Mamata Banerjee on Abhishek Banerjee: দলবদল, রাজনৈতিক চাপ এবং একের পর এক বিতর্কের আবহে Mamata Banerjee on Abhishek Banerjee নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে ঘিরে সমস্ত জল্পনার মাঝেই কর্মীদের উদ্দেশে জানালেন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: একুশে জুলাইকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে বিরোধী কর্মী-সমর্থক এবং প্রতিবাদীদের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলায় জড়ানো, সভা-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া—এই সবকিছুর মধ্যেও তৃণমূলের লড়াই থামবে না বলেই তিনি দাবি করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গত দু’মাসে বাংলার সংস্কৃতি, সম্প্রীতি এবং মহিলাদের নিরাপত্তার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের উপরও নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের কর্মীদের সভা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাই যাঁরা এলাকায় সভা করতে পারছেন না, তাঁদের জন্য নিজের দলীয় কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই কার্যালয় থেকেই একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের পথচলা শুরু হয়েছিল। ছাত্রজীবন থেকে সাংসদ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন সেখান থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। তাই প্রয়োজনে আবারও সেখান থেকেই সংগঠনকে শক্তিশালী করবেন বলে জানান।
মমতা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের একাংশ রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সদস্য এবং কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেককে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আর না মানলে জেল বা তদন্তের ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের অনেক কর্মী আজ জেলে। কেউ ভয় দেখিয়ে দল ছাড়াতে চাইছে। কিন্তু আদর্শ, মূল্যবোধ এবং বিবেক বিক্রি করে আমি কখনও রাজনীতি করিনি, ভবিষ্যতেও করব না।”
দলের ভেতরে যারা সুযোগ নিয়ে পরে দল ছেড়েছেন, তাঁদের নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মানুষের ভোটে জিতে কেউ যদি পরে অন্য শিবিরে চলে যান, তার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে তিনি দুঃখপ্রকাশ করছেন। একইসঙ্গে দাবি করেন, যাঁরা আজও তৃণমূলের পতাকার নিচে রয়েছেন, তাঁরাই দলের প্রকৃত শক্তি।
মমতা আরও বলেন, “একজন চলে গেলে তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে না। একজনকে নিয়ে গেলে আমরা লক্ষ কর্মী তৈরি করব। মানুষের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাও এদিনের বক্তব্যে তুলে আনেন তিনি। নিহতের পরিবারের পাশে থাকার দাবি করে বলেন, প্রতিবাদ কখনও থামানো যায় না। যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁদের কণ্ঠস্বরও বন্ধ করা যাবে না।
এদিন একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানের কথাও ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি না পেলেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২১ জুলাই সকাল প্রায় ১১টা থেকে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সেখানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দল ছেড়ে একের পর এক নেতার অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘটনায় যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিলেন দলীয় কর্মীদের। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে যে সমালোচনা এবং নানা অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, তারও জবাব দেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অনেকেই আজ দল ছাড়ার কারণ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে আনছেন। কিন্তু যাঁরা আজ নানা অভিযোগ করছেন, তাঁদের অনেকেই অতীতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং সুযোগ-সুবিধাও পেয়েছেন। এখন ব্যক্তিগত বা আইনি চাপে দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য অভিষেককে দায়ী করা ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, “যদি কারও মনে হয়ে থাকে অভিষেক কোনও ভুল করেছে, তবুও আজ সে বাঘের মতো লড়াই করছে। আগামী দিনের রাজনীতি ওরাই করবে। আগামী পঞ্চাশ বছর এই প্রজন্মই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
সভানেত্রীর দাবি, বর্তমানে বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি চাপ দেখিয়ে বহু নেতা-কর্মীকে দলবদলের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে, পরিবারের সদস্যদেরও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু যাঁরা সমস্ত চাপ উপেক্ষা করে এখনও দলের পাশে রয়েছেন, তাঁরাই প্রকৃত সংগ্রামী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অতীতেও তৃণমূল কংগ্রেস কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৭ সালে দল গঠনের পর থেকে ২০০৪ সালে তিনি কার্যত একা হয়ে পড়েছিলেন। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের হাতে ছিল মাত্র ৩০টি আসন। তবুও সেই কঠিন সময় পেরিয়ে তৃণমূল আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিও সাময়িক বলেই তাঁর বিশ্বাস।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখন অনেকেই রাজনৈতিক চাপ এড়াতে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “যাঁরা আজ অন্য শিবিরে গিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন, তাঁদের নিয়ে মানুষের বিচারই শেষ কথা বলবে। কিন্তু যারা লড়াই করে দলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে, ভবিষ্যৎ তারাই গড়বে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে চলা বিতর্ক প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, দলের তরুণ নেতৃত্বের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি মনে করেন, আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নতুন প্রজন্মের নেতারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভয় দেখিয়ে রাজনীতি চিরদিন চলে না। মানুষই শেষ কথা বলবে। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়েই আমরা আবারও লড়াই চালিয়ে যাব।”
#MamataBanerjee #AbhishekBanerjee #TMC #WestBengalPolitics #BengalNews #PoliticalNews #IndiaPolitics #BreakingNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

