Lost Luggage Tracking at Airport: বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে কী করবেন? আধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি, পিআইআর নম্বর এবং লাগেজ অনুসন্ধান ব্যবস্থার সাহায্যে এখন খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: অনেক দিন পর বাড়ি ফেরা। লন্ডনের ব্যস্ত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে অবশেষে কলকাতায় ফিরছে কুহু। প্লেনের জানালার বাইরে ভোরের কলকাতা যখন দেখা যাচ্ছিল, তখনই মনে হচ্ছিল—এই তো, আবার নিজের শহর, নিজের মানুষ। সেই উত্তেজনা, সেই আনন্দ—সব মিলিয়ে কুহুর মনে তখন এক অদ্ভুত আবেগ। বিমান অবতরণ করার পর সব যাত্রীদের মতো সেও পৌঁছে গেল এয়ারপোর্টের লাগেজ বেল্টের সামনে। একে একে স্যুটকেস ঘুরে আসছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর অবশেষে নিজের ব্যাগটি দেখতে পেয়ে সেটি তুলে নিল। তখন খুব একটা খেয়াল করেনি—কারণ মাথায় তখন শুধু একটাই ভাবনা, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি পৌঁছানো।
এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠেছে কুহু। ঠিক তখনই হঠাৎ মনে হল কিছু একটা যেন ঠিক নেই। গাড়ির সিটের পাশে, পায়ের কাছে, সব জায়গায় চোখ বুলিয়ে বুঝতে পারল, তার একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাগ নেই! মুহূর্তের মধ্যেই বুক ধকধক করতে শুরু করল। সেই ব্যাগের মধ্যেই ছিল গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, কিছু দামি জিনিস এবং ভ্রমণের দরকারি অনেক কিছু। মনে পড়ল—লাগেজ বেল্ট থেকে ব্যাগ তোলার সময় হয়তো ভুল হয়েছে, অথবা হয়তো অন্য কেউ ভুল করে নিয়ে চলে গেছে। এই ঘটনাটা কি আপনার কাছে খুব পরিচিত লাগছে? হয়তো আপনার সঙ্গেও কখনও এমনটা হয়েছে। বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট থেকে ব্যাগ হারিয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভ্রমণ করেন, আর সেই ভিড়ের মধ্যে অনেক সময় এমন ভুল বা সমস্যা ঘটে যায়। তাই দুশ্চিন্তা নয়। নিউজ অফবিট আপনাদের জানাবে—এয়ারপোর্ট থেকে হারিয়ে যাওয়া লাগেজ কীভাবে ট্র্যাক করবেন, কোথায় খোঁজ করবেন, আর কীভাবে আবার নিজের ব্যাগ ফিরে পাওয়া সম্ভব।
লাগেজ ট্র্যাক কীভাবে আপনি করবেন?
বেশিরভাগ বিমান সংস্থার নিজেদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ থাকে। সেখানে ব্যাগের ট্র্যাক নম্বর বা বুকিং রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে খুব সহজেই লাগেজের অবস্থান জানা যায়। আপনি যখন বিমানবন্দরে লাগেজ জমা দেন, তখন একটি ট্যাগ বা নম্বর দেওয়া হয়। সেই নম্বর দিয়েই আপনার ব্যাগ কোথায় আছে তা খুঁজে দেখা সম্ভব।
অনেক বিমান সংস্থা আন্তর্জাতিক লাগেজ অনুসন্ধান ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত থাকে। যেমন এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ট্রেসার নামের একটি লাগেজ অনুসন্ধান ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের গতিবিধি খুঁজে বের করা যায় এবং কোন বিমানবন্দর বা কোন ফ্লাইটে সেটি রয়েছে তা জানা সম্ভব হয়।
সাধারণত যাত্রা শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা পর থেকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে লাগেজের অবস্থান সম্পর্কে ধাপে ধাপে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। এই সময়ের মধ্যে ব্যাগ কোথায় স্ক্যান হয়েছে বা কোথায় পৌঁছেছে তার খবর আপডেট হতে থাকে। এছাড়াও এখন অনেক যাত্রী নিজেদের ব্যাগের ভেতরে ছোট ট্র্যাকিং ডিভাইস ব্যবহার করেন। এই ধরনের ডিভাইসের মাধ্যমে মোবাইলের সাহায্যে ব্যাগের অবস্থান জানা যায়। অনেক সময় সেই অবস্থান তথ্য বিমান সংস্থার সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া যায়, যাতে তারা দ্রুত ব্যাগটি খুঁজে বের করতে পারে। অর্থাৎ, আজকের প্রযুক্তির যুগে লাগেজ হারিয়ে গেলে সেটিকে খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গেছে। সঠিক নম্বর, সঠিক ব্যবস্থা এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সাহায্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হারিয়ে যাওয়া লাগেজ আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়।
