ISRO Scientists Resignation: ইসরো থেকে একের পর এক বিজ্ঞানীর পদত্যাগে বাড়ছে উদ্বেগ। এর নেপথ্যে কি শুধু বেশি বেতন, নাকি প্রশাসনিক জটিলতাও দায়ী? উঠে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি ইসরো থেকে একশোরও বেশি অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছাবসরের খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—এর জন্য কি কেন্দ্র সরকার দায়ী? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি দুটি আলাদা দিক থেকে দেখা জরুরি। একদিকে বিজ্ঞানীরা কেন ইসরো ছাড়ছেন, অন্যদিকে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
কেন ইসরো ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা?
সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত প্রসার। ২০২০ সালে কেন্দ্র সরকার মহাকাশ খাত বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত করার পর দেশে ৪০০-রও বেশি স্পেস স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেসের মতো সংস্থাগুলি অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের মোটা বেতনের পাশাপাশি শেয়ার, দ্রুত পদোন্নতি এবং স্বাধীনভাবে গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে অনেক বিজ্ঞানী সরকারি সংস্থা ছেড়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।
দ্বিতীয় বড় কারণ বেতন বৈষম্য। ইসরোতে সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী একজন এন্ট্রি-লেভেল বিজ্ঞানীর মাসিক বেতন প্রায় ৭২ হাজার টাকা। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরেও সিনিয়র বিজ্ঞানীদের বেতন সরকারি সীমার মধ্যেই থাকে। অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলি একই অভিজ্ঞতার বিজ্ঞানীদের বছরে ৫০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত বেতন, সঙ্গে কোম্পানির শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। ফলে অনেকের কাছেই বেসরকারি সংস্থার অফার বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
এছাড়া ইসরোর অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিলম্বও কিছু বিজ্ঞানীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
কেন্দ্রের ভূমিকা কতটা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ কেন্দ্র সরকার নয়। বরং দ্রুত পরিবর্তিত মহাকাশ শিল্প, বেসরকারি সংস্থার আকর্ষণীয় সুযোগ এবং সরকারি বেতন কাঠামোর সীমাবদ্ধতাই বিজ্ঞানীদের ইসরো ছাড়ার অন্যতম কারণ।
তবে এই প্রবণতা বাড়তে থাকায় কেন্দ্র সরকার প্রশাসনিক কড়াকড়ি করেছে। ১৪ জুলাই জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গগনযান-সহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যুক্ত গ্রুপ-এ বিজ্ঞানী ও কারিগরি কর্মীদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছাবসরের আবেদন আর রুটিন প্রক্রিয়ায় অনুমোদন করা হবে না। আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ডিরেক্টররা এই আবেদন অনুমোদন করতে পারলেও, এখন থেকে সেই সিদ্ধান্ত নেবে সরাসরি মহাকাশ বিভাগ (Department of Space)।
কেন্দ্রের যুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প চলাকালীন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের একসঙ্গে ইস্তফা দেশের মহাকাশ কর্মসূচির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পদত্যাগ ও স্বেচ্ছাবসরের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নিয়ম কঠোর করে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। ইসরোর বেতন কাঠামো আরও প্রতিযোগিতামূলক করা, দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ তৈরি, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং গবেষণায় আরও স্বাধীনতা দেওয়ার মতো নীতিগত সংস্কারই বিজ্ঞানীদের ধরে রাখার কার্যকর উপায় হতে পারে।
ইসরো থেকে বিজ্ঞানীদের চলে যাওয়ার মূল কারণ কেন্দ্র সরকারের কোনও একক সিদ্ধান্ত নয়। বরং বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত বিকাশ, বেশি বেতন, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং সরকারি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই এই প্রবণতার প্রধান কারণ। কেন্দ্র আপাতত পদত্যাগের নিয়ম কঠোর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন বড় ধরনের নীতিগত সংস্কার।
#ISRO #IndianScientists #SpaceResearch #Gaganyaan #SpaceStartups #IndiaNews #Science #ISROMission
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

