Jadavpur Election 2026 Battle: যাদবপুরে এবারের ভোটে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উন্নয়ন, বিরোধী মনোভাব ও অতীতের রাজনৈতিক আবেগ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ, যেখানে প্রতিটি ভোটই নির্ধারণ করতে পারে চূড়ান্ত ফলাফল।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র এবার অন্যতম হেভিওয়েট আসন হিসেবে উঠে এসেছে। এই কেন্দ্রে প্রধান আকর্ষণ বাম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, যিনি পেশায় একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং প্রাক্তন কলকাতা মহানাগরিক।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দুর্নীতি বিরোধী মামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত ও দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছেন এবং প্রার্থীদের ন্যায়বিচারের পক্ষে লড়াই করেছেন। এই কারণেই তিনি দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত।
এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়, যিনি পেশায় একজন অভিনেত্রী। ফলে তিনটি প্রধান দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে ত্রিকোণ লড়াই।
আগের নির্বাচনের ফলাফল কী বলছে?
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএমের সুজন চক্রবর্তী প্রায় ৯৮ হাজার ৯৭৭টি ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের মনীশ গুপ্ত-কে প্রায় ১৪ হাজার ৯৪২ ভোটে পরাজিত করেন।
অন্যদিকে ২০২১ সালের নির্বাচনে পরিস্থিতি বদলায়। তৃণমূল কংগ্রেসের দেবব্রত মজুমদার প্রায় ৯৮ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং সুজন চক্রবর্তীকে প্রায় ৬৮ হাজার ৮৬৯ ভোটে হারান।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সায়নী ঘোষ জয়ী হন। এর আগে এই আসন থেকে মিমি চক্রবর্তী প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে এবার তাঁকে দল মনোনয়ন দেয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি: জনমনে কী ভাবনা?
বর্তমান পরিস্থিতিতে যাদবপুর কেন্দ্রে এক স্পষ্ট ত্রিকোণ সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
- তৃণমূল কংগ্রেস তাদের উন্নয়নমূলক কাজের উপর ভরসা রাখছে
- বিজেপি লোকসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকার ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে
- বাম শিবির বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে শক্তিশালী মুখ হিসেবে তুলে ধরছে
তবে স্থানীয় স্তরে উন্নয়ন নিয়ে কিছু অসন্তোষের কথাও শোনা যাচ্ছে, যা এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ওয়ার্ডভিত্তিক সমীকরণ
যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা পৌরসভার মোট ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত—
১০৮, ১০৯, ১১০, ১১১, ১১২, ১১৩, ১১৪, ১১৫, ১১৬ এবং ১২০ নম্বর ওয়ার্ড।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—
- ১১১, ১১২ ও ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাম প্রার্থীর এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি
- ১০৮, ১১০ ও ১১৫ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি
- ১১৬ ও ১২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রভাব বাড়তে পারে, বিশেষ করে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনায়
কার দিকে ঝুঁকছে পাল্লা?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র এবার এক ত্রিমুখী লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে বাম শিবির এবং পাশাপাশি বিজেপি—এই তিন শক্তির মধ্যে তৈরি হয়েছে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, পনেরো বছরের দীর্ঘ শাসনের ফলে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাব বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগাতে চাইছেন বাম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।
বাম শিবিরের কাছে এই লড়াই শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং আবেগের লড়াইও বটে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-এর স্মৃতি এবং অতীতের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই তারা এগোতে চাইছে। যাদবপুরের ‘লালগড়’ হিসেবে পরিচিত অঞ্চল একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেই ভাবমূর্তিকেই আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের উন্নয়নমূলক কাজ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পকে সামনে রেখে ভোটে নামছে। বিদায়ী বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার জনসংযোগ ও এলাকার উন্নয়নকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এই সমীকরণে বিজেপিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে যদি বাম ভোটে বিভাজন ঘটে, তাহলে তার সরাসরি সুবিধা পেতে পারে বিজেপি প্রার্থী। ফলে এই কেন্দ্রের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে ভোট ভাগাভাগির উপর।
ইতিহাস বলছে, যাদবপুর একসময় বামেদের অপ্রতিরোধ্য ঘাঁটি ছিল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৩, ২০০১ এবং ২০০৬—মোট পাঁচবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসন হাতছাড়া হয় বামেদের।
এবার সেই হারানো জমি ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে লড়াইয়ে নেমেছে বাম শিবির। তাদের আশা, শূন্য থেকে শুরু করে আবারও এই কেন্দ্রে নিজেদের অবস্থান মজবুত করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, যাদবপুরে এবারের লড়াই অত্যন্ত জমজমাট, যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবারের নির্বাচনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হেভিওয়েট লড়াইয়ের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। ত্রিকোণ সমীকরণ, জনঅসন্তোষ, উন্নয়ন ইস্যু এবং শক্তিশালী প্রার্থীদের উপস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে এই কেন্দ্রের ফলাফল হতে পারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- দিনের ২৪ ঘণ্টা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন! জানুন, সময় ব্যবহারের এই সহজ কৌশল
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- শালিমার বাগের ভবিষ্যৎ রহস্য: প্রেম, স্মৃতি আর সময়কে ছাপিয়ে ভবিষ্যৎ কি বদলে দেবে ইতিহাস?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যায়? এই ৬টি সহজ টিপস জানলে সিলিন্ডার চলবে বেশি দিন

