India Permanent Seat UN Security Council: রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ বাড়ানোর পক্ষে রাশিয়ার সমর্থন ভারতের দাবিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে চিনের অবস্থান, ভেটো ক্ষমতা নিয়ে মতপার্থক্য এবং সনদ সংশোধনের জটিল প্রক্রিয়ার কারণে ভারতের স্থায়ী আসনের পথ এখনও অনিশ্চিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের ভারতের। এবার সেই দাবির প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সমর্থন এবং চিনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে। নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী আসনের দাবিকে রাশিয়া সমর্থন করলেও, পরিষদের কাঠামো বদলানোর জন্য শুধু একটি দেশের সমর্থন যথেষ্ট নয়। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ বাড়ানো এবং তার ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি নির্ভর করছে রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ সংশোধনের জটিল প্রক্রিয়ার উপর। অন্যদিকে, চিনও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং তার হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। ফলে ভারতের দাবির ক্ষেত্রে চিনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়ার সমর্থন থাকা সত্ত্বেও আগামী দিনে কি নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারতকে দেখা যাবে?
নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে কেন প্রশ্ন?
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে বর্তমানে মোট ১৫টি সদস্যরাষ্ট্র রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য। অস্থায়ী সদস্যরা দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের এই কাঠামো যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করা হয়।
ভারতের বক্তব্য, বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো জরুরি বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভারতের অবদান এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার কথাও স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার দাবির পক্ষে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারত একাধিকবার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। পাশাপাশি, পরিষদের সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বস্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক ও কার্যকর করে তুলতে হবে।
নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের দাবিতে ভারতের যুক্তি
ভারতের দাবি, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের পরিবর্তন ঘটেছে। সেই পরিবর্তন রাষ্ট্রপুঞ্জের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতেও প্রতিফলিত হওয়া দরকার। উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও অংশগ্রহণমূলক হতে পারে বলে ভারতের বক্তব্য।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন নিউইয়র্কে একটি বহুপাক্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এস জয়শঙ্কর সংস্কার করা বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সময় এসেছে।
তবে ভারতের দাবির পক্ষে সমর্থন থাকলেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার পথ সহজ নয়। পরিষদের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো, নতুন স্থায়ী আসন তৈরি করা এবং ভেটো ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে কেন এত বাধা?
নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ সংশোধন করতে হলে সাধারণ পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপুঞ্জের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যরাষ্ট্রের অনুমোদনও দরকার। এর মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন ও আমেরিকার অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
ফলে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই পাঁচটি দেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেটো ক্ষমতা নিয়েও সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। রাশিয়া অতিরিক্ত স্থায়ী আসন তৈরির পক্ষে সমর্থন জানালেও বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখার কথা বলেছে।
এ ছাড়া নতুন স্থায়ী আসন কতগুলি হবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সেগুলি কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা নিয়েও রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য দেশগুলির মধ্যে একমত হওয়া যায়নি।
ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পথে চিন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের দাবির ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু মস্কোর সমর্থনে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ, চিনও পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অন্যতম এবং তার হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা।
ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে রাশিয়া যেভাবে সমর্থন করেছে, চিন এখনও পর্যন্ত সেই একইভাবে ভারতের প্রার্থিতাকে সমর্থন করেনি। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনায় চিনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে সাম্প্রতিক ব্রিকস ঘোষণায় চিন ও রাশিয়া যৌথভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারত ও ব্রাজিলের বৃহত্তর ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করেছে। নিরাপত্তা পরিষদ-সহ রাষ্ট্রপুঞ্জের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই দুই দেশের আরও বেশি ভূমিকা পালনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে তারা।
এই সমর্থন ভারতের দাবিকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর অর্থ এই নয় যে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো বদলাতে প্রয়োজন বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ঐকমত্য এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ সংশোধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
আগামী দিনে কি নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসেবে দেখা যাবে ভারতকে?
রাশিয়ার সমর্থন, চিন ও রাশিয়ার যৌথ ঘোষণায় ভারতের বৃহত্তর ভূমিকার স্বীকৃতি এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবির মধ্য দিয়ে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে স্থায়ী আসন পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।
বর্তমানে মূল বাধাগুলির মধ্যে রয়েছে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অনুমোদন, ভেটো ক্ষমতা নিয়ে মতপার্থক্য এবং নতুন আসনগুলির আঞ্চলিক বণ্টন নিয়ে ঐকমত্যের অভাব। তাই রাশিয়ার সমর্থন ভারতের দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ বাড়বে, তা এখনও নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক আলোচনার অগ্রগতির উপর।
#IndiaUNSC #IndiaPermanentSeat #UNSecurityCouncil #UNSCReform #RussiaIndia #ChinaIndia #BRICS #GlobalGovernance #InternationalDiplomacy
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