লাগেজ হারিয়ে গেলে কী করবেন? (Lost Luggage Tracking at Airport)
বিমানবন্দরের ব্যাগ সংগ্রহের নির্দিষ্ট জায়গায় যদি আপনার ব্যাগ না পান, তাহলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে বিমান সংস্থার ব্যাগেজ পরিষেবা ডেস্কে যান। সেখানেই আপনাকে জানাতে হবে যে আপনার লাগেজটি পাওয়া যায়নি। এরপর সেখানে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে। এই অভিযোগ নথিকে বলা হয় প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট, সংক্ষেপে পিআইআর। এই পিআইআর নথিভুক্ত করার মাধ্যমেই আপনার হারিয়ে যাওয়া লাগেজ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়। রিপোর্ট করার সময় আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে। যেমন—আপনার বোর্ডিং পাস, ব্যাগের ট্যাগ নম্বর এবং ব্যাগের সম্পূর্ণ বিবরণ। ব্যাগটি কেমন ছিল, তার রং কী ছিল, আকার কতটা ছিল, কী ধরনের ব্যাগ ছিল—এই সমস্ত তথ্য যত পরিষ্কারভাবে দেবেন, খোঁজ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
রিপোর্ট করার পরে আপনাকে একটি পিআইআর নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটি অবশ্যই লিখে রাখুন এবং সম্ভব হলে তার একটি ছবি তুলে রাখুন। এই নম্বর ব্যবহার করেই পরে আপনি অনলাইনে আপনার লাগেজের অবস্থান বা খোঁজের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন। অর্থাৎ ব্যাগটি কোথায় আছে বা খোঁজার প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, সেই তথ্য ধাপে ধাপে জানা সম্ভব হবে। সঠিক সময়ে অভিযোগ জানানো এবং সঠিক তথ্য দেওয়া থাকলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হারিয়ে যাওয়া লাগেজ আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়।
গুগলের মাধ্যমে আপনি কীভাবে লাগেজ ফিরে পাবেন?
প্রথমে আপনাকে গুগলে গিয়ে আপনার বিমান সংস্থার নামের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ট্রেসার লিখে খুঁজতে হবে। সাধারণত বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাই এই লাগেজ অনুসন্ধান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ওই পেজে গিয়ে আপনাকে আপনার পিআইআর নম্বর এবং নিজের নাম লিখে লাগেজের খোঁজ করতে হবে। পিআইআর নম্বরটি আপনি বিমানবন্দরের ব্যাগেজ পরিষেবা ডেস্কে অভিযোগ জানানোর সময় পেয়েছিলেন। এই নম্বর ব্যবহার করেই সিস্টেমে আপনার হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের অবস্থান অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়। এছাড়াও কিছু বিমান সংস্থার ক্ষেত্রে বুকিং রেফারেন্স নম্বর বা ব্যাগের ট্যাগ নম্বর ব্যবহার করেও লাগেজের অবস্থান জানা যায়। যেমন এয়ার ইন্ডিয়া-র মতো বিমান সংস্থাগুলিতে এই পদ্ধতিতে সহজেই ব্যাগ ট্র্যাক করা যায়। আরও একটি আধুনিক উপায় হল গুগলের ফাইন্ড হাব সুবিধা ব্যবহার করা। যদি আপনার ব্যাগের মধ্যে কোনো ট্র্যাকিং যন্ত্র থাকে, তাহলে সেই যন্ত্রের অবস্থান থেকে একটি বিশেষ সংযোগ তৈরি করা যায়। সেই সংযোগটি আপনি বিমান সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন।
এইভাবে অবস্থানের তথ্য শেয়ার করলে বিমান সংস্থার কর্মীরা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন ব্যাগটি কোথায় রয়েছে এবং সেটি উদ্ধার করার কাজও দ্রুত এগিয়ে যায়।
এয়ার ইন্ডিয়া, তুর্কিশ বিমান সংস্থা সহ বিশ্বের আরও অনেক বড় বিমান সংস্থা এখন এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া লাগেজ খুঁজে বের করার কাজে সহায়তা করছে। অর্থাৎ, এখন গুগলের সাহায্যে এবং আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া লাগেজ খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গেছে। সঠিক নম্বর ও তথ্য ব্যবহার করলেই আপনি খুব দ্রুত আপনার ব্যাগের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন।
PIR ফাইল করার পর লাগেজ না পেলে কী করবেন?
