতি দেওয়া হয়।
কিন্তু স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি চালু হলে এই পুরো ব্যবস্থাটি পরিচালিত হবে উন্নত সেন্সর, ডিজিটাল সিগন্যালিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে। প্রতিটি ট্রেন মুহূর্তে মুহূর্তে সামনের ট্রেনের অবস্থান, গতি এবং দূরত্ব সম্পর্কে তথ্য পাবে। ফলে কোনও মানবীয় বিলম্ব ছাড়াই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বর্তমান চার মিনিটের ব্যবধান কমে প্রায় আড়াই মিনিটে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ একই সময়ে আরও বেশি সংখ্যক ট্রেন চালানো সম্ভব হবে, যা যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে মুক্তি দেবে।
সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন কারা?
এই পরিষেবা চালু হলে হাওড়া ময়দান, হাওড়া স্টেশন, মহাকরণ, শিয়ালদহ এবং সেক্টর ফাইভ-এর মধ্যে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার নিত্যযাত্রী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
ট্রেনের জন্য অপেক্ষার সময় কমবে, অফিসযাত্রীদের যাতায়াত আরও দ্রুত হবে, ভিড়ের চাপও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি পরিষেবার নির্ভুলতা এবং সময়নিষ্ঠাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, বাকি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিললেই গ্রিন লাইন হবে শহরের প্রথম স্বয়ংক্রিয় তথা চালকবিহীন মেট্রো করিডর। এর মাধ্যমে কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং ভবিষ্যতে শহরের অন্যান্য মেট্রো করিডরেও একই ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা তৈরি হবে।
#DriverlessMetro #KolkataMetro #GreenLineMetro #AutomaticMetro #MetroRailway #HowrahMaidan #SectorV #SmartTransport #WestBengal

