EVM Counting Process Election 2026: নির্বাচন শেষ, এবার শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। কিন্তু এই ৪ জুন ঠিক কী ঘটবে গণনা কেন্দ্রে? কীভাবে খোলা হবে ইভিএম? স্ট্রংরুম থেকে কাউন্টিং টেবিল পর্যন্ত এই মহারণের অন্দরমহলের অজানা ও নিখুঁত পদ্ধতি জেনে নিন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ। আগামী ৪ মে প্রকাশিত হবে রাজ্যের রাজনৈতিক ভাগ্য। কিন্তু ফলাফলের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে আছড়ে পড়েছে এক তীব্র ঘূর্ণাবর্ত— ইভিএম (EVM) কারচুপির জল্পনা। গত বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের একটি স্ট্রংরুমের (যেখানে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন রাখা হয়) সামনে বৃষ্টির মধ্যে টানা চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর অভিযোগ, ইভিএম সংরক্ষণ এবং স্থানান্তরের সময় বিজেপি কারচুপি করার চক্রান্ত করছে। শুধু তাই নয়, একটি সিসিটিভি ফুটেজকে হাতিয়ার করে তৃণমূল দাবি করেছে যে, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মতো জায়গাতেও ইভিএম বদলের চেষ্টা করা হয়েছে।
এই চরম উত্তেজনার আবহে নির্বাচন কমিশন সরাসরি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও, আমজনতার মনে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সত্যি কি এই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে থাকা ইভিএম হ্যাক বা কারচুপি করা সম্ভব? স্ট্রংরুমের ভেতরে কি আসলেই জালিয়াতি করা যায়? আসুন, আজ নিউজ অফবিটের পাতায় আমরা সহজ করে জেনে নিই, স্ট্রংরুম থেকে কাউন্টিং টেবিল পর্যন্ত ইভিএমের নিরাপত্তা (EVM Strong Room Security Check) এবং ভোট গণনার সেই রুদ্ধশ্বাস প্রক্রিয়ার এ টু জেড।
কেন হঠাৎ উদ্বিগ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
২০১১ সালে বামফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সম্ভবত এবারই সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল পরিমাণ ভোটদান সাধারণত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার (Anti-incumbency) ইঙ্গিত দেয়। এর পাশাপাশি একাধিক বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবার বাংলায় পদ্ম ফুটতে পারে। এই প্রবল স্নায়ুর চাপের কারণেই তৃণমূল নেত্রী স্ট্রংরুমের বাইরে কড়া পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “যখন ইভিএমগুলো স্ট্রংরুম থেকে গণনাকক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন তারা (বিজেপি) মেশিনগুলো বদলে দেওয়ার চক্রান্ত করেছে।”
কীভাবে নিশ্চিত করা হয় ইভিএমের নিরাপত্তা?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগের বিপরীতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছেন। প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কোরেশি তাঁর ‘অ্যান আনডকুমেন্টেড ওয়ান্ডার’ বইয়ে স্পষ্ট লিখেছেন, ইভিএম কারচুপি বা বদল করা যতটা সহজ ভাবা হয়, বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব। ভোট গ্রহণের দিন থেকে শুরু করে গণনার দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ECI) কীভাবে এই যন্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তার কিছু সুনির্দিষ্ট প্রটোকল রয়েছে:
- সিলগালা ও পরিবহন: ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই পোলিং এজেন্টদের সামনে ব্যালট ইউনিট, কন্ট্রোল ইউনিট এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) পেপার সিল দিয়ে বন্ধ করা হয়। এরপর সেগুলো প্লাস্টিকের বাক্সে ভরে পুনরায় সিলগালা করা হয়। এই সিলগুলোর ওপর বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার এবং বিভিন্ন দলের এজেন্টরা সই করেন। যদি কোনো কারণে সিল ভাঙার চেষ্টা হয়, তবে তা খালি চোখেই ধরা পড়বে।
- জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং: ইভিএম স্ট্রংরুমে নিয়ে যাওয়ার সময় জিপিএস-এর মাধ্যমে সেই গাড়ির গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়। প্রার্থীরা চাইলে সেই গাড়ি অনুসরণও করতে পারেন।
- প্রার্থীদের নজরদারি এবং ডবল তালা: স্ট্রংরুমের দরজা প্রার্থী এবং নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের সামনে সিলগালা করা হয়। প্রার্থীরা চাইলে স্ট্রংরুমের তালায় নিজেদের নিজস্ব সিল বা তালাও লাগাতে পারেন।
- সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ও আধা সেনা: স্ট্রংরুমের বাইরে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। এর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক ভিডিও রেকর্ডিং ও সিসিটিভি নজরদারি চালু থাকে। প্রার্থীরা চাইলে স্ট্রংরুমের বাইরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখতে পারেন এবং সিসিটিভির মনিটরে চোখ রাখতে পারেন।
ইভিএম কি সত্যিই হ্যাক করা সম্ভব? কী বলছেন প্রাক্তন আধিকারিক?