পিআইআর নথিভুক্ত করার পরেও যদি আপনার লাগেজ না পাওয়া যায়, তাহলে কী করবেন—এটাও জানা খুব জরুরি। কারণ সঠিক নিয়ম মেনে পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হয়। পিআইআর নথিভুক্ত করার পর নিয়মিতভাবে আপনার লাগেজের অবস্থান খোঁজ করতে থাকুন। পিআইআর নম্বর ব্যবহার করে বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে লাগেজের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বিমান সংস্থার ক্ষেত্রে অথবা বৈশ্বিক লাগেজ অনুসন্ধান ব্যবস্থা ওয়ার্ল্ড ট্রেসারের মাধ্যমে প্রতিদিন আপডেট দেখা সম্ভব। আপনি প্রতিদিন সেই পেজে গিয়ে খোঁজ করুন। যদি কোনো নতুন তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে বিমান সংস্থার কল সেন্টারে ফোন করে বিষয়টি জানানো উচিত। এতে তারা বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
যদি একুশ দিনের মধ্যেও লাগেজ না পাওয়া যায়, তাহলে আপনাকে একটি লিখিত দাবি জমা দিতে হবে। এই দাবিতে আপনাকে বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে যে ব্যাগের মধ্যে কী কী জিনিস ছিল। সম্ভব হলে সেই জিনিসগুলির ছবি, বিবরণ এবং কেনার রসিদও জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আপনার পিআইআর নম্বর, বোর্ডিং পাসের কপি, ব্যাগের ট্যাগ নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যও যুক্ত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—যদি ব্যাগটি পাওয়া যায় কিন্তু সেটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকে, তাহলে সেই ক্ষতির জন্য আলাদা করে দাবি করতে হয়। সাধারণত ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাত দিনের মধ্যে দাবি জানাতে হয়। আর লাগেজ সম্পূর্ণ হারিয়ে গেলে একুশ দিনের পর সেটিকে হারিয়ে যাওয়া লাগেজ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই ক্ষেত্রে যাত্রীরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। ভারতে অনেক সময় বিমান সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী প্রায় কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে, যদিও সেটি নির্ভর করে ব্যাগের ভেতরের জিনিসপত্র ও পরিস্থিতির উপর।যদি বিমান সংস্থা বিষয়টি মেনে না নেয়, তাহলে যাত্রীরা আরও আইনি পথ অবলম্বন করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো যায়। এছাড়া ভোক্তা আদালতেও অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব।
অভিযোগ করার সময় অবশ্যই আপনার সমস্ত প্রমাণ জমা দিতে হবে—যেমন পিআইআর নম্বরের কপি, বোর্ডিং পাস, ব্যাগের ট্যাগ, হারিয়ে যাওয়া জিনিসের বিবরণ এবং কেনার রসিদ। এই সমস্ত নথি জমা দিলে আপনার দাবি প্রমাণ করা সহজ হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীরা তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকেন।
লাগেজে কোন ধরনের জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা ভালো
ছোট একটি ট্র্যাকিং যন্ত্র আপনার হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ খুব দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। এখন বাজারে কয়েকটি জনপ্রিয় এবং কার্যকর ট্র্যাকার রয়েছে, যেগুলো ভ্রমণের সময় লাগেজে ব্যবহার করা যায়।
সবচেয়ে পরিচিত ট্র্যাকারগুলোর মধ্যে একটি হল অ্যাপেলের এয়ারট্যাগ। অনেক ভ্রমণকারী এই ট্র্যাকার ব্যবহার করেন, কারণ এটি আকারে খুবই ছোট এবং ব্যাটারির স্থায়িত্বও অনেক বেশি। সাধারণত একটি ব্যাটারি প্রায় এক বছর পর্যন্ত চলতে পারে। এই ট্র্যাকারটি মূলত অ্যাপেল ফোনের সঙ্গে খুব সহজে কাজ করে। তাই যারা আইফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে সুবিধাজনক। ব্লুটুথ প্রযুক্তির সাহায্যে এটি খুব নির্ভুলভাবে অবস্থান দেখাতে পারে এবং বিমানবন্দর বা ভিড়ের জায়গায় লাগেজ খুঁজে পেতে বেশ কার্যকর।
এছাড়াও আরেকটি ভালো বিকল্প হল HOCO স্মার্টট্যাগ। এই ধরনের ট্র্যাকার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ জনপ্রিয়। এটি ব্যবহার করাও সহজ এবং লাগেজ বা চাবির মতো ছোট জিনিসে লাগিয়ে রাখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এটি আইফোনের সঙ্গেও সীমিতভাবে ব্যবহার করা যায়, তাই যারা ভিন্ন ধরনের ফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্যও এটি একটি সুবিধাজনক বিকল্প। এই ধরনের ট্র্যাকারগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—এগুলো খুব ছোট, সহজে ব্যাগের ভেতরে রাখা যায় এবং মোবাইলের মাধ্যমে যেকোনো সময় অবস্থান দেখা সম্ভব হয়। তাই দীর্ঘ ভ্রমণ বা আন্তর্জাতিক যাত্রার সময় অনেকেই এখন লাগেজের ভেতরে এই ধরনের ট্র্যাকিং যন্ত্র ব্যবহার করেন।
