Footpath Safety: ফুটপাতের নিরাপত্তা নিয়ে অগ্নিমিত্রা পালের কড়া বার্তা, শিশুর সামনে আগুন জ্বালিয়ে দুধ গরমের ঘটনায় প্রশ্ন উঠল পথচারীদের সুরক্ষা নিয়ে। ফুটপাতবাসীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উপরও জোর দিলেন মন্ত্রী।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ফুটপাতের উপর কেরোসিনের উনুনে দুধ গরম করা এবং তার পাশেই একটি শিশুকে হামাগুড়ি দিতে দেখা—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধুমাত্র দারিদ্র্য বা ফুটপাতবাসীদের উচ্ছেদের প্রশ্ন হিসেবে দেখলে চলবে না; এর সঙ্গে পথচারীদের নিরাপত্তা, শিশুর সুরক্ষা এবং শহরের ফুটপাত ব্যবহারের অধিকারও জড়িত।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ব্যস্ত ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো রাস্তায় ফুটপাতের উপর আগুন জ্বালিয়ে দুধ গরম করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ওই জায়গার কাছেই যখন একটি ছোট শিশু একা হামাগুড়ি দিচ্ছিল, তখন যেকোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে—এই প্রশ্নও তিনি তোলেন।
ফুটপাতে দুধ গরম করা নিয়ে কী বললেন অগ্নিমিত্রা পাল?
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে একটি বড় পাত্রে দুধ ফুটছিল এবং তার জন্য ফুটপাতের উপর কেরোসিনের উনুন জ্বালানো হয়েছিল। একই সময়ে প্রায় ছয় মাসের একটি শিশুকে আশপাশে হামাগুড়ি দিতে দেখা যায়। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা আশপাশে থাকলেও শিশুটি কিছুটা দূরে একাই ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ব্যস্ত রাস্তার পাশে ফুটপাতের উপর এভাবে আগুন জ্বালিয়ে রান্না বা দুধ গরম করা হলে সেখানে থাকা শিশু, পথচারী কিংবা অন্য কারও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয় না কি? তাঁর বক্তব্যে মূলত নিরাপত্তার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, ফুটপাত কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য ফুটপাত খোলা রাখা দরকার। একইসঙ্গে ফুটপাতবাসী বা দরিদ্র পরিবারগুলির জন্য স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করাও সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি দাবি করেন।
ফুটপাত থেকে মানুষ সরানোর আগে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা
অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ফুটপাতবাসীদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র উচ্ছেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তাঁরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগেই বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে বস্তি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন নিয়ে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বস্তি পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের প্রকল্প এবং বস্তি পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমেও এই ধরনের পরিবারকে আবাসনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, কোনও পরিবারকে দীর্ঘদিন ফুটপাতে বসবাস করতে দেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ করে তাদের সরিয়ে দেওয়াও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তাই পুনর্বাসন এবং শহরের ফুটপাতকে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা—দুই দিকেই একসঙ্গে নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
ফুটপাত কার? পথচারীদের চলাচল নিয়েও সরব মন্ত্রী
ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং এবং হকার বসানো নিয়েও অগ্নিমিত্রা পাল কড়া অবস্থানের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, ফুটপাতের একটি বড় অংশ পথচারীদের চলাচলের জন্য খোলা থাকা উচিত। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখার বিষয়েও পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, শহরের ফুটপাত পরিষ্কার ও চলাচলের উপযোগী রাখা হলে সাধারণ মানুষ স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারবেন। একইসঙ্গে অবৈধ পার্কিং সরানোর বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ করবে বলে জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্যে কলকাতার সৌন্দর্য, যানজট কমানো এবং পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি একসঙ্গে উঠে আসে। শহরের রাস্তা, ফুটপাত ও যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
দারিদ্র্য নিয়ে প্রশ্ন নয়, স্থায়ী সমাধানের দাবি
অগ্নিমিত্রা পাল তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও বস্তিতে বসবাস করা পরিবারগুলির পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর যুক্তি, বহু বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজ্য পরিচালনা করলেও এই পরিবারগুলির মাথার উপর স্থায়ী ছাদের ব্যবস্থা কেন করা যায়নি, সেই প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। শুধুমাত্র ফুটপাত পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যাঁরা ফুটপাত বা বস্তিতে বসবাস করছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাঁদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বিনিয়োগের পরিবেশের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, শহরের ফুটপাত, রাস্তা, যানজট এবং অবৈধ পার্কিংয়ের পরিস্থিতি যদি বিনিয়োগকারীদের সামনে নেতিবাচক ছবি তৈরি করে, তাহলে নতুন বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে।
বিরোধীদের উদ্দেশে অগ্নিমিত্রা পালের বার্তা
অগ্নিমিত্রা পাল তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদেরও আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, নতুন সরকার যে জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সমর্থনের ভিত্তিতে তারা শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল করার কাজ করবে।
তবে একইসঙ্গে তিনি বিরোধীদের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, বিরোধিতা গণতন্ত্রের অংশ হলেও শুধুমাত্র বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা না করে সমস্যার সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা নেওয়া উচিত।
নিজের বক্তব্যের ধরন নিয়েও শেষে কিছুটা আত্মসমালোচনার সুর শোনা যায় অগ্নিমিত্রা পালের কথায়। তিনি স্বীকার করেন, বক্তব্য দিতে গিয়ে হয়তো তিনি কিছুটা বেশি জোরে বা কঠোরভাবে কথা বলেছেন। তবে তাঁর মূল বক্তব্য ছিল—ফুটপাত পথচারীদের জন্য নিরাপদ রাখতে হবে, ফুটপাতবাসীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল করে তুলতে হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যের কেন্দ্রে তাই দুটি বিষয় স্পষ্ট—একদিকে ফুটপাতে শিশুর নিরাপত্তা ও পথচারীদের চলাচল নিশ্চিত করা, অন্যদিকে ফুটপাতবাসী পরিবারগুলির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই বিষয়কে পাশাপাশি রেখেই শহর পরিচালনার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া উচিত।
#FootpathSafety #Kolkata #AgnimitraPaul #PedestrianSafety #ChildSafety #FootpathEncroachment #SlumRehabilitation #KolkataRoads #WestBengal #UrbanDevelopment
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

