নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় এবার বাড়তি একটি দিন পাওয়ার কথা বলা হলেও মহাষ্টমীর অঞ্জলির জন্য সকালেই প্রস্তুত হতে হবে। পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর, সোমবার অষ্টমী তিথি শেষ হবে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। সন্ধিপুজোর সময়ও পড়েছে সকালেই।
মহাষষ্ঠী: ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার
১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথি থাকবে শেষরাত ৩টে ৪৭ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ, শুক্রবার দিন পেরিয়ে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত ষষ্ঠী তিথি থাকার কথা বলা হয়েছে।
মহাসপ্তমী
১৮ অক্টোবর সকাল ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সপ্তমী থাকবে।
মহাষ্টমী: ১৯ অক্টোবর, সোমবার
সোমবার অষ্টমী তিথি শেষ হবে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। সেই হিসাবে অষ্টমী তিথির মধ্যে অঞ্জলি দিতে চাইলে তার আগেই সংশ্লিষ্ট পুজোর আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে।
সন্ধিপুজো: সকাল ৭টা ২৬ থেকে ৮টা ১৪
সন্ধিপুজো শুরু হবে সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে এবং শেষ হবে সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে। মোট সময় ৪৮ মিনিট।
এই হিসাব অষ্টমী শেষ হওয়ার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের আগের ২৪ মিনিট এবং পরের ২৪ মিনিটকে ধরে সাজানো।
মহানবমী: ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার
মঙ্গলবার মহানবমী তিথি থাকবে সকাল ৯টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত বলে আপনার দেওয়া সময়সূচিতে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, ওই সময়ের মধ্যেই নবমী তিথির অবসান হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর, বুধবার
বুধবারের তারিখ ২১ অক্টোবর। দশমী তিথি থাকবে বেলা ১০টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত।
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় অষ্টমীর সকালে সময়ের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে পুণ্যার্থীদের। মহাষ্টমী পড়ছে ১৯ অক্টোবর, সোমবার। প্রাচীন ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত—দুই পঞ্জিকামতেই সেদিন সকালে সন্ধিপুজো হবে। তবে পুজো শুরুর সময়ে দুই পঞ্জিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিক পর্ব পালিত হবে ২১ অক্টোবর, বুধবার।
তিথি কখন শুরু হচ্ছে এবং কোন দিন সেই তিথির প্রধান পুজো হচ্ছে—এই দুটি বিষয় এক নয়। অষ্টমী তিথি আগের দিন শুরু হলেও মহাষ্টমীর প্রধান পুজো সোমবার। তাই ১৮ অক্টোবর অষ্টমী তিথি শুরু হওয়ার অর্থ ওই দিনই প্রধান অষ্টমীর অঞ্জলি হবে, এমন সিদ্ধান্ত ঠিক নয়।
প্রাচীন পঞ্জিকামতে পুজোর সময়
প্রাচীন পঞ্জিকার ভিত্তিতে প্রকাশিত নির্ঘণ্টে ষষ্ঠীর পুজো ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার। সকালে কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পুজোর পরে সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের বিধান রয়েছে।
১৭ অক্টোবর, শনিবার সপ্তমীর প্রধান পুজো। সকাল ৭টা ৪ মিনিটের পরে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের সময় উল্লেখ করা হয়েছে। সপ্তমী তিথি পরদিন ভোর পর্যন্ত থাকায় ১৮ অক্টোবর ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটের মধ্যে অধিক পুজোর বিধানও রয়েছে।
১৯ অক্টোবর, সোমবার মহাষ্টমীর প্রধান পুজো খুব সকালে সম্পন্ন করার নির্দেশ রয়েছে। প্রকাশিত নির্ঘণ্টে সকাল ৭টা ৫ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমী বিহিত পুজো ও অঞ্জলি শেষ করার কথা বলা হয়েছে। সন্ধিপুজো সকাল ৭টা ২৬ মিনিট থেকে ৮টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত।
২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার মহানবমী। সকালে নবমী বিহিত পুজো ও সংশ্লিষ্ট আচার সম্পন্ন হবে। ২১ অক্টোবর, বুধবার সকাল ৮টা ৩১ মিনিটের মধ্যে দশমী বিহিত পুজো সমাপন ও আচারগত বিসর্জনের সময় উল্লেখ রয়েছে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তমতে অষ্টমী ও সন্ধিপুজো
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার ভিত্তিতে প্রকাশিত নির্ঘণ্টে ১৯ অক্টোবর অষ্টমী বিহিত পুজোর জন্য সকাল ৭টা ৪ মিনিটের মধ্যে এবং পুনরায় সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ২৭ মিনিটের মধ্যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মতে সন্ধিপুজো শুরু হবে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে এবং শেষ হবে সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে। সন্ধিক্ষণ সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে। ফলে প্রাচীন পঞ্জিকার তুলনায় বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তমতে সন্ধিপুজো হবে কিছুটা বেলায়।
সন্ধিপুজো সকালে হচ্ছে কেন?
সন্ধিপুজোর নামের সঙ্গে সন্ধ্যা শব্দের মিল থাকলেও এই পুজো সব সময় সন্ধ্যাবেলায় হয় না। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিটের সন্ধিক্ষণে এই আরাধনা হয়। তিথির সেই সংযোগ সকালে পড়লে সন্ধিপুজোও সকালেই হয়।
প্রচলিত রীতি অনুসারে এই সময় দেবীর চামুণ্ডা রূপের আরাধনা ও ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। বলিদানের আচার যেখানে প্রচলিত, সেখানে নিজস্ব রীতি অনুসরণ করা হয়।
অঞ্জলির সময় আগে জেনে নেওয়া জরুরি
মহাষ্টমীর প্রধান পুজোর সময় এবং সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য আয়োজিত একাধিক দফার পুষ্পাঞ্জলির সময় সর্বত্র এক হবে না। মণ্ডপ, মন্দির বা বাড়ির পুজোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকে। তাই শুধু তিথি শেষ হওয়ার সময় দেখে অঞ্জলির সময় ধরে নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট পুজোর ঘোষিত সময়ই অনুসরণ করতে হবে।
বিজয়া দশমী ও বিসর্জনের সময়
প্রাচীন পঞ্জিকা অনুসারে আনন্দবাজারের প্রকাশিত নির্ঘণ্টে দশমী তিথির শুরু ২০ অক্টোবর সকাল ৯টা ২৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে এবং শেষ ২১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে। দশমী বিহিত পুজো সমাপনের পরে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট ৮ সেকেন্ডের মধ্যে বিসর্জনের আচার প্রশস্ত বলা হয়েছে। অন্য প্রকাশিত তালিকায় এই সময় প্রায় সকাল ৮টা ৩১ মিনিট হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
এখানে আচারগত বিসর্জন এবং প্রতিমা নদী বা নির্দিষ্ট জলাশয়ে নিরঞ্জন করার সময় আলাদা করে বোঝা দরকার। সকালে পুজো ও দর্পণ বিসর্জন সম্পন্ন হলেও প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা পরে হতে পারে। তার সময় নির্ভর করে আয়োজকদের ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক অনুমতির উপর।
সিঁদুর খেলার জন্যও সর্বত্র প্রযোজ্য সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা কিংবা প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য বিকেল ৩টে—এমন নির্দিষ্ট সময় এই তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

