পিঠে, পায়েস, মিষ্টি— এই খাবারগুলোর লোভ সংবরণ করা যায় না। শীতকাল। নলেন গুড়ের সন্দেশ বাঙালির প্রিয়। ডায়াবেটিক রোগীরা কি নলেন গুড় (Nolen Gur for Diabetics) খেতে পারবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শীত এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে নলেন গুড়ের ঘ্রাণ—পাটিসাপটা, পায়েস, সন্দেশ কিংবা পিঠে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের মনে তখন একটাই প্রশ্ন—‘আমি কি একটু নলেন গুড় খেতে পারব?’ অনেকেই মনে করেন, চিনির চেয়ে গুড় বেশি স্বাস্থ্যকর, তাই ডায়াবেটিস থাকলেও অল্প পরিমাণে খাওয়া যায়। কিন্তু সত্যিই কি তাই? এই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গুড়ের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (Nolen Gur Glycemic Index), এর পুষ্টিগুণ, এবং ডায়াবেটিস রোগীরা কীভাবে ও কতটা নিরাপদে এটি গ্রহণ করতে পারেন।
আরও পড়ুন : মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
নলেন গুড় কীভাবে তৈরি হয় — প্রাকৃতিক হলেও কি সবসময় নিরাপদ?
নলেন গুড় আসে খেজুর গাছের রস থেকে। শীতের সকালে সেই রস জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়, তৈরি হয় খাঁটি নলেন গুড়। এতে কোনো প্রিজারভেটিভ বা রাসায়নিক মিষ্টি থাকে না—তাই অনেকেই একে প্রাকৃতিক মিষ্টি মনে করেন। তবে প্রাকৃতিক মানেই কিন্তু ডায়াবেটিসের জন্য নিরাপদ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০ গ্রাম নলেন গুড়ে প্রায় ৮০–৮৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে, যার মধ্যে বেশিরভাগই সুক্রোজ (Sucrose), অর্থাৎ সাধারণ চিনির মতোই রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়।
চিনির সাথে গুড়ের পার্থক্য কোথায়? (Nolen Gur Glycemic Index)
গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স হলো এমন একটি মাপকাঠি যা জানায় কোনো খাবার রক্তে গ্লুকোজ কত দ্রুত বাড়ায়।
- সাদা চিনি গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স প্রায় ৬৫–৭০,
- খেজুর গুড় বা নলেন গুড় গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স ৫৫–৬০।
এর মানে, এটি চিনির তুলনায় রক্তে গ্লুকোজ ধীরে বাড়ায়, কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
নলেন গুড়ে কী ভালো, কী ক্ষতিকর?
নলেন গুড়ের উপকারিতা:
- এতে সামান্য পরিমাণে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি থাকে।
- এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস, যা হজমে সহায়তা করে।
- পরিশোধিত চিনির তুলনায় কম প্রক্রিয়াজাত।
ক্ষতি:
- এতে ক্যালোরি অনেক বেশি (প্রায় ৩৮০ ক্যালোরি প্রতি ১০০ গ্রাম)।
- অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
- অনেক সময় বাজারে বিক্রি হওয়া “নলেন গুড়” আসলে মিশ্রিত বা চিনি-যুক্ত জাল পণ্য—যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক।
ডায়াবেটিস রোগীরা কতটা নলেন গুড় খেতে পারেন? (Nolen Gur for Diabetics)
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে —
যদি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং চিকিৎসক অনুমতি দেন, তবে সপ্তাহে ১–২ বার, সর্বোচ্চ ১–২ চা চামচ (১০–১৫ গ্রাম) নলেন গুড় খাওয়া যেতে পারে। গুড় খাওয়ার সময় অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট যেমন ভাত, রুটি বা ফলের পরিমাণ কমাতে হবে। নলেন গুড় অবশ্যই খাঁটি ও অর্গানিক হতে হবে, বাজারের তৈরি মিশ্রিত গুড় নয়।
যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই বা যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন, তাদের জন্য নলেন গুড় সম্পূর্ণ এড়ানোই ভালো।
যাদের রক্তে শর্করা স্থিতিশীল, তারা অল্প পরিমাণে বিশেষ দিনে খেতে পারেন। সবচেয়ে জরুরি হলো— চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং “প্রাকৃতিক” শব্দে বিভ্রান্ত না হওয়া।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই

