Nepal Flood Viral Video: নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বানকে কেন্দ্র করে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে ছড়িয়েছিল আবেগঘন দাবি। কিন্তু সত্যিটা সামনে আসতেই বদলে গেল পুরো ছবিটা। ভিডিওটির আসল উৎস কোথায়, কীভাবে ভুল তথ্য ছড়াল এবং বাস্তব নেপালের বিপর্যয়ের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা, জানুন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের ছবি-ভিডিও যখন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন একটি ভিডিও বিশেষভাবে মানুষের নজর কেড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ছোট ছেলে পিঠে করে একটি শিশুকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়, বন্যার ভয়াবহতার মধ্যে ছোট ভাই তার বোনকে নিয়ে নিখোঁজ বাবা-মাকে খুঁজছে। দৃশ্যটি দেখে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের ভাই-বোনের কাহিনির সঙ্গেও তুলনা করা হয়।
কিন্তু এই গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—ভাইরাল ভিডিওটি নেপালের বন্যার নয়। অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ভিডিওটি আসলে ভিয়েতনামের হা জিয়াং অঞ্চলে করা হয়েছিল। ভিডিওটির নির্মাতা নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফলে আবেগঘন হলেও নেপালের বন্যায় বাবা-মাকে খুঁজতে থাকা ভাই-বোন হিসেবে ভিডিওটিকে প্রচার করা সঠিক নয়।
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে কী দাবি ছড়ায়?
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট ছেলে আরেক শিশুকে পিঠে বহন করছে। ভিডিওটির সঙ্গে নেপালের ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি জুড়ে দিয়ে দাবি করা হয়, বাবা-মা নিখোঁজ হওয়ার পর ভাই তার ছোট বোনকে নিয়ে তাঁদের খুঁজছে।
ভিডিওটির আবেগঘন দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় এটিকে নেপালের বন্যার বাস্তব দৃশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। এমনকি ভাই-বোনের সম্পর্ক এবং বিপদের মধ্যে বড় ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে গভীর আবেগ তৈরি হয়।
তবে পরে তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার কোনও সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ ভিডিওটি সত্যি হলেও তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ঘটনাটি সত্যি নয়।
আসলে কোথায় করা হয়েছিল ভিডিওটি?
তথ্য যাচাইয়ে জানা গিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওটি নেপালে নয়, ভিয়েতনামের হা জিয়াং অঞ্চলে করা হয়েছিল। ভিডিওটির নির্মাতা ডিজিটাল বিষয়বস্তু নির্মাতা থিয়েন জুয়েন। তিনি জানিয়েছেন, ওই ভিডিও ভিয়েতনামের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল।
হা জিয়াং ভিয়েতনামের একটি দুর্গম পার্বত্য এলাকা। সেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন এবং পাহাড়ি গ্রামগুলির জীবনযাত্রার নানা দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই উঠে আসে। সেই ধরনের একটি ভিডিওর পুরনো প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে সেটিকে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
তাহলে কি নেপালের বন্যায় এমন শিশুদের ঘটনা ঘটেনি?
এখানেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাল ভিডিওটি নেপালের না হলেও, নেপালের ভয়াবহ বন্যায় শিশুদের এমনই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার বাস্তব ঘটনা রয়েছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নেপালের নুওয়াকোট জেলার ১৩ বছরের কিশোরী সোনিকা নাগারকোটির কথা উঠে এসেছে। বন্যার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তিনি তাঁর তিন বছরের ছোট ভাই সাজানকে নিয়ে নিরাপদ জায়গার দিকে ছুটেছিলেন। তাঁদের বাড়ি বন্যার জলে ভেসে যায়। সোনিকা জানিয়েছেন, সেই সময় তিনি জানতেন না তাঁর বাবা-মা কোথায় এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছিলেন না।
অর্থাৎ, ভাইরাল ভিডিওটির দাবি ভুল হলেও নেপালের বিপর্যয়ের মানবিক চিত্র যে অত্যন্ত ভয়াবহ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
বাস্তব নেপালে শিশুদের উপর ভয়াবহ প্রভাব
২৬ আগস্ট নেপালের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যার পর বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। নুওয়াকোট, রাসুয়া এবং ধাদিংসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই বন্যায় অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ১৮টি স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ২০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার স্কুলপড়ুয়া শিশুর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
সোনিকার পরিবারের অভিজ্ঞতাও সেই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বোঝায়। বন্যার জল ও ধসের মধ্যে কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁদের বাড়ি এবং গ্রামের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনও রকমে উঁচু জায়গায় গিয়ে প্রাণ বাঁচান। পরে একটি স্কুলে আশ্রয় নিতে হয় তাঁদের।
শুধু বাড়িঘর নয়, রাস্তা, সেতু, বাজার, স্কুল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু পরিবার এমন জায়গায় আটকে পড়েছে, যেখানে পৌঁছনোই উদ্ধারকারীদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
আবেগঘন ভিডিও কেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে?
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে মানুষের আবেগকে স্পর্শ করা ছবি বা ভিডিও খুব দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়া, উদ্ধার এবং বেঁচে থাকার মতো দৃশ্য দর্শকদের তীব্রভাবে প্রভাবিত করে।
#nepalflood #viralvideo #nepalfloods #factcheck #nepalnews #newsoffbeat
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

