PM Modi Facebook Video Removal: প্রধানমন্ত্রীর যুবসমাজকে উদ্দেশ করে দেওয়া একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মেটার শীর্ষ কর্তাকে তলব করেছে সরকার বলে সূত্রের দাবি। মেটার পক্ষ থেকে ভুলবশত ভিডিও সরানোর কথা জানিয়ে পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুবসমাজকে উদ্দেশ করে প্রকাশ করা একটি ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রীর ওই ভিডিওটি কিছু সময়ের জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সীমিত হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে মেটার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এমনকি মেটার বিশ্বব্যাপী জননীতি বিভাগের শীর্ষ কর্তাকে তলব করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মেটার পক্ষ থেকে ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। পরে সেটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত ভুলের ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সরকারি বার্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে যখন ওই ভিডিওতে দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের উদ্দেশে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, তখন সেটি সাময়িকভাবে সীমিত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এখন নজর রয়েছে, সরকারের সঙ্গে মেটার আলোচনার পর এই ঘটনায় আর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কোনও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।
কী ঘটেছিল প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও নিয়ে?
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছিলেন। সেই বার্তায় তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর সমস্যা নিয়ে কথা বলেন এবং এই ধরনের ঘটনার কারণে ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবার যে উদ্বেগের মধ্যে পড়েন, সে বিষয়টিও তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে জানা যায়, ভিডিওটি কিছু সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে স্বাভাবিকভাবে দৃশ্যমান ছিল না। অর্থাৎ, ভিডিওটির প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনাটি সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। কারণ ভিডিওটি কোনও সাধারণ প্রচারমূলক বিষয়বস্তু ছিল না। সেখানে দেশের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বক্তব্য ছিল এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল।
ফলে ভিডিওটি কেন সীমিত করা হল, সেটি কি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটেছিল—এই প্রশ্ন সামনে আসে।
এরপরই সরকারের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা শুরু হয় বলে সূত্রের দাবি। মেটার দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্তাকে ডেকে ভিডিওটি সাময়িকভাবে সীমিত হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সরকারের তলব ঘিরে বাড়ল জল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার বিশ্বব্যাপী জননীতি বিভাগের শীর্ষ কর্তাকে তলব করেছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা রাজনৈতিক বার্তা হঠাৎ করে সীমিত হয়ে গেলে তার কারণ জানার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া স্বাভাবিক। তবে প্রধানমন্ত্রীর মতো দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যের ক্ষেত্রে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে না এলেও, ভিডিওটি কেন সীমিত করা হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ভিডিওটি কি কোনও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুল করে সীমিত করা হয়েছিল, নাকি কোনও ব্যবহারকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিংবা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত কারণে ভিডিওটি সাময়িকভাবে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতেই সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মেটার বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মেটার ব্যাখ্যা, ভুলের কারণেই ভিডিও সরানো হয়েছিল
ঘটনার পর মেটার পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, তাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওটি সীমিত করার পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। এটি কোনও পরিকল্পিত সিদ্ধান্তও ছিল না। বরং কোনও ধরনের অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ভিডিওটি সাময়িকভাবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সীমিত হয়ে পড়েছিল।
এই ব্যাখ্যার পর ভিডিওটি পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বক্তব্য কখনও কখনও কয়েক ঘণ্টার জন্যও সীমিত হয়ে গেলে তার প্রভাব যথেষ্ট বড় হতে পারে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে জনসংযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ—সকলেই নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে এই মাধ্যম ব্যবহার করেন।
তাই কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হলেও, সেই ভুল কীভাবে ঘটল এবং ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
প্রীতি গান্ধীর বক্তব্যে প্রকাশ্যে এল বিতর্ক
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সাময়িকভাবে সীমিত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে প্রথমে জোরালোভাবে সামনে আসে বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধীর বক্তব্যের পর।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সরাসরি দেশের যুবসমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন, তখন সেই বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথে কোনও বাধা তৈরি হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, দেশের কোটি কোটি মানুষ কী দেখতে পারবেন এবং কী দেখতে পারবেন না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থার হাতে কতটা থাকা উচিত।
প্রীতি গান্ধীর বক্তব্যে আরও উঠে আসে রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং স্বচ্ছতার প্রশ্ন। তাঁর মতে, বিষয়টি কেবল একটি ভিডিও সরানো বা সীমিত করার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের নীতি এবং সেই নীতির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে মেটার পক্ষ থেকে ভিডিওটি ভুলবশত সরানো হয়েছিল বলে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তার ফলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার মুখে পড়েছে। এখন মূল প্রশ্ন হল, ঘটনাটি সত্যিই প্রযুক্তিগত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল রোধে সংস্থাটি কী ব্যবস্থা নেবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী?
যে ভিডিওটি নিয়ে এত বিতর্ক, তার বিষয়বস্তুও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রধানমন্ত্রী ওই বার্তায় দেশের ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছিলেন।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা যে ছাত্রছাত্রীদের জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, সেই বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এই সমস্যাকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন।
একজন শিক্ষার্থী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটলে সেই শিক্ষার্থীর পরিশ্রম, সময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেতে পারে।
এই কারণেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্যে ছাত্রছাত্রীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা ছিল যে, সরকার পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
এই বক্তব্যটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল, যখন পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ভিডিওবার্তাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কঠোর ব্যবস্থার বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা রুখতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে।
তিনি জানান, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথাও বলা হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকেই। কারণ কোনও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে তার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগে। সেই কারণে দ্রুত বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে সংসদে পেশ করার কথাও জানানো হয়েছিল।
এই ঘোষণার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের কাছে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যে, পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ নিয়ে কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী?
প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছিল। তিনি দাবি করেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যাতে প্রায় ২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।
একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা উচ্চশিক্ষা বা চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এক বছরের বিলম্ব ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে।
তাই শিক্ষাবর্ষ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের যুবসমাজের কল্যাণ এবং তাঁদের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই হতে পারে না। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল ছাত্রছাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা।
ভিডিও বিতর্কে এখন বড় প্রশ্ন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ঘটনাটি একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সরকারি বক্তব্য কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়?
বর্তমানে কোটি কোটি মানুষ সংবাদ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সরকারি ঘোষণা জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করেন। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য যদি হঠাৎ করে সীমিত হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে।
মেটার পক্ষ থেকে ভুলবশত ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত জানানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। কারণ কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য সীমিত করার সিদ্ধান্তকে সহজেই রাজনৈতিক পক্ষপাতের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে।
এই কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থাগুলির বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের নীতি কতটা স্বচ্ছ এবং কীভাবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা নিয়ে ভবিষ্যতেও আলোচনা চলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও পুনরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরে এসেছে। মেটার পক্ষ থেকে ভুলের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে মেটার শীর্ষ কর্তাকে তলব করার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিষয়টি প্রশাসনের কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে।
আগামী দিনে সরকারের সঙ্গে মেটার আলোচনায় এই ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর যুবসমাজকে উদ্দেশ করে দেওয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক শুধু একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিগত ভুল, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একদিকে মেটার দাবি, ভিডিওটি ভুলবশত সরানো হয়েছিল এবং পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের তরফে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মহল থেকেও প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়ে।
#PMModi #FacebookVideo #Meta #MetaSummoned #NarendraModi #SocialMedia #YouthMessage #Government #PaperLeak #Facebook #MetaIndia #NewsUpdate
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

