Close Menu
    Newsoffbeat.comNewsoffbeat.com
    • খবর-OFFBEAT
    • TRAVEL-অফবিট
      • চলো-চলি
      • যাত্রা-মন্ত্র
      • রঙ-রীতি
    • ভোজ-ON
      • ফিট-বাইট
      • রান্না-ঝটপট
    • জীব-ON শৈলী
      • ফিটনেস ফান্ডা
      • রূপকথা
      • চুপকথা
      • টিপস এন্ড ট্রিকস
      • স্মার্ট-মানি
    • অ্যাস্ট্রো-TaLK
      • আয়ুরেখা
      • গ্রহ-গণিত
      • তত্ত্বকথা ও কাহিনী
    • টেক-TrendZ
      • এআইভার্স
      • টেক-KNOW
      • ট্রেন্ডিং-TaLK
    • মিক্স-৪
      • ইচ্ছে-ডানা
      • চুম্বক কাহিনি
      • লাইম লাইট
      • সাফল্যের দিশারি
    জনপ্রিয় পোস্ট

    বন্ধ হচ্ছে টেলিগ্রাম! কেন এই পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের পদক্ষেপ

    অভিষেকের অনুপস্থিতিতেই বাড়িতে পুরসভা! বেআইনি নির্মাণ মিললে আজই কি চলবে বুলডোজার?

    আট মাসে ২১ বার বিকল সরকারি বোরওয়েল! জলসংকটে অতিষ্ঠ অশোক বিহার, মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ কর্তাদের কাছে অভিযোগ

    Facebook YouTube X (Twitter) Instagram Pinterest Threads
    Wednesday, June 17
    Facebook X (Twitter) YouTube Instagram WhatsApp
    Newsoffbeat.comNewsoffbeat.com
    • খবর-OFFBEAT
    • TRAVEL-অফবিট
      • চলো-চলি
      • যাত্রা-মন্ত্র
      • রঙ-রীতি
    • ভোজ-ON
      • ফিট-বাইট
      • রান্না-ঝটপট
    • জীব-ON শৈলী
      • ফিটনেস ফান্ডা
      • রূপকথা
      • চুপকথা
      • টিপস এন্ড ট্রিকস
      • স্মার্ট-মানি
    • অ্যাস্ট্রো-TaLK
      • আয়ুরেখা
      • গ্রহ-গণিত
      • তত্ত্বকথা ও কাহিনী
    • টেক-TrendZ
      • এআইভার্স
      • টেক-KNOW
      • ট্রেন্ডিং-TaLK
    • মিক্স-৪
      • ইচ্ছে-ডানা
      • চুম্বক কাহিনি
      • লাইম লাইট
      • সাফল্যের দিশারি
    Newsoffbeat.comNewsoffbeat.com
    Home»খবর-OFFBEAT»বিনা পরিশ্রমে ভাতা দিলেই কি জনকল্যাণ? সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের স্কিম নিয়ে নতুন বিতর্ক
    খবর-OFFBEAT

    বিনা পরিশ্রমে ভাতা দিলেই কি জনকল্যাণ? সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের স্কিম নিয়ে নতুন বিতর্ক

    শম্পা পালBy শম্পা পালMarch 18, 20268 Mins Read
    WhatsApp Facebook Twitter Pinterest Telegram Threads Copy Link
    Freebies vs Welfare Debate in India highlighting Supreme Court concerns and government welfare schemes impact on economy and society
    Share
    WhatsApp Facebook Twitter Telegram Pinterest Threads Copy Link

    Freebies vs Welfare Debate in India: সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক—বিনা পরিশ্রমে ভাতা কি মানুষের উন্নয়ন ঘটায়, নাকি প্রকৃত জনকল্যাণের জন্য দরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা?

    নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত-এর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ তামিলনাড়ুর একটি বিদ্যুৎ বণ্টন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ‘বিনা মূল্যে সুবিধা প্রদান’ বা তথাকথিত ‘ফ্রিবি সংস্কৃতি’ নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সরাসরি জানতে চান—ভারতবর্ষে আমরা ঠিক কেমন সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলছি?

    তিনি ইঙ্গিত করেন, দেশে এমন এক প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে যেখানে নির্বাচনের সময় কিংবা সারা বছর ধরেই নাগরিকদের বিনামূল্যে খাদ্য, পোশাক, বিদ্যুৎ, গ্যাস এমনকি নগদ অর্থ পর্যন্ত প্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য সরকার সরাসরি মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাচ্ছে—অনেক ক্ষেত্রেই কোনো পরিশ্রম বা উৎপাদনমূলক কাজের বিনিময় ছাড়াই। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে আসে—যদি মানুষ বিনা শ্রমে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পায়, তাহলে তারা কেন কাজ করতে আগ্রহী হবে?

    আরও পড়ুন : গ্ল্যামার নয়, অভিজ্ঞতায় ভরসা, ৫২ মহিলা প্রার্থী নিয়ে ভোটের ময়দানে তৃণমূল— মমতার প্রার্থী তালিকায় বড় চমক!

    প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যে আরও একটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পায়—যদি নাগরিকদের মনে এই ধারণা জন্মায় যে সরকারের এই সহায়তাই তাদের প্রধান আয়ের উৎস, তাহলে কর্মসংস্কৃতি ও উৎপাদনশীলতা কি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না? তাঁর এই প্রশ্ন শুধু আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এই মন্তব্য সামনে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। একদিকে কেউ এই মন্তব্যকে বাস্তবসম্মত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কেউ বলছেন—এটি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য চালু হওয়া কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে খাটো করে দেখার সামিল। ফলে ‘বিনা মূল্যে সুবিধা’ বনাম ‘প্রকৃত জনকল্যাণ’—এই দ্বন্দ্ব এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।

    নিউজ অফবিট আজকের এই প্রতিবেদনে বিশদে আলোচনা করবে বিনামূল্যে দেওয়া সুবিধা’ আর ‘প্রকৃত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প’-এর মধ্যে পার্থক্য ঠিক কোথায়? কোনটা একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সত্যিই প্রয়োজনীয়? অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা কীভাবে এই দুই ধারণাকে ব্যাখ্যা করছেন।

    পশ্চিমবঙ্গ কেন বিতর্কের কেন্দ্রে? (Freebies vs Welfare Debate in India)

    পশ্চিমবঙ্গ এখন এই ‘ফ্রিবি বনাম জনকল্যাণ’ বিতর্কের একেবারে কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে গত প্রায় পনেরো বছরে রাজ্যে এমন একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে, যা একজন নাগরিকের জীবনের প্রায় প্রতিটি পর্যায়কে ছুঁয়ে যায়—জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। রাজ্যের অন্যতম আলোচিত প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যেখানে মহিলাদের প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, এবং চলতি বছরেও সেই বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে ‘যুবসাথী‘ জন্য ভাতা, শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, এবং অন্যান্য নগদ সহায়তা প্রকল্পও চালু রয়েছে।

    এমনকি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বাজেটের পর মন্তব্য করেছিলেন যে, রাজ্যে প্রায় “৯৪টি সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প” চালু রয়েছে, আর কয়েকটি যোগ হলেই তা “সেঞ্চুরি” ছুঁয়ে ফেলত। এই প্রকল্প কাঠামোই এখন মূল বিতর্কের কেন্দ্র।

    এই ধারাবাহিক প্রকল্পগুলির ফলে একদিকে যেমন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, এবং অনুমান করা হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি, রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতির হার প্রায় ১.৭ শতাংশ—যা অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দেয়।

    সুপ্রিম কোর্ট কী বলছে? ফ্রিবি রাজ্যের জন্য কল্যাণকর? (Freebies vs Welfare Debate in India)

    সুপ্রিম কোর্ট এই পুরো বিতর্কে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও প্রকল্প যদি প্রকৃত অর্থে দরিদ্র ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য তৈরি হয়, তাহলে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে—সেই সুবিধা সত্যিই কি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় মানুষের কাছেই পৌঁছচ্ছে, নাকি যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তারাও সেই একই সুবিধা পাচ্ছেন।

    আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যদি অযোগ্য বা অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিরা এই ধরনের প্রকল্পের আওতায় এসে পড়েন, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এতে প্রকৃত দরিদ্রদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের ক্ষমতায়নের যে লক্ষ্য থাকে, তা পূরণ হয় না।

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি কোনও রাজ্য সরকার ভর্তুকি বা আর্থিক সহায়তা দিতে চায়, তাহলে তার জন্য আগে থেকেই বাজেটে সুস্পষ্ট আর্থিক পরিকল্পনা থাকা জরুরি। অর্থাৎ, হঠাৎ করে কোনও প্রকল্প ঘোষণা করা বা অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

    আদালত আরও ইঙ্গিত করেছে, অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এই ধরনের অনুদান বা মাসিক ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে জনসমর্থন বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের আর্থিক কাঠামোর উপর চাপ তৈরি হয়।

    বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে বিচারপতিরা উল্লেখ করেছেন, যদি কোনও রাজ্যে রাজস্ব বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ না থাকে এবং তবুও এই ধরনের ব্যয় বাড়তেই থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, শিক্ষা, পরিকাঠামো বা শিল্পোন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলি পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা স্পষ্ট— সামাজিক সহায়তা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা হতে হবে লক্ষ্যভিত্তিক, পরিকল্পিত এবং আর্থিকভাবে টেকসই। নইলে অতিরিক্ত ভাতা ও অনুদানের চাপ রাজকোষের উপর এমন বোঝা তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ‘ফ্রিবি’ এবং ‘জনকল্যাণ’—এই দুটি শব্দকে এক করে দেখা একেবারেই ভুল। বাহ্যিকভাবে দেখলে দুটোই যেন সরকারের তরফে নাগরিকদের জন্য সুবিধা প্রদান, কিন্তু বাস্তবে এই দুই ধারণার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে—উদ্দেশ্য, কাঠামো, প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের দিক থেকে।

    ‘ফ্রিবি’ মূলত একটি স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের সুবিধা নির্বাচনের আগে ঘোষণা করা হয়, যাতে সরাসরি ভোটারদের আকৃষ্ট করা যায়। এগুলি সাধারণত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে—যার প্রয়োজন আছে কি নেই, সেই ভেদাভেদ অনেক সময় করা হয় না। ফলে এটি একটি সর্বজনীন (universal) সুবিধায় পরিণত হয়, যা রাজ্যের আর্থিক চাপ বাড়ায়।

    অন্যদিকে, ‘জনকল্যাণ’ বা ‘ওয়েলফেয়ার’ একটি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা। এর মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সেই অংশকে সাহায্য করা, যারা সত্যিই পিছিয়ে পড়া বা বঞ্চিত। অর্থাৎ এটি লক্ষ্যভিত্তিক (targeted)—শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় মানুষের জন্য প্রযোজ্য। এখানে উদ্দেশ্য শুধু তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়া নয়, বরং তাদেরকে ভবিষ্যতে স্বনির্ভর করে তোলা।

    কাঠামোগত দিক থেকেও বড় পার্থক্য রয়েছে: ফ্রিবি হঠাৎ ঘোষণা, অনেক সময় নির্দিষ্ট আর্থিক পরিকল্পনা ছাড়াই, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বাচনের আগে গুরুত্ব পায়। জনকল্যাণ একটি সুসংগঠিত নীতি কাঠামোর মধ্যে তৈরি হয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।

    প্রভাবের ক্ষেত্রেও এই দুইয়ের পার্থক্য স্পষ্ট: ফ্রিবি অনেক সময় নির্ভরশীলতা তৈরি করে—মানুষ ধীরে ধীরে সরকারি সহায়তার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।জনকল্যাণ মানুষের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন বাড়ায়—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাংবিধানিক ভিত্তি। ‘জনকল্যাণ’ ধারণাটি ভারতের সংবিধানের রাষ্ট্রের নির্দেশমূলক নীতিতে (Directive Principles of State Policy) স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—বিশেষ করে ৩৬ থেকে ৫১ নম্বর ধারার মধ্যে। এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে নাগরিকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ‘ফ্রিবি’ শব্দটির কোনও স্পষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। এটি মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার একটি পরিভাষা, যা প্রায়শই সমালোচনার প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য পরিষ্কার— ফ্রিবি তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়, কিন্তু জনকল্যাণ দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে শক্তিশালী করে। একটি ভোটের রাজনীতি, অন্যটি উন্নয়নের দর্শন।

    বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ফ্রিবি সম্পর্কে কী জানাচ্ছেন?

    এই বিতর্কে শুধু আদালত বা রাজনীতি নয়, দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরাও তাঁদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তাঁদের বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট—‘ফ্রিবি’ ও ‘জনকল্যাণ’-এর পার্থক্য বোঝার জন্য গভীর অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এই বিষয়টিকে দেখেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তাঁর মতে, উন্নয়ন মানে শুধুমাত্র জিডিপি বৃদ্ধি নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই ঘটে, যখন মানুষের স্বাধীনতা, সক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। অর্থাৎ, শুধু হাতে নগদ অর্থ তুলে দিলেই মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আসে না। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন— স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। এই ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগই মানুষের প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটায়। ‘ফ্রিবি’ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শর্তহীন নগদ হস্তান্তরের চেয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টিতে বিনিয়োগ অনেক বেশি কার্যকর। কারণ, শুধু নগদ পেলেই মানুষ সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে—এই ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।

    অন্যদিকে, ভারতের সংবিধানের প্রধান নির্মাতা বিআর আম্বেদকর রাষ্ট্রের দায়িত্ব সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট ধারণা দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে—

