Kalicharan Bandyopadhyay Taratala Case: তারাতলা কাণ্ডের তদন্তে বারবার উঠে আসছে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন ওএসডিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, তদন্ত এবং একাধিক প্রশ্নে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: তারাতলা নির্মাণ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫-এ পৌঁছতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। বিধানসভায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদনের নথিতে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। সেই সঙ্গেই তিনি সামনে আনেন আরেকটি নাম—কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কে এই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন তাঁকে ঘিরে এত আলোচনা শুরু হয়েছে?
কে এই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক মহলে পরিচিত মুখ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই দেখা হতো।
পুরসভার অন্দরে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, মেয়রের সঙ্গে প্রশাসনিক বা সরকারি বিষয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। অনেক ক্ষেত্রেই মেয়রের দপ্তরের কাজ তাঁর মাধ্যমেই পরিচালিত হতো।
কর্মজীবনের শুরু
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে তিনি রাজ্য রাজস্ব পরিষেবায় (রেভিনিউ সার্ভিস) যোগ দেন।
এরপর ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসের (WBCS) পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। একই সময়ে পুলিশ পরিষেবার পরীক্ষাতেও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ২০০৮ সালে পুলিশ বিভাগে যোগদানের সুযোগ পেলেও পরে প্রশাসনিক পরিষেবাতেই কাজ চালিয়ে যান।
২০০৯ সালে কলকাতা পুরসভার ডেপুটি ম্যানেজার পদে পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি কলকাতা পুরসভায় যোগ দেন। সেই সময় ৯ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। এরপর থেকেই তাঁদের প্রশাসনিকভাবে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়।
কী অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তর থেকে ওএসডি পদে আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে মেয়রের দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব তাঁর হাতেই ছিল।
এছাড়াও শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের দলীয় ভবন নির্মাণে বিপুল অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলেও, আদালতে তা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
তারাতলা বিপর্যয়ের সঙ্গে কেন উঠে আসছে এই নাম?
তারাতলা নির্মাণ বিপর্যয়ের পর বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী যে নথি দেখান, সেখানে নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, পরিকল্পনায় কাঠামোগত ত্রুটির উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটেই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে এনে তিনি দাবি করেন, মেয়রের দপ্তরের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নথিপত্রের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তারাতলা বিপর্যয়ে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা মামলা ঘোষণা করেনি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও আইনি তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর ভূমিকা ও বিভিন্ন নথি নিয়ে বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছেন।
এখন নজর তদন্তের দিকে। বিধানসভায় ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেটাই আগামী দিনে দেখার।
#KalicharanBandyopadhyay #FirhadHakim #TaratalaCase #TaratalaCollapse #KolkataPolitics #WestBengalPolitics #KMC #PoliticalNews #BengalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

