Bidhannagar Extortion Allegations: বৈশাখী বাজার পরিদর্শনে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের অভিযোগ শোনেন বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। অভিযোগের জেরে তিনি ব্যবসায়ীদের আর কোনও অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তোলাবাজিমুক্ত বিধাননগর গড়ার আশ্বাস দেন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বিধাননগরের বৈশাখী বাজার পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আনলেন ১১৬ নম্বর বিধাননগর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বাজার ঘুরে দেখার সময় তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজার সংলগ্ন ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বেআইনিভাবে ব্যবসা চলছে। তাঁর অভিযোগ, এই ব্যবসার পিছনে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মদত এবং নিয়মিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠে এসেছে।
পরিদর্শনের সময় এক ‘গুড সাপ্লাই বাংলা’-র ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি গত কয়েক বছর ধরে বৈশাখী মার্কেট এলাকায় রাস্তার ধারে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিধায়কের দাবি, ওই ব্যক্তির বাড়ি বাসন্তীতে হলেও তাঁর কাছে কোনও বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র ছিল না। কীভাবে এমন একজন ব্যক্তি দিনের পর দিন সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এরপর বৈশাখী মলের পিছনের মাঠে বহু বছর ধরে বসা অস্থায়ী বাজারে যান শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতেই উঠে আসে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের অধিকাংশ দোকানের কোনও বৈধ নথি না থাকার সুযোগ নিয়ে এলাকার কিছু তৃণমূল নেতা নিয়মিত টাকা আদায় করেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল নেতা বাপি ঘোষ এবং সোমনাথ নামে এক ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে পাঁচ হাজার, দশ হাজার, এমনকি বারো হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। এই অভিযোগের মুখে বিধায়কের সামনেই সমনাথ দাবি করেন, ওই টাকা বছরে একবার গণেশ পুজোর চাঁদা হিসেবে নেওয়া হয়।
তবে সেই দাবি সঙ্গে সঙ্গেই খারিজ করে দেন উপস্থিত এক ব্যবসায়ী। তিনি স্পষ্ট জানান, এটি কোনও গণেশ পুজোর চাঁদা নয়। তাঁর দাবি, বাজারে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে প্রতি মাসেই এই টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ এটি নিয়মিত তোলা হিসেবেই আদায় করা হয়।
ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, আদায় করা এই টাকা স্থানীয় কাউন্সিলরের সহকারীর হাতে ওয়ার্ড অফিসে গিয়ে জমা দেওয়া হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সমস্ত অভিযোগ শোনার পর ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন বিজেপি বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আজ থেকে কাউকে কোনও টাকা দেবেন না। যদি কেউ জোর করে টাকা চাইতে আসে, আমাকে জানাবেন। আমি বিষয়টি দেখব।”
বিধায়কের এই আশ্বাসে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। বিধায়কের প্রকাশ্য আশ্বাসে তাঁরা কিছুটা সাহস পেয়েছেন এবং এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পরে সাংবাদিকদের বলেন, “তোলাবাজিমুক্ত বিধাননগর গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। কোনও ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে বা চাপ দিয়ে টাকা আদায় করতে দেওয়া হবে না। আইন মেনে ব্যবসা করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
বৈশাখী বাজারে বিধায়কের এই পরিদর্শনের পর ওঠা অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
#Bidhannagar #BaishakhiMarket #SharadwatMukhopadhyay #BJP #Extortion #WestBengal #Politics #SaltLake
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