    • মানুষের জীবিকার পর্যাপ্ত উপায়
    • সমান কাজের জন্য সমান মজুরি
    • শিশু ও যুব সমাজকে শোষণ থেকে সুরক্ষা

    এই নীতিগুলিই পরবর্তীতে সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতিতে প্রতিফলিত হয়েছে, যা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করে।

    বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এম লক্ষ্মীকান্ত তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন, ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় থাকা ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দটি রাষ্ট্রকে একটি স্পষ্ট কল্যাণমূলক দায়িত্ব প্রদান করে। তবে তিনি এটাও ব্যাখ্যা করেন—এই সমাজতন্ত্র কোনও কঠোর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা নয়, বরং এমন একটি ভারসাম্য, যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়—দুটোই সমানভাবে গুরুত্ব পায়। এই কারণেই সুপ্রিম কোর্টও বারবার বলেছে—ভারতের সমাজতন্ত্র মানে অন্ধ ভর্তুকি নয়, বরং ন্যায্য সুযোগ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

    সংবিধান বিশেষজ্ঞ গ্রেনভিল অস্টিন এই প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সংবিধান রাষ্ট্রকে অবশ্যই কল্যাণমূলক কাজ করার নির্দেশ দেয়, কিন্তু সেই কাজ হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে। শুধুমাত্র নির্বাচনী চমক বা তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না।

    অন্যদিকে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মিল্টন ফ্রিডম্যান তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Capitalism and Freedom-এ একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার চাইলে নির্দিষ্ট আয়সীমার নিচে থাকা মানুষদের সরাসরি নগদ সহায়তা দিতে পারে, যা ‘নেগেটিভ ইনকাম ট্যাক্স’ ধারণার সঙ্গে যুক্ত। তবে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন—
    সকলকে বিনা শর্তে নগদ অর্থ বিতরণ করা উচিত নয়, কারণ তা অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং উৎপাদনশীলতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত (Freebies vs Welfare Debate in India) থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার— প্রকৃত জনকল্যাণ মানে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন, আর ফ্রিবি অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ও রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

    #SupremeCourtIndia #MamataBanerjee #WelfareSchemesIndia #FreebiePolitics#IndianEconomy #PublicPolicy

    সাম্প্রতিক পোস্ট

    • বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
    • ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
    • স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
    • মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
    • যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

    Freebie Politics Freebies vs Welfare India Economy Indian Economy Debate Mamata Banerjee Schemes Public Policy India Social Welfare India Supreme Court India Welfare Schemes India
    Follow on Facebook Follow on WhatsApp Follow on X (Twitter) Follow on Instagram Follow on Pinterest Follow on YouTube
    Share. WhatsApp Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Telegram Email Reddit Copy Link
    Previous Articleসুপার এলনিনো আসছে! তবে কি পৃথিবী নতুন বিপদের মুখে? জানুন, ভারতে কী হতে চলেছে?
    Next Article এক কবিতার শক্তিতেই ইতিহাস! সাহিত্য অ্যাকাডেমি জিতলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় │ এই কবির কলমে কী এমন জাদু আছে ?

    Related Posts

    বন্ধ হচ্ছে টেলিগ্রাম! কেন এই পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের পদক্ষেপ

    June 16, 2026

    অভিষেকের অনুপস্থিতিতেই বাড়িতে পুরসভা! বেআইনি নির্মাণ মিললে আজই কি চলবে বুলডোজার?

    June 16, 2026

    আট মাসে ২১ বার বিকল সরকারি বোরওয়েল! জলসংকটে অতিষ্ঠ অশোক বিহার, মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ কর্তাদের কাছে অভিযোগ

    June 16, 2026

    তেত্রিশতম আন্তর্জাতিক সম্মান মোদীর ঝুলিতে! এটা কি তবে ভারতের কূটনৈতিক শক্তির বড় প্রমাণ?

    June 16, 2026

    ঘরে-বাইরে বিপদে অভিষেক? অভিষেকের পাশে কি আর নেই মমতা? তৃণমূলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

    June 16, 2026

    দিল্লির পর এবার কি বাংলাতেও একই পথে? বাংলার রাজনীতিতে কি আসছে নতুন মোড়?

    June 16, 2026
    আরও পড়ুন

    বন্ধ হচ্ছে টেলিগ্রাম! কেন এই পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের পদক্ষেপ

    অভিষেকের অনুপস্থিতিতেই বাড়িতে পুরসভা! বেআইনি নির্মাণ মিললে আজই কি চলবে বুলডোজার?