অর্থাৎ, ভ্রমণের সময় লাগেজের নিরাপত্তা বাড়াতে অ্যাপেলের এয়ারট্যাগ বা স্মার্টট্যাগের মতো ট্র্যাকার ব্যবহার করা একটি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে ব্যাগ হারিয়ে গেলেও তার অবস্থান খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে লাগেজ ট্র্যাক করার ব্যবস্থা সাধারণত দেশের ভেতরের উড়ানের তুলনায় আরও সুসংগঠিত ও সহজ হয়। এর একটি বড় কারণ হল আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে বেশিরভাগ বিমান সংস্থা একটি বৈশ্বিক লাগেজ অনুসন্ধান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে, যাকে ওয়ার্ল্ড ট্রেসার বলা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা যায় এবং হারিয়ে যাওয়া লাগেজ দ্রুত খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।
আন্তর্জাতিক যাত্রার সময় লাগেজের অবস্থান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে নথিভুক্ত করা হয়। সাধারণত চারটি মূল ট্র্যাকিং ধাপ থাকে। প্রথম ধাপ হল চেক-ইন, যখন যাত্রী বিমানবন্দরে ব্যাগ জমা দেন এবং ব্যাগে একটি বিশেষ বারকোড ট্যাগ লাগানো হয়। দ্বিতীয় ধাপ হল বিমানে লোড করার সময়, যখন ব্যাগটি বিমানে তোলা হয়। তৃতীয় ধাপ হল ট্রান্সফার বা সংযোগ উড়ানের সময়, যদি যাত্রীর মাঝপথে অন্য বিমানে উঠতে হয়। আর শেষ ধাপ হল চূড়ান্ত ডেলিভারি, অর্থাৎ গন্তব্য বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্টে ব্যাগ পৌঁছে দেওয়া।
এই প্রতিটি ধাপেই ব্যাগের ট্যাগ বারকোড স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করা হয়। ফলে প্রতিটি স্ক্যানের সঙ্গে সঙ্গে লাগেজের অবস্থান সিস্টেমে নথিভুক্ত হয় এবং বাস্তব সময়ে অবস্থানের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক যাত্রায় যখন একাধিক বিমান সংস্থা বা সংযোগ উড়ান থাকে, তখন এই ধরনের বহু সংস্থা-সমন্বিত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বড় বিমান সংস্থাগুলিও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। সাধারণত যাত্রা শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে থেকে শুরু করে চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগেজের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন আপডেট পাওয়া যায়। আরেকটি সুবিধা হল আন্তর্জাতিক যাত্রায় পিআইআর, অর্থাৎ প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্টের তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা অনেক সহজ। যদি কোনো বিমানবন্দরে ব্যাগ না পাওয়া যায়, তাহলে সেই পিআইআর নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর একসঙ্গে অনুসন্ধান চালাতে পারে।
তাই এবার থেকে লাগেজ হারিয়ে গেলেও অযথা দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই (Lost Luggage Tracking at Airport)। আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কারণে বিমানবন্দরে খুব সহজেই হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের অবস্থান খুঁজে বের করা সম্ভব। সঠিকভাবে পিআইআর নথিভুক্ত করা, নিয়মিত ট্র্যাকিং করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার মতো ধাপগুলো অনুসরণ করলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লাগেজ দ্রুত ফিরে পাওয়া যায়। অর্থাৎ সচেতনভাবে এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলে হারিয়ে যাওয়া লাগেজ খুঁজে পেতে আর তেমন কোনো অসুবিধাই হবে না।
#LostLuggageTracking #AirportLostLuggage #LostBaggage #AirportTravelTips #BaggageTracking #TravelSafety #AirlineTravel #AirportGuide #TravelProblems #WorldTracer #AirportBaggage #TravelHelp #FlightTravelTips #LuggageTracking #AirportTravelGuide
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ঘরশত্রু বিভীষণ কি ইরানের সংকটের কারণ হল? আমেরিকা কোন বিশেষ বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে?
- বই পড়লে কি মন শান্ত হয়? জানুন, স্ট্রেস কমাতে কীভাবে এই বিশেষ থেরাপি কাজ করে
- গোলাপি মণীশ মলহোত্রা শাড়িতে নজর কাড়লেন সারা তেন্ডুলকর! অর্জুন-সানিয়ার রাজকীয় বিয়েতে চাঁদের হাট, জানুন অন্দরমহলের অজানা গল্প
- কে এই নতুন রাজ্যপাল আর. এন. রবি? জানুন তাঁকে নিয়ে তামিলনাড়ুর সমস্ত বিতর্ক ও যাবতীয় তথ্য
- কেন পদত্যাগ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের? কারণ জানলে চমকে উঠবেন!

