পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি মুক্তি পাচ্ছে বড়দিনে (‘Loh Gauranger Nam Re’ movie release)। বেশকিছু নতুন মুখ আত্মপ্রকাশ করছে বাংলা সিনেমা ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে ‘ হাত ধরে। ইতিহাস, বাংলার রাজনীতির সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখতে পাবেন দর্শকরা এই সিনেমায়। বিস্তারিত জানুন প্রতিবেদন থেকে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বড়দিনে অর্থাৎ ২৫শে ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে বাংলা সিনেমা ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে ‘। পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায় বাঙালি দর্শককে একাধিক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। বিভিন্ন স্বাদের গল্প দিয়েছেন দর্শকদের। প্রেম, থ্রিলার, সামাজিক সমস্যাকেন্দ্রিক, গোয়েন্দাধর্মী, সাহিত্য নির্ভর কাহিনী তার সিনেমার প্রেক্ষাপটে বারবার উঠে এসেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ঐতিহাসিক গল্পের প্রেক্ষাপটে ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ আরো একবার বাঙালিকে হলমুখী করতে চলেছে। এই সিনেমা ইতিহাসের পাশাপাশি রাজনীতি, সংস্কৃতিকেও তুলে ধরেছে। সিনেমাটি দর্শক কেন দেখবেন? ২০২৫ সালে এসে প্রায় ৫০০ বছর পুরনো ইতিহাসের আজকের দিনে প্রাসঙ্গিকতা কোথায়, সেই কথাই তুলে ধরেছেন পরিচালক এই সিনেমার মাধ্যমে। প্রতিবেদনে জানুন সিনেমার কলাকুশলী, শুটিং স্পট, বিস্তারিত তথ্য।
আরও পড়ুন : মুক্তি পেয়েছে অবতার ৩ │ জানুন, নতুন সিক্যুয়েল কি ভাঙবে পুরনো রেকর্ড? Avatar 3 Release Update
ইতিহাস, রাজনীতি আর সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র এই সিনেমা
‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ শুধুমাত্র ভক্তিমূলক সিনেমা নয়, বরং এটি বাংলা সমাজ-সংস্কৃতির শিকড়ে ফিরে যাওয়ার এক শিল্পিত যাত্রা। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর নামসংকীর্তনের আন্দোলন কেবল ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বাঙালির চেতনার এক অংশ। সৃজিত মুখোপাধ্যায় এই প্রাচীন ভাবধারাকে আধুনিক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এনে নতুন প্রশ্ন তুলেছেন — আজকের সমাজে ভক্তি, মানবতা ও সত্যের স্থান কোথায়? ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে মানুষের মধ্যে সাম্য আনার বার্তা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বহু বছর আগেই দিয়েছেন। যুদ্ধ কখনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারেনা, চৈতন্য মহাপ্রভুর সেই বার্তাই প্রতিফলিত হয়েছে সিনেমার পর্দায়।
নতুন মুখ, নতুন গল্প – বাঙালির পর্দায় নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশ
এই ছবির অন্যতম চমক হলো নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের আত্মপ্রকাশ। তাদের অভিনয়ে দর্শক দেখবেন এক নতুন বাংলা — যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা হাত ধরাধরি করে চলে। পরিচালক নিজে বলেছেন, এই ছবির প্রতিটি চরিত্রই ইতিহাসের সঙ্গে সংলাপ করছে, আবার আজকের সমাজের প্রতিচ্ছবি। তরুণদের চোখ দিয়ে পুরনো সময়কে নতুনভাবে দেখা — সেটাই ছবির প্রাণ। ছবির কলাকুশলীদের অনেকেই ছোট পর্দার চেনা মুখ। কিন্তু বাংলা সিনেমায় আত্মপ্রকাশ প্রথম। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন যিশু সেনগুপ্ত একটি বিশেষ চরিত্রে। ছোট পর্দার অতি পরিচিত মুখ দিব্যজ্যোতি অভিনয় করেছেন মহাপ্রভুর চরিত্রে। সঙ্গে রয়েছেন আরাত্রিকা। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় তিনি রয়েছেন বিনোদিনীর চরিত্রে। সব মিলিয়ে এই সিনেমার কাস্টিং জমজমাট।
সিনেমায় সংগীত কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলা সিনেমা অনেকদিন আগে থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। বর্তমানে সিনেমায় কনটেন্ট নির্ভর গল্প অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। এই সিনেমার একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল সংগীত। কবীর সুমন অনেকদিন পরে বাংলা সিনেমার সংগীতে বিরাট ভূমিকা পালন করেছেন। এখন দেখার জাতিস্মরের মতোই আবারো জাতীয় পুরস্কার আসে কিনা। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর সংগীত পরিচালনায় , অরিজিৎ সিং, জয়তী চক্রবর্তী প্রমুখ শিল্পীরাই এই সিনেমাতে গান গেয়েছেন। কীর্তন সিনেমার একটি বিশেষ অঙ্গ। সিনেমার শুটিং স্পট পুরীর মন্দিরের কাছে একটি অফবিট স্থান। মৃদঙ্গ, বাঁশি আর ডিজিটাল সিন্থেসাইজারের এক অনন্য সংমিশ্রণ দর্শককে অন্য এক আবেগে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ হয়তো শুধুই এক সিনেমা নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও মানবিক অন্বেষণ।
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাতে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর নাম হয়ে উঠেছে কেবল ধর্মের প্রতীক নয়, বরং এক মানবিক জাগরণের বার্তা। দর্শকের প্রত্যাশা তাই আকাশছোঁয়া — বড়দিনে প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।