    আট মাসে ২১ বার বিকল সরকারি বোরওয়েল! জলসংকটে অতিষ্ঠ অশোক বিহার, মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ কর্তাদের কাছে অভিযোগ

    তেত্রিশতম আন্তর্জাতিক সম্মান মোদীর ঝুলিতে! এটা কি তবে ভারতের কূটনৈতিক শক্তির বড় প্রমাণ?

    ঘরে-বাইরে বিপদে অভিষেক? অভিষেকের পাশে কি আর নেই মমতা? তৃণমূলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

    1 2 3 … 116 Next
    আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    সাম্প্রতিক পোস্ট
    খবর-OFFBEAT

    বন্ধ হচ্ছে টেলিগ্রাম! কেন এই পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের পদক্ষেপ

    Telegram Ban in India ঘিরে নতুন বিতর্ক। নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সাময়িকভাবে টেলিগ্রামে নিষেধাজ্ঞা…

    অভিষেকের অনুপস্থিতিতেই বাড়িতে পুরসভা! বেআইনি নির্মাণ মিললে আজই কি চলবে বুলডোজার?

    আট মাসে ২১ বার বিকল সরকারি বোরওয়েল! জলসংকটে অতিষ্ঠ অশোক বিহার, মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ কর্তাদের কাছে অভিযোগ

    তেত্রিশতম আন্তর্জাতিক সম্মান মোদীর ঝুলিতে! এটা কি তবে ভারতের কূটনৈতিক শক্তির বড় প্রমাণ?

    ঘরে-বাইরে বিপদে অভিষেক? অভিষেকের পাশে কি আর নেই মমতা? তৃণমূলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

    আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

    অফবিট লেখা ও নতুন তথ্য আপনার ইনবক্সে পেতে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন।

    June 2026
    MTWTFSS
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930 
    « May    
    আমাদের কথা
    আমাদের কথা

    NewsOffBeat-এ স্বাগতম।
    এখানে পাবেন অফবিট গল্প, ভ্রমণ, সংস্কৃতি, রীতি-নীতি, খাবার এবং জীবনযাপনের নানা দিক। সঙ্গে রয়েছে প্রযুক্তির সর্বশেষ আপডেট, ভিন্নধর্মী খাদ্যাভ্যাস, ফ্যাশন ট্রেন্ড, মেকআপ টিপস, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা, যোগব্যায়ামের উপকারিতা এবং পুষ্টিকর খাদ্যসংক্রান্ত তথ্য।
    অদ্ভুত, ব্যবহারযোগ্য, মনভোলানো এবং অনুপ্রেরণাদায়ক কনটেন্টের জন্য, আমাদের সঙ্গে থাকুন লেখায়, ছবিতে, ভিডিওতে— নিউজ অফবিট : খবরের স্বাদবদল

    সাম্প্রতিক পোস্ট

    বন্ধ হচ্ছে টেলিগ্রাম! কেন এই পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের পদক্ষেপ

    অভিষেকের অনুপস্থিতিতেই বাড়িতে পুরসভা! বেআইনি নির্মাণ মিললে আজই কি চলবে বুলডোজার?

    আট মাসে ২১ বার বিকল সরকারি বোরওয়েল! জলসংকটে অতিষ্ঠ অশোক বিহার, মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ কর্তাদের কাছে অভিযোগ

    Pages
    • NewsOffbeat বাংলা | Bengali Offbeat News, Lifestyle, Travel & Food Updates
    • আমাদের কথা (About Us)
    • Contact Us (যোগাযোগ)
    • Privacy Policy
    • Terms and conditions
    • Sitemape
    Facebook YouTube X (Twitter) Instagram Pinterest
    • খবর-OFFBEAT
    • TRAVEL-অফবিট
      • চলো-চলি
      • যাত্রা-মন্ত্র
      • রঙ-রীতি
    • ভোজ-ON
      • ফিট-বাইট
      • রান্না-ঝটপট
    • জীব-ON শৈলী
      • ফিটনেস ফান্ডা
      • রূপকথা
      • চুপকথা
      • টিপস এন্ড ট্রিকস
      • স্মার্ট-মানি
    • অ্যাস্ট্রো-TaLK
      • আয়ুরেখা
      • গ্রহ-গণিত
      • তত্ত্বকথা ও কাহিনী
    • টেক-TrendZ
      • এআইভার্স
      • টেক-KNOW
      • ট্রেন্ডিং-TaLK
    • মিক্স-৪
      • ইচ্ছে-ডানা
      • চুম্বক কাহিনি
      • লাইম লাইট
      • সাফল্যের দিশারি
    News OFFBEAT © 2022-2025. All Rights Reserved.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.