Nandigram By Election: ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে হাসিরানি রথের নাম।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। এই আসনে হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে দল। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী। ভোটের ফল প্রকাশের পর ৬ মে ২০২৬ সালে কলকাতার কাছাকাছি মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এবার সেই চন্দ্রনাথ রথের মাকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রার্থী করে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বিজেপি। রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী সাখারব সরকার।
নন্দীগ্রাম এমনিতেই রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনেও শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হন। তবে দুটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। এবার সেই খালি আসনে হাসিরানি রথকে সামনে এনে বিজেপি কী রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে, তা নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের সঙ্গে নন্দীগ্রামের নতুন রাজনৈতিক যোগ
হাসিরানি রথের পরিচয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে রয়েছে তাঁর ছেলে চন্দ্রনাথ রথের নাম। চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ভোটের ফল প্রকাশের পর ৬ মে ২০২৬ সালে কলকাতার কাছাকাছি মধ্যমগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার তদন্ত বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তাঁর পরিবারের কাউকে প্রার্থী করা হতে পারে, এমন জল্পনাও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিজেপি যে সিদ্ধান্ত নিল, তা অনেকের কাছেই নতুন বলে মনে হয়েছে। দলটি চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকেই প্রার্থী করেছে।
এর ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক আবেগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও ভোটের ফল কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে মাত্র, সামনে রয়েছে প্রচার, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভোটারদের সিদ্ধান্ত।
কেন নন্দীগ্রাম এত গুরুত্বপূর্ণ?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নন্দীগ্রামের গুরুত্ব নতুন করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। সেই লড়াই রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনেও শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে জয় পান।
এবার সেই আসনেই উপনির্বাচন হচ্ছে। কারণ শুভেন্দু অধিকারী দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপির পক্ষ থেকে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ ছিল। হাসিরানি রথের নাম সামনে আসার পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে।
নন্দীগ্রামকে বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেই দেখা হয়। এই কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সেই জায়গায় হাসিরানি রথকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের মধ্যে পারিবারিক পরিচয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক আবেগ—দুই দিকই সামনে এসেছে।
তবে উপনির্বাচনের লড়াইয়ে শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বা কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার আবেগ প্রার্থীর পক্ষে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে প্রচার এবং ভোটারদের মনোভাবের উপর।
হাসিরানি রথের সামনে এবার বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা
হাসিরানি রথকে প্রার্থী করার ফলে নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ও উঠে আসতে পারে। তিনি কোনও দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবে এই নির্বাচনে সামনে আসছেন না। বরং প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হিসেবেই তাঁর পরিচিতি বেশি আলোচিত হচ্ছে। বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পর সেই পরিচয়ই স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
নন্দীগ্রামের মতো উচ্চপ্রোফাইল কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়া তাই হাসিরানি রথের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। তাঁর সামনে এখন ভোটারদের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরা, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা এবং দলের সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব।
এই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর মহম্মদ এতেশামুল হক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর সঞ্চিতা প্রধান। ফলে নন্দীগ্রামে একাধিক রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে হাসিরানি রথের প্রার্থীপদকে শুধুমাত্র একটি আসনের প্রার্থী বদল হিসেবে দেখলে ছবির পুরোটা ধরা পড়বে না। নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই আসনের সম্পর্ক এবং চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের পরিচয়—সব মিলিয়ে এই উপনির্বাচনকে ঘিরে আগ্রহ বাড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
শুধু নন্দীগ্রাম নয়, আরও একটি আসনেও প্রার্থী ঘোষণা
নন্দীগ্রামের পাশাপাশি আরও একটি খালি বিধানসভা আসন রেজিনগরেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। সেখানে শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। মূল বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর থেকে হুমায়ূন কবীর জয়ী হয়েছিলেন। দুটি আসনে জয় পাওয়ার পর তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে সেখানেও উপনির্বাচন হচ্ছে।
রেজিনগর কেন্দ্রে বিজেপির আগে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং হুমায়ূন কবীরের দলও প্রার্থী ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবি উল আলম। হুমায়ূন কবীর তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করেছেন এবং কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল।
অর্থাৎ একই সময়ে দুটি খালি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করল বিজেপি। তবে নন্দীগ্রামের গুরুত্ব আলাদা। কারণ এই আসনের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক পরিচয় ও ২০২১ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনী লড়াইয়ের সম্পর্ক রয়েছে। সেই আসনেই এবার তাঁর প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারীর মা হাসিরানি রথকে সামনে এনেছে দল।
নন্দীগ্রামের ভোটে এবার নজর হাসিরানি রথের দিকে
প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের সমীকরণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া আসন, অন্যদিকে তাঁর প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে বিজেপির প্রার্থী করা—এই দুই তথ্য একসঙ্গে নন্দীগ্রামের ভোটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
#nandigrambyelection #hasiranirath #bjpcandidate #nandigramelection #suvenduadhikari #chandranathrath #westbengalpolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

