Firhad Hakim Taratala Collapse Controversy: তারাতলা বিপর্যয় ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ঝড়। বিধানসভায় নথি দেখিয়ে ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুমোদনের স্বাক্ষর, নির্মাণ ত্রুটি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: তারাতলায় নির্মীয়মাণ বহুতলের অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু ও একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কীভাবে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন পেল? আর সেই প্রশ্নকে হাতিয়ার করেই বিধানসভায় সরাসরি প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী একটি নথি দেখিয়ে দাবি করেন, যে নির্মাণ পরিকল্পনাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেই নথিতে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনার নকশাতেই একাধিক ত্রুটি এবং কাঠামোগত সমস্যা উল্লেখ ছিল। তা সত্ত্বেও কীভাবে সেই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হল, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
বিধানসভায় নথি দেখিয়ে আক্রমণ
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নথিতে স্থপতি, প্রকৌশলী, মালিক, আবেদনকারী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষরের পাশাপাশি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরও রয়েছে। তিনি বলেন, নকশার মধ্যেই বিভিন্ন ত্রুটির উল্লেখ ছিল, তবুও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায় নির্ধারণ করতে হবে। তাঁর অভিযোগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিম কী বলছেন?
ঘটনার পর ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা যথাযথভাবে চলছে। তবে তিনি দাবি করেন, কোন ঠিকাদার কাজ করছে, কারা নির্মাণের দায়িত্বে ছিল বা কী ধরনের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনও তথ্য নেই।
তাঁর বক্তব্য, নির্মাণকাজের গুণমান এবং উপকরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা দেখেন। পৌরসভার তরফে পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তব নির্মাণে কী হচ্ছে, তা নিয়মিত পরিদর্শনের বিষয়।
গ্রেফতারের দাবি তুলছে বিরোধীরা
ঘটনার পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ সরাসরি ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। তাদের বক্তব্য, যদি অনুমোদনের সময় কোনও অনিয়ম বা অবহেলা থেকে থাকে, তবে তার দায় এড়ানো যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম চলছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
কীভাবে ঘটল বিপর্যয়?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই নির্মাণকাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে একটি ভারী লোহার বিম নড়ে যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মীয়মাণ কাঠামোর একটি অংশ ভেঙে পড়ে।
এই ঘটনায় একাধিক শ্রমিক চাপা পড়েন। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
দুর্ঘটনার পর মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই। কারণ বিরোধীদের দাবি, শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে কি কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে? বিরোধীরা দাবি তুললেও, তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র কোনও নথিতে স্বাক্ষর থাকার অর্থ এই নয় যে ফৌজদারি দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয়ে যায়। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে তদন্তে অবহেলা, অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতার নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসতে হবে।
তাই আপাতত নজর তদন্তের দিকে। তারাতলা বিপর্যয়ের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল এবং কারও বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি হয় কি না, সেটাই আগামী দিনে দেখার বিষয়।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