ইভিএম হ্যাকিং নিয়ে মানুষের মনে যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, তা স্পষ্ট করেছেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “যদি ঠিকঠাক সুরক্ষা প্রটোকল মানা হয়, তবে ইভিএম পুরোনো ব্যালট বাক্সের থেকেও অনেক বেশি সুরক্ষিত। পুরোনো যুগে ব্যালট বাক্স জলে ফেলে দেওয়া যেত, কিন্তু ইভিএমে কোনো কারচুপি করা প্রায় অসম্ভব।”
কেন ইভিএম হ্যাক করা যায় না? এর পেছনে থাকা প্রযুক্তিগত কারণগুলো হলো:
- ইন্টারনেট নেই: ইভিএম কোনোভাবেই ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাই বাইরে থেকে বসে কোনো সাইবার অ্যাটাক বা হ্যাকিং করা সম্ভব নয়। এটি অনেকটা ক্যালকুলেটরের মতো কাজ করে।
- মাইক্রোচিপের কোড: ইভিএম মেশিনে কোনো সফটওয়্যার থাকে না। এতে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজের কোড থাকে, যা মাইক্রোচিপে বার্ন করা (পুড়িয়ে ঢোকানো) থাকে। এই চিপের মেমরি একবার তৈরি হওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করা যায় না। কেউ যদি ইভিএমের ব্যাটারিও খুলে নেয়, তবুও তার ভেতরের মেমরি বা ভোটের ডেটা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।
কার তত্ত্বাবধানে হয় ভোট গণনা এবং কারা থাকেন গণনা কেন্দ্রে?
ভোট গণনার এই বিশাল কর্মকাণ্ডটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের (Returning Officer) কড়া তত্ত্বাবধানে। এই গণনা প্রক্রিয়া একই সঙ্গে একাধিক স্থানে বা একই স্থানে একাধিক টেবিলে করা যেতে পারে। স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে এবং প্রতিটি টেবিলে প্রার্থীদের নিজস্ব ‘কাউন্টিং এজেন্ট’ (Counting Agent) উপস্থিত থাকেন।
তবে এখানে একটি অত্যন্ত কড়া নিয়ম রয়েছে। পেশিশক্তির আস্ফালন রুখতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে কোনো ব্যক্তি, তা তিনি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, যদি তাঁর কোনো সরকারি নিরাপত্তা রক্ষী থাকে, তবে তিনি কিছুতেই কাউন্টিং এজেন্ট হতে পারবেন না। এমনকি তিনি যদি স্বেচ্ছায় তাঁর নিরাপত্তা ছেড়ে দেন, তবুও তাঁকে গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয় না। অর্থাৎ, কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিদায়ী সাংসদ বা বিধায়ক, মেয়র বা পঞ্চায়েত প্রধান— কেউই কাউন্টিং এজেন্ট হিসেবে টেবিলের সামনে বসতে পারবেন না। একমাত্র প্রার্থী নিজেই যদি লিখিত আন্ডারটেকিং দিয়ে নিজের নিরাপত্তা রক্ষী ছেড়ে কাউন্টিং হলে ঢুকতে চান, তবেই তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়।
কীভাবে সাজানো হয় কাউন্টিং হল?
একটি কাউন্টিং হলে রিটার্নিং অফিসারের টেবিল বাদে সর্বোচ্চ ১৪টি টেবিল থাকতে পারে। প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে এজেন্ট প্রতিটি টেবিলে বসার সুযোগ পান। এছাড়া পোস্টাল ব্যালট এবং ইটিপিবিএস (ETPBS)-এর গণনার জন্য অতিরিক্ত টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে প্রার্থীরা আরও অতিরিক্ত এজেন্ট নিয়োগ করতে পারেন। নিরাপত্তা এবং জালিয়াতি রুখতে গণনা কেন্দ্রের ভেতরে কাউন্টিং এজেন্টদের মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, ল্যাপটপ বা যেকোনো ধরনের অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কাউন্টিং টেবিলগুলোকে ব্যারিকেড বা তারের জালি দিয়ে এমনভাবে ঘেরা থাকে, যাতে কোনো কাউন্টিং এজেন্ট সরাসরি ইভিএম স্পর্শ করতে না পারেন, তবে তাঁরা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিজেদের চোখে স্পষ্ট দেখার সুযোগ পান।
প্রথম ধাপে কী গোনা হয়? পোস্টাল ব্যালটের খুঁটিনাটি
ভোট গণনার দিন সবার আগে শুরু হয় পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballot) গোনার কাজ। এই ব্যালট মূলত দুই প্রকারের হয়— ইটিপিবিএস বা ETPBS (সেনাবাহিনী বা সরকারি কাজে বাইরে থাকা সার্ভিস ভোটারদের জন্য, যা অনলাইনে পাঠানো হয় কিন্তু ডাক মারফত ফেরত আসে) এবং সাধারণ পোস্টাল ব্যালট (৮০ ঊর্ধ্ব নাগরিক, বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং ভোটকর্মীদের জন্য)।
এই ব্যালটগুলো পরীক্ষা করার সময় যদি দেখা যায় যে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়া নেই, বা একাধিক প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হয়েছে, অথবা ব্যালটটি এমনভাবে ছিঁড়ে গেছে যে তা চেনা যাচ্ছে না— তবে তা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হয়। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, যদি কোনো প্রার্থীর চূড়ান্ত জয়ের ব্যবধান বাতিল হওয়া পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যার চেয়ে কম হয়, তবে রিটার্নিং অফিসারকে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি বাতিল ব্যালট পুনরায় যাচাই করে দেখতে হয়।
স্ট্রংরুম থেকে ইভিএমের আগমন এবং গণনা শুরু
পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হওয়ার ঠিক ৩০ মিনিট পর শুরু হয় আসল মহারণ— ইভিএম গণনা (EVM Counting)। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্ট্রংরুম থেকে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটগুলোকে (Control Unit) গণনাকেন্দ্রে আনা হয়। এগুলোকে ক্রমানুসারে টেবিলে দেওয়া হয়। যেমন, ১ নম্বর পোলিং স্টেশনের প্রথম ইভিএম যাবে ১ নম্বর টেবিলে, ২ নম্বর স্টেশনের ইভিএম যাবে ২ নম্বর টেবিলে এবং এইভাবেই এগোতে থাকে।
আগামী ৪ মে, ভোট গণনার দিন সিল করা স্ট্রংরুমটি কেবল প্রার্থী, তাঁদের এজেন্ট এবং নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতেই খোলা হবে।
গণনাকেন্দ্রে ইভিএম পৌঁছনোর পর, কাউন্টিং সুপারভাইজার প্রথমে কন্ট্রোল ইউনিটের পেছনের সুইচে পাওয়ার ‘অন’ করেন। এরপর রেজাল্ট সেকশনের ওপর থাকা গ্রিন পেপার সিল ফুটো করে ‘Result’ বোতামটি টেপা হয়। এই একটি বোতাম চাপলেই ডিসপ্লে প্যানেলে ক্রমানুসারে ভেসে ওঠে প্রতিটি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট।
গণনা শুরু করার আগে, প্রতিটি কাউন্টিং এজেন্ট খুব ভালো করে পরীক্ষা করে দেখেন যে ইভিএমের সিলগুলো সুরক্ষিত আছে কিনা। ১৪টি টেবিলে ১৪টি ইভিএমের গণনা সম্পন্ন হলে তাকে বলা হয় ‘এক রাউন্ড’ (One Round)। প্রতিটি রাউন্ড শেষ হওয়ার পরেই পরবর্তী রাউন্ডের কাজ শুরু হয়। প্রতিটি রাউন্ডের শেষে পর্যবেক্ষক (Observer) র্যান্ডমভাবে যেকোনো দুটি কন্ট্রোল ইউনিট বেছে নিয়ে মিলিয়ে দেখেন যে হিসেব ঠিক আছে কিনা।
ইভিএমের কোন বোতামে লুকিয়ে জয়-পরাজয়ের রহস্য?
ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটে মূলত তিনটি বোতাম থাকে— বাঁ দিকে ‘Close’ (ভোট শেষে মেশিন বন্ধ করার জন্য), মাঝখানে ‘Result’ ও ‘Print’ এবং ডান দিকে ‘Clear’ (ডেটা মুছে ফেলার জন্য)। গণনা শুরু হওয়ার সময় কাউন্টিং সুপারভাইজার প্রথমে কন্ট্রোল ইউনিটের পেছনের সুইচে পাওয়ার ‘অন’ করেন। তখন মেশিনে একটি সবুজ রঙের আলো জ্বলে ওঠে।
এরপর রেজাল্ট সেকশনের ভেতরের কভারের ওপর থাকা একটি বিশেষ গ্রিন পেপার সিল (Green Paper Seal) ফুটো করে সেই রেজাল্ট বোতামটি টেপা হয়। এই একটি বোতাম চাপলেই ডিসপ্লে প্যানেলে ক্রমানুসারে ভেসে ওঠে প্রতিটি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট এবং ‘নোটা’ (NOTA)-র ভোট সংখ্যা।
যদি দেখা যায় কোনো কারণে কন্ট্রোল ইউনিটের ডিসপ্লে কাজ করছে না, তখন ব্যাটারি বদলে দেখা হয়। তাতেও কাজ না হলে সেই মেশিনটিকে আলাদা করে রিটার্নিং অফিসারের জিম্মায় রাখা হয়। যদি দেখা যায় ওই নষ্ট হয়ে যাওয়া মেশিনের মোট ভোটের চেয়ে কোনো প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান বেশি, তবে ওই মেশিনটি আর গোনা হয় না। কিন্তু যদি জয়ের ব্যবধান কম হয়, তবে সেই নির্দিষ্ট ইভিএমের ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ গুনে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তে চমক দেবে কারা? সাইলেন্ট ভোটারদের মুঠোয় কি ক্ষমতা? রাজনীতির অঙ্কে নতুন সমীকরণ
কিউআর কোড (QR Code) নির্ভর নিরাপত্তা এবং ফর্ম 17C
২০২৬ সালের নির্বাচনে নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করতে কমিশন কিউআর কোড নির্ভর আইডেন্টিটি কার্ড চালু করেছে। গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য তিন স্তরে পরিচয় যাচাই করা হবে। অর্থাৎ, কোনো অবৈধ ব্যক্তি বা প্রভাবশালী নেতা কিছুতেই গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না।
এর পাশাপাশি রয়েছে ‘ফর্ম 17C’ (Form 17C)-এর রক্ষাকবচ। ভোট গণনার দিন কাউন্টিং সুপারভাইজার ইভিএমের ফলাফলের সঙ্গে এই ফর্ম 17C-এর পার্ট ১-এ থাকা হিসেব মিলিয়ে দেখেন যে মোট পড়া ভোট এবং মেশিনের হিসেব হুবহু মিলে যাচ্ছে কিনা। এছাড়া, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের ৫টি বুথের ভিভিপ্যাট স্লিপ বাধ্যতামূলকভাবে লটারির মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা হয়।
সব মিলিয়ে, ইভিএমের সিলগালা করা থেকে শুরু করে স্ট্রংরুমে নেওয়া, এবং সেখান থেকে গণনাকক্ষে নিয়ে আসার প্রতিটি ধাপে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ফলে, এজেন্টদের সজাগ চোখ এড়িয়ে কোনো ধরনের গরমিল বা কারচুপি করা কার্যত অসম্ভব।
বিধানসভা নির্বাচনের এই নিখুঁত ও নিশ্ছিদ্র বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটি জানার পর আপনার কী মনে হয়? ইভিএম নিয়ে কি সত্যিই কারচুপির কোনো সম্ভাবনা আছে, নাকি এটা শুধুই রাজনৈতিক তরজা ও স্নায়ুর চাপের বহিঃপ্রকাশ? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। আগামী ৪ মে ফলাফলের সবচেয়ে দ্রুত এবং বিশ্লেষণমূলক আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন NewsOffBeat-এ।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই

