এক মরণফাঁদ / A fast food trap?
বিশ্বের সবচেয়ে স্থূলকায় শহর ম্যাকঅ্যালেনের বাস্তব গল্প শুনুন (McAllen world’s most obese city)। ১০,০০০ ক্যালোরির খাদ্যতালিকা থেকে শুরু করে বিছানায় আবদ্ধ জীবন— ফাস্টফুড কিভাবে মানুষের জীবনে সংকট ডেকে আনতে পারে তার নেপথ্যের কাহিনী জানুন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: টেক্সাসের এক শহর ম্যাকঅ্যালেন, যা আজ বিশ্বের ‘সবচেয়ে মোটা শহর’ বা ‘Most Obese City’ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছে। এখানকার প্রতি দু’জনের মধ্যে একজন স্থূলতার শিকার। শহরের অলিগলি যেন এক একটি ‘ফাস্ট ফুড করিডোর’। গাড়ি নিয়ে বেরোলে প্রতি দু-মিনিটে আপনার চোখে পড়বে একটি করে নামী-দামী ফাস্ট ফুড চেইন। এই শহরটি যেন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে মানুষ সুস্থ থাকার বদলে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন : -71 ডিগ্রিতেও কীভাবে চলে জীবন? বিশ্বের শীতলতম গ্রাম ওউমিয়াকন
খাবারের নামে ক্যালরির পাহাড় (McAllen world’s most obese city)
ম্যাকঅ্যালেনের মানুষের খাদ্যাভ্যাস যে কোনো সুস্থ মানুষকে আতঙ্কিত করবে। এখানকার এক বেলা খাবারের গড় ক্যালরি প্রায় ২,২০০-এর কাছাকাছি, যা একজন মানুষের সারাদিনের প্রয়োজনীয় শক্তির সমান। এখানকার মানুষ জলের বদলে বছরে শত শত লিটার কোল্ড ড্রিঙ্কস পান করেন। দিন শুরু হয় ৩৯০ ক্যালরির কফি দিয়ে, যা আসলে কফি নয় বরং এক গ্লাস মিষ্টি সিরাপ। ব্রেকফাস্টে থাকে বাটার আর সিরাপে ডোবানো চকোলেট প্যানকেক, যার ক্যালরি ১,২০০ ছাড়িয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়, ব্রেকফাস্টের ঠিক দু-ঘণ্টা পরই চলে ৫০০ ক্যালরির কুকিজ বা আইসক্রিম মেশানো ওরিও শেক।
গাড়িনির্ভর জীবন আর চলচ্ছক্তিহীন মানুষ
শহরটির পরিকাঠামো এমন যে এখানে হাঁটাচলা করা কার্যত অসম্ভব। কোনো ফুটপাত নেই, সাইকেল লেন নেই, নেই কোনো ছায়াযুক্ত রাস্তা। মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য পুরোপুরি গাড়ির ওপর নির্ভরশীল। ব্যায়াম করার অভ্যাস এখানকার মানুষের মধ্যে নেই বললেই চলে। বড় বড় শপিং মলগুলোতে ঢোকার মুখেই রাখা থাকে ইলেকট্রিক স্কুটার, যাতে মানুষকে একটুও হাঁটতে না হয়। অলসতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দোকানের ভেতর ১০ কদম হাঁটতেও এখানকার মানুষ হাঁপিয়ে ওঠেন।
দারিদ্র্য ও বিজ্ঞাপনের রাজনীতি (McAllen world’s most obese city)
ম্যাকঅ্যালেনের বাসিন্দাদের গড় আয় আমেরিকার জাতীয় আয়ের চেয়ে ৩০% কম। স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন ফলমূলের দাম এখানে ফাস্ট ফুড বার্গারের চেয়ে অনেক বেশি। যেখানে ১২ ডলারে পেটভর্তি ফাস্ট ফুড পাওয়া যায়, সেখানে স্রেফ কয়েক টুকরো ফলের দাম পড়ে ১৬ ডলার। ফলে সস্তায় পেট ভরাতে সাধারণ মানুষ জাঙ্ক ফুডের দিকেই ঝোঁকেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চটকদার বিজ্ঞাপন। শিশুদের লক্ষ্য করে এমন সব অফার দেওয়া হয় যা শৈশব থেকেই তাঁদের অস্বাস্থ্যকর খাবারের নেশা ধরিয়ে দেয়। গবেষকদের মতে, ছোটবেলায় তৈরি হওয়া ফ্যাট সেলগুলো স্থায়ী হয় এবং সারাজীবন মস্তিষ্ককে ক্ষুধার সংকেত পাঠাতে থাকে।
এক জ্যান্ত লাশের কাহিনি (McAllen world’s most obese city)
এই রিপোর্টে আমরা দেখা পেয়েছি এমন একজনের, যার ওজন একসময় ছিল ৭৬৫ পাউন্ড (প্রায় ৩৪৭ কেজি)। অতিরিক্ত ওজনের কারণে তিনি আজ নিজের ঘরেই বন্দি। বিছানা ছেড়ে ওঠার ক্ষমতা তাঁর নেই। শ্বাস নিতে নিতে ব্যবহার করতে হয় অক্সিজেন মেশিন। ড্রাগ আসক্তি ছাড়ার পর খাবারের নেশা তাঁকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে তিনি দিনে ১০,০০০ ক্যালরি পর্যন্ত খেয়ে ফেলতেন (McAllen world’s most obese city)। এখন তাঁর জীবন কাটে বিছানায় শুয়ে আর একগাদা ওষুধ খেয়ে। স্বাধীনতার আসল মানে তিনি আজ বুঝতে পারছেন যখন তাঁর স্বাধীনতা স্রেফ একটি বিছানার চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ।
ম্যাকঅ্যালেন শহরটি আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক সতর্কবার্তা। এটি প্রমাণ করে যে শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, সঠিক নগর পরিকল্পনা এবং সুলভ পুষ্টিকর খাবার না থাকলে একটি জনপদ কীভাবে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra

