Food Racism Indian Students: খাবারের সুগন্ধ নিয়ে বিতর্কের জেরে গবেষণার পাঠ চুকেছে, কিন্তু মাথা নত করেননি ঊর্মি ও আদিত্য।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: খাবার মানুষের কাছে কেবল পেট ভরানোর মাধ্যম নয়, বরং এক একটি জাতির আবেগ ও আত্মপরিচয়। কিন্তু সেই প্রিয় খাবারের সুগন্ধই যদি বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে চরম অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়? সম্প্রতি আমেরিকার কলোরাডো বোল্ডার ইউনিভার্সিটির (University of Colorado Boulder) অন্দরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আধুনিক সভ্যতার গায়ে আরও একবার বর্ণবিদ্বেষের দাগ লাগিয়ে দিল। দুপুরের খাবারে সাধারণ ‘পালং পনির’ গরম করতে গিয়ে তথাকথিত ‘ফুড রেসিজম’ বা খাবারের মাধ্যমে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হতে হলো দুই মেধাবী ভারতীয় গবেষক আদিত্য প্রকাশ এবং ঊর্মি ভট্টাচার্যকে। আদিত্য ভোপালের বাসিন্দা হলেও ঊর্মি আমাদের তিলোত্তমা কলকাতার মেয়ে। দুজনেই কেরিয়ারে অত্যন্ত উজ্জ্বল ছিলেন, কিন্তু একটি তুচ্ছ ঘটনা তাঁদের জীবন ও গবেষণার মোড় ঘুরিয়ে দিল।
খাবারের গন্ধ বনাম সাংস্কৃতিক সংঘাত
ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান (Anthropology) বিভাগের মেইন অফিসের মাইক্রোওয়েভে দুপুরের খাবার গরম করতে গিয়েছিলেন আদিত্য প্রকাশ। তাঁর টিফিনে ছিল পালং পনির। তখন এক প্রশাসনিক কর্মী সেই খাবারের গন্ধকে ‘কটু’ বলে ব্যঙ্গ করেন। আদিত্য বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে এটি একটি সাধারণ ভারতীয় নিরামিষ পদ, কিন্তু কর্তৃপক্ষের জেদ ছিল অফিসের পরিবেশ ‘সুন্দর’ রাখার। এই ‘সুন্দর’ বা ‘কটু’ গন্ধের আড়ালে যে গভীর ঘৃণা লুকিয়ে ছিল, তার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন ঊর্মি। নিজের নৃবিজ্ঞানের ক্লাসে পাঠদানের সময় তিনি ঘটনাটিকে সাংস্কৃতিক বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলে ক্ষুব্ধ হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের ওপর নেমে আসে একের পর এক খড়গ— ফান্ডিং বন্ধ করা থেকে শুরু করে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে গত অক্টোবর মাসে পিএইচডি অসম্পূর্ণ রেখেই তাঁদের ভারতে ফিরে আসতে হয়েছে।
এই লড়াই কেবল আদিত্য বা ঊর্মির একার নয়। অতীতেও বারবার প্রবাসী ভারতীয়দের এই ‘স্মেল হারাসমেন্ট’ বা গন্ধের অপবাদ সইতে হয়েছে। কখনও টেক্সাসের রাস্তায় ভারতীয় মহিলাদের দিকে তেড়ে আসা মার্কিন মহিলা বলেছেন তাঁদের খাবারের গন্ধে এলাকা দূষিত হচ্ছে, আবার কখনও লন্ডনের মতো শহরে ‘কারির গন্ধের’ দোহাই দিয়ে ভারতীয়দের ঘর ভাড়া দিতে অস্বীকার করা হয়েছে। ছোটবেলায় অনেকভারতীয় শিশুকেও স্কুল টিফিনে ভারতীয় খাবার নেওয়ার জন্য বন্ধুদের ব্যঙ্গ শুনতে হয়। আদিত্য ও ঊর্মি আসলে সেই কয়েক দশকের পুঞ্জীভূত অপমানের বিরুদ্ধেই আইনি লড়াই লড়েছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং তাঁদের ২,০০,০০০ ডলার (প্রায় ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়।
টাকার অঙ্কে বিচার করলে হয়তো এটি একটি বড় জয়, কিন্তু মেধার যে ক্ষতি হলো তার হিসেব কে রাখবে? ৪.০ গ্রেড পয়েন্ট পাওয়া দুই গবেষককে আজ বিদেশের মাটিতে নিজের খাবার ও সংস্কৃতির সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের কেরিয়ার বাজি রাখতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পনিরের সেই বাঙালিয়ানা বা ভারতীয় ঐতিহ্যের সুগন্ধ হার মানেনি ঠিকই, কিন্তু আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার অন্দরে লুকিয়ে থাকা সংকীর্ণতা আরও একবার বেআব্রু হয়ে পড়ল। এই লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নিজের শিকড়কে আঁকড়ে ধরাটা অপরাধ নয়, বরং গর্বের। যদিও মার্কিন আইন অনুযায়ী এই বিষয়ে বিস্তারিত মুখ খুলতে বারন করা হয়েছে তাঁদের। নিজের খাবারের জন্য এই লড়াই যে শুধুমাত্র স্বাদের নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষারও ছিল, তা আজ স্পষ্ট। বিদেশের মাটিতে পনিরের সুগন্ধ হার মানালেও, এই দুই ছাত্রের জেদ খবরের শিরোনামে আজ উজ্জ্বল। আপনার মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। এই বিষয়ে আরও জানতে চোখ রাখুন NewsOffBeat-এ।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

