Mamata Banerjee Ramlila Maidan Speech: ‘বাংলার এক কোটিরও বেশি ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে’—অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দিল্লিতে বিরোধী জোটের সমাবেশ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন তিনি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ‘আমরা মানুষের ভোটে হারিনি, আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ রবিবার, ১ নভেম্বর, দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশ থেকে এই অভিযোগ তুলে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বিজেপিকে একযোগে নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রভাবিত করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের ডাকে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে মমতার বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল ভোটাধিকার, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছেন। তবে সেই কারণে তাঁর দল মাথা নত করবে না।
সমাবেশ থেকে মমতার ঘোষণা, ‘বাংলা এই এসআইআর প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছে। তবুও আমরা কখনও মাথা নত করব না। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য আমরা প্রাণ দিতেও প্রস্তুত, লড়াইও চালিয়ে যাব।’
তাঁর বক্তব্যে যেমন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে, তেমনই পুলিশ, তদন্তকারী সংস্থা এবং বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবিও জানানো হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
‘এক কোটিরও বেশি ভোট বাদ দিয়েছেন’, জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা মমতার
রামলীলা ময়দানের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলায় এক কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মমতা বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারজি, আপনারা শুধু ভোটারদের নামই উধাও করেননি, গোটা ভোট গণনার প্রক্রিয়াটাকেই উধাও করে দিয়েছেন। এক কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছেন।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের ভোটে হারিনি, আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমরা গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পথেই লড়াই চালিয়ে যাব।’
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট গণনা, নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তোলেন।
তাঁর বক্তব্য, ‘আপনারা কী লুঠ করেননি? ইভিএম লুঠ করেছেন, গণতন্ত্র লুঠ করেছেন, সংবিধান লুঠ করেছেন, মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, এমনকী ভোট গণনার প্রক্রিয়াটাও লুঠ করেছেন।’
তবে মমতার এই বক্তব্যগুলি রাজনৈতিক অভিযোগ। বাংলায় এক কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ার দাবি কিংবা ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়াও প্রদত্ত বক্তব্যে নেই।
‘ভ্যানিশ ভ্যানিশ? হ্যাঁ পাপা!’ ছড়ার ছন্দে বিজেপি ও কমিশনকে কটাক্ষ
গুরুতর রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি রামলীলা ময়দানের মঞ্চ থেকে ব্যঙ্গের সুরেও বিজেপি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এবার আমি জ্ঞানেশ কুমারজ্বীকে প্রশ্ন করছি, আপনি কবে উধাও হবেন? আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছি।’
এরপর ছড়ার ছন্দে তিনি বলেন—
‘ভ্যানিশ ভ্যানিশ? হ্যাঁ পাপা! ভোট চুরি? হ্যাঁ পাপা! গণতন্ত্র চুরি? হ্যাঁ পাপা! এর পিছনে কে? বিজেপি পাপা!’
এই ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে নিজের অভিযোগ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগানকেও কটাক্ষ করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘একসময় আপনারা বলেছিলেন, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। আর আজ মানুষ বলছে, বিজেপির সঙ্গ, সবার সর্বনাশ!’
তাঁর অভিযোগ, মানুষের চাকরি, রুজি-রোজগার, সম্পত্তি এবং সম্মানের উপর আঘাত এসেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকেও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
মমতার বক্তব্যে উঠে আসে মন্দির, সরকারি সম্পদ এবং সরকারি কোষাগার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের জবাব প্রদত্ত বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাকে সতর্কবার্তা, বিচারব্যবস্থার কাছেও আবেদন
নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির সমালোচনার পাশাপাশি পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আইন মেনে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মমতা বলেন, ‘আমি পুলিশ ও সমস্ত তদন্তকারী সংস্থাকে বলতে চাই, আপনারা বিজেপির হয়ে কাজ করবেন না। মনে রাখবেন, কোনও সরকারই চিরকাল ক্ষমতায় থাকে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। বিজেপির হাতের পুতুল হবেন না, রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবেন না।’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁকে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হচ্ছে এবং ঘরবন্দি করে রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ধরনের চাপের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না বলেও জানান।
এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘ওরা আমাকে ঘরবন্দি করে রাখতে চায়। কিন্তু আমি ভয় পাই না। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের জন্য আমি আমার আওয়াজ তুলে যাব।’
বিচারব্যবস্থার কাছেও আবেদন জানান মমতা। তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থাকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার আহ্বানও জানান তিনি।
‘বিজেপি হটাও!’ তরুণ প্রজন্মকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ডাক
রামলীলা ময়দানের বক্তব্যের শেষ অংশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সমাবেশে উপস্থিত সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, ফারুক আবদুল্লা, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী, তরুণ প্রজন্ম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও অভিনন্দন জানান।
মমতা বলেন, ‘আমি জেন জি, ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ, সিজেপি এবং সমস্ত গণতান্ত্রিক সংগঠনকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আবেদন জানাচ্ছি। এই আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘আপনারা নেতৃত্ব দিন। আমরা আপনাদের পথ দেখাব, সাহায্য করব, আমাদের পরামর্শ দেব। কিন্তু ভবিষ্যৎ আপনাদের হাতেই।’
গণতন্ত্রের প্রশ্নে ধর্ম, জাতপাত বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভেদ না করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাসী প্রত্যেক মানুষের এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর লড়াই গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পথেই চলবে।
মমতা বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস হতে দেব না। আমরা গণতন্ত্রকে বাঁচাব, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনব। গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পথেই আমাদের লড়াই চলবে।’বক্তব্যের শেষে ‘বিজেপি হটাও’ স্লোগানও তোলেন তিনি।
রামলীলা ময়দানের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মূল সুর ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিজেপির রাজনৈতিক সমালোচনা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা রক্ষার দাবি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

