PM Kisan Registration West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে বছরে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা মিলতে পারে। তবে আবেদন করার আগে জেনে নেওয়া জরুরি কারা যোগ্য, কারা আবেদন করতে পারবেন না এবং কীভাবে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পিএম-কিষান সম্মান নিধি (PM Kisan Samman Nidhi) প্রকল্পের আওতায় দেশের কোটি কোটি কৃষক বছরে ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পান। তবে এখনও বহু কৃষক আবেদন করার সময় বিভিন্ন ভুল তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হওয়ার সমস্যায় পড়েন। আবার অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, কারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন এবং কারা আবেদন করার যোগ্য নন। সম্প্রতি নতুন করে আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় এই নিয়মগুলি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত বেশিরভাগ শর্তই নতুন নয়, বহু বছর ধরেই কার্যকর রয়েছে। আবেদন করার আগে তাই সম্পূর্ণ নিয়ম জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারকেশ্বর সফরে এসে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সেই সময় পিএম-কিষান প্রকল্প নিয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বক্তব্য রাখেন। এরপর থেকেই রাজ্যের বহু কৃষকের মধ্যে এই প্রকল্পে আবেদন ও সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ বেড়েছে।
কী এই পিএম-কিষান সম্মান নিধি প্রকল্প? (PM Kisan Registration West Bengal)
কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকদের বছরে মোট ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই অর্থ তিনটি সমান কিস্তিতে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। অর্থাৎ বছরে তিনবার ২ হাজার টাকা করে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
কারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন? (PM Kisan Registration West Bengal)
পিএম-কিষান প্রকল্পে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং কৃষক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। আবেদনকারীর নামে কৃষিজমির বৈধ সরকারি রেকর্ড থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু জমির দলিল থাকলেই হবে না, জমির খতিয়ান বা সরকারি রেকর্ডে আবেদনকারীর নাম থাকতে হবে।
একটি পরিবার থেকে একজনই আবেদন করতে পারবেন
পিএম-কিষান প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হল একটি পরিবার থেকে একজন সদস্যই এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। এখানে পরিবার বলতে বাবা, মা এবং অবিবাহিত ছেলে-মেয়েকে একসঙ্গে ধরা হয়। ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে জমি থাকলেও প্রত্যেকে আলাদা করে আবেদন করতে পারবেন না। পরিবারের যেকোনও একজন সদস্য এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই অনুদানের টাকা পাঠানো হবে।
জমির বৈধ রেকর্ড থাকা বাধ্যতামূলক
এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর নামে কৃষিজমির সরকারি রেকর্ড থাকতে হবে। শুধু জমির দলিল থাকলেই আবেদন করা যাবে না। জমির কম্পিউটারাইজড খতিয়ান, পর্চা বা সরকারি রেকর্ডে আবেদনকারীর নাম থাকা বাধ্যতামূলক। কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত জমির মালিকানা প্রমাণ করতে না পারলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী কিছু শ্রেণির মানুষ পিএম-কিষান প্রকল্পের আওতায় পড়েন না। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা এই সুবিধা পান না। একইভাবে মাসিক ১০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান এমন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া আয়করদাতা পরিবার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মতো পেশাদার ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের আওতার বাইরে।
অন্যদিকে যেসব জমি কৃষিকাজের পরিবর্তে ব্যবসা, দোকান বা অন্য কোনও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই জমির মালিকরাও পিএম-কিষানের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন না।
২০১৯ সালের জমির রেকর্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পিএম-কিষান প্রকল্পে (PM Kisan Registration West Bengal) আবেদন করার ক্ষেত্রে ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। যাঁদের নামে ওই তারিখের আগে জমির রেকর্ড রয়েছে, তাঁরা সাধারণ নিয়মে আবেদন করতে পারেন। তবে ওই তারিখের পরে জমির মালিকানা পরিবর্তন হলে বিশেষ ক্ষেত্রে আবেদন করা সম্ভব।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও কৃষক তাঁর বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পান এবং তাঁর বাবা আগে পিএম-কিষানের সুবিধাভোগী হয়ে থাকেন, তাহলে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে নতুন করে আবেদন করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্ত নথি সঠিকভাবে জমা দিতে হবে।
কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন? (PM Kisan Registration West Bengal)
পিএম-কিষান প্রকল্পে আবেদন (PM Kisan Registration West Bengal) সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায়। আবেদনকারীকে প্রথমে সরকারি পোর্টালে গিয়ে ‘New Farmer Registration’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং রাজ্যের নাম দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
মোবাইলে আসা ওটিপি যাচাই করার পর আবেদনকারীকে জমির তথ্য, জেলা, ব্লক, গ্রাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে আধার অথেন্টিকেশন করা হয়।
কোন কোন নথি প্রস্তুত রাখতে হবে?
আবেদন করার সময় আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং জমির বৈধ রেকর্ড প্রস্তুত রাখতে হবে। জমির খতিয়ান বা পর্চার স্ক্যান কপি আপলোড করতে হতে পারে। সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পর আবেদনকারী একটি রেজিস্ট্রেশন রসিদ বা অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর পাবেন, যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।
আবেদন করার আগে এই বিষয়গুলি মাথায় রাখুন
অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ নথি জমা দেওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েন। তাই আবেদন করার আগে আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং জমির রেকর্ডে থাকা তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। একবার আবেদন হয়ে গেলে নতুন করে আবেদন করা যায় না, শুধুমাত্র তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকে। ফলে প্রথমবারেই সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পিএম-কিষান প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে যোগ্যতার শর্তগুলি ভালোভাবে বুঝে আবেদন করা প্রয়োজন। সঠিক নথি ও তথ্য থাকলে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা তুলনামূলকভাবে সহজ।
#PMKisan #PMKisanRegistration #WestBengalFarmers #FarmerScheme #AgricultureNews #GovernmentScheme #FarmersBenefit #RuralIndia #PMKisanSammanNidhi #IndianFarmers
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

