Election Bike Ban Rules India: ভোটের আগে বাইক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়। নতুন নিয়মে কী কী ছাড় মিলল, কবে থেকে কীভাবে চলবে বাইক—জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনের আগে বাইক চলাচল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশিকায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে তা আংশিকভাবে খারিজ করেছে এবং নতুনভাবে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছে।
হাইকোর্ট জানিয়েছে, ভোটের দু’দিন আগে থেকে সম্পূর্ণভাবে বাইক চলাচল বন্ধ রাখা যাবে না। তবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কিছু নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই থাকবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের ঠিক ১২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইকে আরোহী নিয়ে চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাধারণ ভোটাররা বাইক ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন। এতে সাধারণ মানুষের ভোটদানের অধিকার যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে আদালত।
বাইক সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকায় কী বলল হাইকোর্ট (Election Bike Ban Rules India)
একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, বাইক মিছিল সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে নির্বাচন কমিশন। ভোটের দু’দিন আগে থেকে কোনো ধরনের বাইক মিছিল করার অনুমতি থাকবে না।
তবে জরুরি পরিষেবা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন—
- চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি
- পারিবারিক অনুষ্ঠান
- সন্তানকে স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আনা-নেওয়া
- অফিসযাত্রীদের যাতায়াত
এছাড়াও, অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা যেমন ওলা, উবের বা অনলাইন ফুড ডেলিভারির ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবেন।
তবে এই ছাড়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—যারা এই পরিষেবার আওতায় বাইক ব্যবহার করবেন, তাঁদের অবশ্যই বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশে একদিকে যেমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ভোটাধিকার যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হয়েছে। হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বাইক সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরই কলকাতা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আদালতের নির্দেশ মেনে তারা আগের বাইক চলাচল সংক্রান্ত বিধিনিষেধে পরিবর্তন এনে তা সংশোধন করেছে। সংশোধিত এই নির্দেশিকা পুনরায় জারি করে সাধারণ মানুষকে জানানো হয়েছে, যাতে নতুন নিয়ম অনুযায়ী সবাই চলাফেরা করতে পারেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
হাইকোর্ট এই বিষয়েও স্পষ্ট ও কড়া মন্তব্য করেছে। আদালত জানিয়েছে, কোনো সংস্থার হাতে ক্ষমতা থাকলেই তা ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যায় না। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর প্রশ্ন তুলে তাদের কার্যত ভর্ৎসনা করেছে আদালত।
বিচারপতি স্পষ্টভাবে বলেন, যদি সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার—বিশেষ করে চলাচলের অধিকার—এভাবে খর্ব করা হয়, তাহলে একই যুক্তিতে অন্যান্য যানবাহনও বন্ধ করে দেওয়া উচিত। শুধুমাত্র বাইকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এছাড়াও আদালত উল্লেখ করেছে, নির্বাচন কমিশনের হাতে যখন পুলিশ প্রশাসনের পূর্ণ সহায়তা রয়েছে, পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারির মতো আধুনিক ব্যবস্থা আছে, তখন এই ধরনের কঠোর ও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। হাইকোর্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে (Election Bike Ban Rules India)—আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে সাধারণ মানুষের অধিকারকে অযথা সীমাবদ্ধ করা যাবে না।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বিজেপিতে যোগ দিয়েই সোজা ভবানীপুরে রাঘব? মমতার গড়েই কি বড় চমকের প্রস্তুতি?
- ভোট দিতে গিয়ে ছবি তুলবেন? ভোটের বুথে এবার দেখা মিলবে বিশেষ চরিত্রের, জানুন কেন এই নতুন ব্যবস্থা
- ৬ সাংসদকে নিয়ে হঠাৎ বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা! জাতীয় রাজনীতিতে এ কোন বড় পালাবদলের ইঙ্গিত?
- নস্টালজিয়ার টানে ভিড় শহরে! কেন সবাই ছুটছে আইকনিক সেটে ছবি তুলতে? জানুন বিস্তারিত
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নামী কলেজে কমছে আসন! কোন বিষয়ের দিকে ঝুঁকছে এখন ছাত্রছাত্রীরা?

