Kolkata Municipal Corporation Crisis: রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা। ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে অসন্তোষ, সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং কাউন্সিলরদের অস্বস্তির আবহে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে শহরের প্রশাসনিক অন্দরে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে শুধু রাজনৈতিক পালাবদলই ঘটেনি, কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামোও ভেঙে পড়েছে। ক্ষমতা হারানোর পর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং দলের অভ্যন্তরে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভাই তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা শেষ বড় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই দুর্গও কতদিন ধরে রাখা যাবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতা পুরসভার বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সন্তুষ্ট নন। রাজ্যে ক্ষমতা হারালেও কলকাতা পুরসভার নিয়ন্ত্রণ যাতে দলের হাতেই থাকে, সে বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই কারণেই বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পরিবর্তে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে মেয়র পদে আনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
এদিকে নির্বাচনী পরাজয়ের পর থেকেই দলের ভেতরে ভাঙনের ছবি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সাংসদীয় দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরে অসন্তোষ বাড়ছে। রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতাদের দায়িত্ব বিলুপ্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এবং প্রথম সারির নেতা পদত্যাগ করেছেন। দেবলীনা বিশ্বাস, তারক সিং, অরূপ চক্রবর্তী ও সুশান্ত ঘোষের মতো পরিচিত মুখদের নাম সেই তালিকায় রয়েছে। বহু কাউন্সিলরও বর্তমানে সক্রিয় নন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে খবর। যদিও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে এখনও পদত্যাগ করেননি, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে দলীয় স্তরেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এরপরই সামনে এসেছে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে মেয়র করার সম্ভাবনা। বর্তমান আইনে কাউন্সিলর না হয়েও মেয়র হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ছয় মাসের মধ্যে কোনো একটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়ে কাউন্সিলর হতে হয়। সেই কারণে আইনি দিক থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে মেয়র করার ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ঘটে, তাহলে কলকাতা পুরসভার অন্দরেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। অনেক কাউন্সিলর কালীঘাটের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারেন। ইতিমধ্যেই দলের ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বেড়েছে বলে আলোচনা চলছে।
ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই— রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর কি এবার কলকাতা পুরসভার নিয়ন্ত্রণও হাতছাড়া হওয়ার মুখে? আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে। একই সঙ্গে স্পষ্ট হবে, কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ বড় ঘাঁটির ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে।
#MamataBanerjee
#FirhadHakim
#WestBengalPolitics
#TrinamoolCongress
#PoliticalCrisis
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে থেকে?

